সকাল ১০:১৩ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

ফুলনগরীর ফুলকন্যাদের ব্যস্ত সময়

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ॥

ফুল ছাড়া কি প্রিয় মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছার কথা বলা যায়? ফুল ছাড়া নববর্ষের শুভ কামনা জানানো অসম্পূর্ণই থেকে যায়। হোক তা ইংরেজি নববর্ষ। বছরের প্রথম দিনে প্রিয় মানুষকে মূল্যবান কোনও উপহার দিতে না পারলেও একটি ফুল দিয়েই প্রকাশ করা যায় নতুন বছরের বার্তা।

নতুন বছরের জন্য বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে কাউন্টডাউন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ইংরেজি বছরের প্রথম দিন। আর শহুরে নাগরিকদের নববর্ষের অন্যতম অনুষঙ্গ ফুলের যোগান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ঝিনাইদহের 'ফুলনগরী' বলে পরিচিত কালিগঞ্জের ফুলকন্যারা।

প্রতিবছর যে কোনও উৎসব, বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষ, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ভালবাসা দিবসের মতো দিনগুলোতে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকে। আর এর সিংহভাগ ফুলের যোগান দিয়ে থাকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের এলাকার ফুলকন্যারাই।

সরেজিমনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠ চাষ করা হয়েছে গাঁদা, রজনীগন্ধ্যা, গোলাপ ও গ্লাডিওলাসহ নানা জাতের ফুল। এসব খেত থেকে ফুল সংগ্রহ ও মালা গাঁথা থেকে শুরু করে বিক্রি করা পর্যন্ত অধিকাংশ মেয়েরাই ব্যস্ত থাকে।

বালিয়াডাঙ্গার ফুলকন্যা আয়েশা বেগম ও জরিনা খাতুন বলেন, 'আমরা বছরের বারো মাসই ফুল তোলাও মালা গাঁথার কাজ করি। কিন্তু বিশেষ বিশেষ দিন সামনে রেখে কাজ একটু বেশি করতে হয়। আমাদের আয় উপার্জন ও বেশি হয়।'

তারা আরও জানায়, এখন ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে প্রতিদিন সকাল-বিকাল কাজ করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ফুল নিতে খেত মালিকদের বাড়ি বসে থাকছে। ফলে সব কিছু রেখে সারাদিন ফুল তুলছি।

প্রতি ঝোপা ফুল তুলে গেঁথে দিলে ফুল মালিক ১৫ টাকা করে দেয় তাদের। প্রতিদিন তারা ১৫ থেকে ২০ ঝোপা ফুল তুলতে পারেন বলে জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোশারফ হোসেন জানান, চলতি বছর কালীগঞ্জ উপজেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে (৬৪০ বিঘা) গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধ্যা গোলাপ, গাঁদাসহ নানা জাতের ফুল। সাইটবাড়িয়া, বেথুলী, রাখালগাছি, রঘুনাথপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ফুল চাষ করা হয়েছে ব্যাপক হারে। ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাধা ফুল চাষ হয় কালীগঞ্জে বালিয়াডাঙ্গা এলাকায়। এ কারণে সবাই এখন এই এলাকাকে ফুলনগরী বলেই চেনে।

বালিয়াডাঙ্গা বাজার ও কালীগঞ্জের বাস টার্মিনালে দেখা যায়, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শত শত কৃষক তাদের খেতের উৎপাদিত ফুল ভ্যান, স্কুটার ও ইঞ্জিন চালিত বিভিন্ন পরিবহনে নিয়ে আসছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস ষ্ট্যান্ড ভরে যায় লাল, সাদা আর হলুদ ফুলে।

একাধিক ফুলচাষীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চুক্তি মোতাবেক ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় শহরের ফুলের আড়তে পাঠানো হয়। এ সব স্থানের আড়তদারেরা বিক্রির পর তাদের কমিশন রেখে বাকি টাকা পাঠিয়ে দেন। ফলে ফুল চাষীদের টাকা খরচ করে ফুল বিক্রির জন্য কোথাও যাওয়া লাগে না। তারা মোবাইল বা ফোনালাপের মাধ্যমে বাজার দর ঠিকঠাক করে ফুল পাঠিয়ে থাকেন বলেও জানান অনেকে।

তবে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখলেও দ্রুত পচনশীল ফুল সংরক্ষণের জন্য কোনও হিমাগার নেই। ফলে অনেক সময় লোকসানে ফুল বিক্রি করতে হয়।

/এএ/এসটি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।