রাত ১১:১৫ ; শনিবার ;  ২০ এপ্রিল, ২০১৯  

চারুলতার গল্প

প্রকাশিত:

লিপটন কুমার দেব দাস।।

আজ চারুলতার গল্প শোনার পালা। না, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় গল্প ‘নষ্টনীড়’ অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘চারুলতা’র গল্প নয়। এ চারুলতা সুপ্ত সত্তায় প্রাণের সঞ্চারণ মন্ত্রে উজ্জীবিত। সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সেবায় এগিয়ে আসা একদল শিক্ষার্থীর অসাধারণ কৃতিত্বের গল্প।

‘চারুলতা’ একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমাজসেবামূলক সংগঠন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক উচ্ছ্বল স্বপ্নদর্শী তরুণের হাত ধরে ২০১১ সালের ৮ এপ্রিল সংগঠনটির যাত্রা।

ষোলশহরস্থ তুলাতলী বস্তির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় থমকে দাঁড়াতে হয়। শ’ খানেক ক্ষুদে শিক্ষার্থী সুরে সুরে পড়ছে। সবার মুখে খুশির ছোঁয়া স্পষ্ট। এটি ‘চারুলতা বিদ্যাপীঠ’। ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে যাত্রা শুরু করেছে বিদ্যাপীঠটি। শুরুর দিকে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী থাকলেও, আজ সে সংখ্যা বেড়ে ১০০ পার করেছে।

চারুলতা নিয়ে কথা হল সংগঠনটির অন্যতম সংগঠক রিফাতুল ইসলামের সাথে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন,  যদিও চারুলতার জন্ম হয় সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য নিয়ে, কিন্তু এ সংগঠনটি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে শিক্ষার আলো ব্যতিত মানব আত্মার মুক্তি সম্ভব নয়। এরই নিরীখে সমাজের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে জ্ঞান প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করার প্রয়াসেই আত্মপ্রকাশ করে চারুলতা বিদ্যাপীঠ। সংগঠনটি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ ও বিতরণ করে।

চারুলতার আরেক সংগঠক ইমদাদ হোসাইন জানালেন, আমরা এই বিদ্যাপীঠের পাশাপাশি অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধান, গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। মানুষের মানবেতর অবস্থা লাঘবের তাগিদে নানান সেবামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করা থেকে শুরু করে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ-পূজায় নতুন কাপড়চোপড়, শুকনা খাদ্যদ্রব্য বিতরণ, পিঠা উৎসবের মতো নানান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও চারুলতা ছুটে যায় দুর্যোগগ্রস্ত মানুষের কাছে। সর্বোপরি, সমাজের প্রতিটি স্তরে বিভিন্ন  সামাজিক উন্নয়নমূলক  কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অবদান রেখে আসছে।

চারুলতার প্রতিটি সদস্য অনুভব করে আত্মার দাবি, মানবতার আকুতি। এমনটিই বলছিলেন সুরাইয়া জাহান লিমা। তার ভাষায়, আর্তসেবার তাড়নায় আমরা ছুটে যাই অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে, এক টুকরো কাপড় দিয়ে, নাহয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে। যদি তাও নাহয় তবে শুধু অক্ষরের বুলি শিখিয়ে তাদের জীবনের না পাওয়াগুলো, কষ্টগুলো ভাগ করে নিই।

ছোট্ট কিছু স্বপ্ন, আর কয়েকটি তরুণ প্রাণের নির্লোভ নির্মোহ প্রচেষ্টা। এই প্রচেষ্টাতেই চারুলতা আজ বটবৃক্ষ হয়ে উঠেছে। সুপ্ত সত্তায় প্রাণের সঞ্চারণ ঘটিয়ে চলেছে নিরবধি। চারুকলার কার্যক্রম বেড়েই চলেছে।

চারুলতার কার্যক্রম

  • সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছানো।
  • সুবিধা বঞ্চিত বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ এবং বৃত্তি প্রদান।
  • দুঃস্থদের মাঝে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও শীত বস্ত্র প্রদান।
  • জাতীয় দিবসগুলো পরিচিতির লক্ষ্যে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয় প্রদান।
  • প্রাকৃতিক দূর্যোগে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে সহায়তা প্রদান।

চারুলতার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

  •  চারুলতা বিদ্যাপীঠ পূর্ণাঙ্গ অবৈতনিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর।
  •  চারুলতা  বিদ্যাপীঠ এর শিক্ষার্থীদের কর্মমূখী (ভোকেশনাল) শিক্ষার অধীনে এনে স্বাবলম্বী করণ।
  • সমাজের তুলনামূলক সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীতে, জেলে পল্লী, হিজড়া পল্লী, শিশু মেধা বিকাশ কেন্দ্র ও “চারুলতা বিদ্যাপীঠ” প্রতিষ্ঠাকরণ।
  • পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে (বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি) তে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা।
  • সমাজের সর্বস্তরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে চারুলতা পাঠাগার স্থাপন।
  • সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ঔষধপত্র তথা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও মোবাইল চিকিৎসা ক্যাম্প গঠন।
  • নারী ও শিশু নির্যাতন, শিশুশ্রম রোধকল্পে গণসচেতনতা সৃষ্টিকরণ।
  •  শিশু মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বীকরণ।
  • প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন ও প্রশিক্ষণ প্রদান, দুর্যোগ প্রবন অঞ্চলে ‘মোবাইল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ক্যাম্প’ স্থাপন ও এবং দুর্যোগগ্রস্তদের পুনর্বাসন।

চারুলতার ফেসবুক পেইজঃ https://www.facebook.com/Charulota.org

/এমবিআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।