সকাল ১১:৪৭ ; রবিবার ;  ২১ অক্টোবর, ২০১৮  

বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচতে শিশুটি ছুটে গেল শিক্ষকের বাসায়

প্রকাশিত:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি॥

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রানীখার গ্রামে স্কুল শিক্ষকের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩)।

গত শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম ও আখাউড়ার ইউএনও আহসান হাবিব সহযোগিতা করেছেন।

রাণীখার গ্রামের ইউপি সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, কয়েকদিন আগে রানীখার এস এ হান্নান মাধ্যমিক ও কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর বিয়ে ঠিক করা হয় মালয়েশিয়া প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে। কিন্তু মেয়েটি বিয়েতে রাজি ছিল না। কিন্তু অভিভাবকদের ইচ্ছায় বিয়ের আয়েঅজন চলতে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বরযাত্রী কনের বাড়ি পৌঁছালে মেয়েটি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর সহপাঠীদের সহযোগিতায় স্কুল শিক্ষক মুজিবুর রহমান ওরফে আজাদ মাস্টারের বাড়িতে আশ্রয় নেয় সে।

পরে শিক্ষক বিষয়টি মুঠোফোনে ইউএনও এবং পুলিশ সুপারকে জানালে তারা বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশকে মেয়েটির বাড়িতে পাঠায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বরপক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়।

ধরখার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান জানান, মেয়েটিকে শিক্ষকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের গণ্যমান্যদের নিয়ে তার অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এসময় মেয়েটির মা-বাবা উপস্থিত লোকজনের সামনে মেয়েকে অপ্রাপ্তবয়সে বিয়ে দিবেন না মর্মে মুচলেকা দেন।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, 'আমি প্রায়ই সচেতনতার লক্ষ্যে বাল্যবিয়ে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাশে আলোচনা করতাম। তাদেরকে বলতাম, কোনও মেয়েকে যদি অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় তাহলে এই তথ্যটি যেন তারা আমাকে জানায়। আর এ কারণেই মেয়েটি নিজেকে রক্ষা করতে আমার কাছে এসেছিলো।'

/এসএ/একে/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।