সন্ধ্যা ০৬:৪০ ; সোমবার ;  ২২ এপ্রিল, ২০১৯  

বিটিআরসি'র নির্দেশনা মানছে না মোবাইল অপারেটররা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

বাংলাদেশ টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (বিটিআরসি) থেকে ১২১ নম্বরে বিনামূল্যে গ্রাহক সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হলেও কোনও মোবাইল ফোন অপারেটরই তা মানছে না। তারা ১২১ নম্বরে গ্রাহকসেবা চালু রেখেছে। ১৫৮ নম্বরে বিনামূল্যে গ্রাহক সেবা দিলেও গ্রাহকরা সে ব্যাপারে জানে না।

দেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করাতে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হতে পারে বিটিআরসিকে। গত সপ্তাহে নেওয়া এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের উন্নত সেবার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নির্দেশিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে গ্রাহকগণ তাদের অধিকার বিষয়ে জানতে পারে। নির্দেশনাটি চূড়ান্ত করার আগে সব অপারেটরকে বিটিআরসির সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।

বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৩ জানুয়ারি আলোচনার জন্য একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে যেখানে ছয়টি অপারেটরের নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। গত বছর বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের তাদের সেবার মান উন্নত করার জন্য একটি নির্দেশিকা দিলেও তারা সেটি বাস্তবায়ন করেনি।

বিটিআরসি সচিব মো সারওয়ার আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'টেলিকম সেবার মান নিশ্চিত করতে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কমিশন। তিনি আরও বলেন, গ্রাহক তাদের অধিকার বিষয়ে জানতে পুস্তিকাটি পাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে টেলিকম পর্যবেক্ষকরা সবসময় নজরদারি করবেন।'

বিটিআরসি ২০০৯ সালে সেবা মানের ওপর নির্দেশিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছিলো। গত বছরের জানুয়ারি মাসে এ বিষয়ে কমিশনের এক সভায় মতামত গৃহীত হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিটিআরসির অপর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, কমিশনের কাছে অপারেটরদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বঞ্চিত করার বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এখন থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম প্রতিটি কলের পরপরই খুদে বার্তার মাধ্যমে খরচের পরিমাণ জানিয়ে দিতে হবে। এখন থেকে একই নিয়ম ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চালু করা হবে। এছাড়া ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে অপারেটরগুলো কোনও পূর্বানুমতি ছাড়াই বিভিন্ন অফার দিচ্ছে। তাই এখন থেকে সেগুলোর ওপরও আমরা নিয়মিত লক্ষ্য রাখছি।

সম্প্রতি বিটিআরসি অপারেটরগুলির বিভিন্ন বিজ্ঞাপন এবং সেগুলোর অফার নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা শুরু করেছে। সেগুলোর মধ্যে কোনগুলো অনুমতি নিয়ে দেওয়া হয়েছে সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সহজ অফারগুলোকে প্রাধান্য দেই। আমরা চাই বিজ্ঞাপনগুলো অফার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিবে এবং নতুন অফার পত্রিকায় প্রকাশের আগে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে।

গত বছরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেবার মান নিশ্চিতের লক্ষ্যে অন্তত ৭৫ শতাংশ কল সফল হতে হবে। চারটি কলের মধ্যে অন্তত তিনটি কলে সহজে সংযোগ পেতে হবে। এছাড়া ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে ঘোষিত গতির অন্তত ৮০ শতাংশ গতি সরবরাহ করতে হবে।

মান নিশ্চিতের পরিমাপক হিসেবে ১৩টি কর্মসূচক সম্বলিত একটি নির্দেশনা দিয়েছে বিটিআরসি। এরমধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে ভয়েস কলের মান বৃদ্ধি। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অভিযোগটিই করে থাকেন গ্রাহকেরা। এছাড়া নদী, রেলপথ এবং মহাসড়কে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে, কারণ প্রায়ই এসব জায়গায় গ্রাহকেরা ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন।

 

/এসএ/এমআর/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।