দুপুর ০২:০৯ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

টোফেল জিম্যাট জিআরই ও আইইএলটিএসের খুঁটিনাটি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

দেবশ্রী ভৌমিক।।

বিদেশে পড়ব। এই বাক্যটি হরহামেশা সবার মুখেই শোনা যায়। বিদেশে পড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে জিম্যাট, টোফেল, জিআরই ইত্যাদি। যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে চান তাদের জন্য জিম্যাট ও টোফেল দরকার।

গবেষণা হোক কিংবা ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস, আর্টস যে বিষয়ই হোক না কেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিগ্রির কদর পৃথিবীর সর্বত্র। আর তাই উন্নত প্রযুক্তির স্বাদ নিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই প্রথম প্রছন্দ যুক্তরাষ্ট্র। তার সাথে রয়েছে স্কলারশিপ ও পার্টটাইম চাকরির সুযোগ, যা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের আগ্রহও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু চাইলেই তো আর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়া যায় না। স্কলারশিপের জন্য একাডেমিক ফলাফলের পাশাপশি দরকার জিম্যাট এবং জিআরই-এ ভালো স্কোর করা দরকার। ব্যবসায় শিক্ষার জন্য জিম্যাট এবং অন্যান্য বিষয়ের জন্য জিআরই আবশ্যক।

টোফেল

টোফেল (টেস্ট অব ইংলিশ এজ এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ) হল বিদেশি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা। প্রাতিষ্ঠানিক ইংরেজি বোঝার ক্ষমতা এই পরীক্ষার মাধ্যমে নেয়া হয়। টোফেল পরীক্ষার ফলাফল ২ বছরের জন্য কার্যকর হয়।

২০০৫ সাল থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়া হয়। রিডিং, লিসেনিং, রাইটিং ও স্পিকিং– এই ৪টি বিভাগের উপর ৪ঘন্টার পরীক্ষা নেয়া হয়।

রিডিংয়ে সাধারণত ৩ থেকে ৫ টি প্যাসেজ থাকে। শব্দ এবং বাক্যস্থাপনসহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। মাঝে মধ্যে সামারিও দিতে হয়।

লিসেনিংয়ে মূল ভাবসহ জরুরি তথ্য আলোচনার ভেতরের চিন্তাধারা, কথাবলার ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ৬ টি প্যাসেজ থাকে যেখানে ২জন ছাত্রের কথোপকথনসহ কিছু আলোচনা শোনানো। এগুলো মাত্র একবারই শোনানো হয়। এই ক্ষেত্রে পরীক্ষার সময় হয় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট।

রাইটিংয়ে ৫৫ মিনিটের পরীক্ষা হয়। যেকোনও বিষয়ের উপর শুনে সেই বিষয়ের উপর সামারি লিখতে হবে। এ ছাড়া নিজস্ব মতামত দিয়েও ৩০০ থেকে ৪০০ শব্দের মধ্যে একটি রচনা লিখতে হবে।

স্পিকিংয়ে ৬টি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। না থেমে কথা বলে যেতে হবে এবং তাতে নিজের মতামত পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করতে হবে। পরীক্ষায় কমপক্ষে ১২০-এর মতো স্কোর পেতে হয়।

জিআরই

জিআরই (গ্র্যাজুয়েট রেকর্ডস এক্সামিনেশনস) হলো কম্পিউটার অ্যাডাপটিভ পরীক্ষা অর্থাৎ কম্পিউটারে বসেই পরীক্ষা দিতে হয়। ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে মোট ৬টি বিভাগে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রতি বিভাগের পর এক মিনিট বিরতি দেওয়া হয়। পরীক্ষায় দুটি ভারবাল রিজনিং, দুটি কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং, একটি পরীক্ষামূলক বা গবেষণামূলক এবং একটি লিখিত অংশ থাকে।

কম্পিউটারের মাধ্যমেই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। লিখিত অংশে ইস্যু টাস্ক ও আর্গুমেন্ট টাস্কের উপর রচনা লিখতে হয়। ইস্যু টাস্কে কোনও বিষয়ে এক‌‌‌টি বা দুটি অনুচ্ছেদ দেয়া হয়। অনুচ্ছেদটির বিষয়ে পরীক্ষার্থীর সহমত বা ভিন্নমত যা-ই থাকুক না কেন নিজের যুক্তিসহ তা তুলে ধরতে হয়।

আর্গুমেন্ট টাস্কেও একটি বক্তব্য তুলে দেয়া হয়। পরীক্ষার্থীকে যুক্তি দিয়ে বলতে হয় কী কী বিষয় ধরে নিয়ে বক্তব্যটি উপস্থাপন করা হয়েছে। আপনাকে যুক্তি দিয়ে বলতে হবে এই বক্তব্যে কী কী বিষয় ধরে নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে জিআরই প্রস্তুতিবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থেকে প্রশ্নের ধরন দেখে নেয়া যেতে পারে।

ভারবাল রিজনিং অংশে ত্রিশ মিনিটে ২০টি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। চারটি বা পাঁচটি উত্তর থেকে শিক্ষার্থীকে সঠিক উত্তরটি বেছে নিতে হবে। কোনও প্রশ্নের একাধিক উত্তরও হতে পারে। সেক্ষেত্রে দুটি উত্তরই উল্লেখ করতে হবে।

কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়েও ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। সময় ৩৫ মিনিট। এ অংশে সাধারণ গাণিতিক হিসাব, বীজগণিত, জ্যামিতির নানা প্রশ্ন থাকে।

এছাড়াও গবেষণা বা পরীক্ষামূলক অংশটি সাধারণত ভারবাল বা কোয়ান্টিটেটিভ হয়। এর স্কোর মূল পরীক্ষায় যোগ করা হয় না। তবে পরীক্ষার্থীদের জানানো হয় না কোনটি গবেষণা বা পরীক্ষামূলক অংশ। সুতরাং সব অংশেই সমান মনোযোগ দিতে হবে। ভারবাল ও কোয়ান্টিটেটিভ দুটি অংশেই ১৩০ থেকে ১৭০-এর মধ্যে স্কোর দেওয়া হয়।

জিম্যাট

জিম্যাটে (গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট) মোট ৩ ঘন্টা ত্রিশ মিনিটের পরীক্ষা নেয়া হয়। এরমধ্যে অ্যানালাইটিক্যাল রাইটিং ৩০ মিনিট, ইন্টিগ্রেটেড রিজনিং ৩০ মিনিট, কোয়ান্টিটেটিভ ৭৫ মিনিট এবং ভারবাল ৭৫ মিনিট।

অ্যানালাইটিক্যাল অংশে ৩০মিনিটে একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এখানে একটি বক্তব্য দেয়া থাকে পরীক্ষার্থীকে যা বিশ্লেষণ করতে হয়। ১ থেকে ৬-এর মধ্যে নম্বর দেয়া হয়।

ইন্টিগ্রেটেড রিজনিংয়ে গ্রাফিকস, টেক্সট, চার্ট ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এতে ১২টি প্রশ্ন থাকে।

কোয়ান্টিটেটিভ অংশে সাধারণ গণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি থেকে ৩৭টি প্রশ্ন থাকে।

ভারবাল অংশে রিডিং কমপ্রিহেনশন, বক্তব্য বিশ্লেষণ ইত্যাদি থেকে ৩৭টি প্রশ্ন থাকে।

আইইএলটিএস

আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) পরীক্ষা দুই ধরনের। যেমন: একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিষয়ে পড়াশোনার জন্য একাডেমিক মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়। কারিগরি বিষয়, প্রশিক্ষণ বা ইমিগ্রেশনের জন্য জেনারেল ট্রেনিং মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়।

আইইএলটিএস পরীক্ষায় দুই ধরনের মডিউলেই চারটি অংশ থাকে। লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং।

লিসেনিং অংশে কথা শুনে বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। লিসেনিংয়ে ৪০টি প্রশ্ন থাকে। ৩০ মিনিটের মধ্যে উত্তর দিতে হয়। পরীক্ষার্থীকে কোনও একটি বিষয়ে বক্তৃতা, কথোপকথন ইত্যাদি শোনানো হয়। শোনা অংশ থেকেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। একটি বিষয় একবারই শোনানো হয়। ফলে খুব সতর্কতার সঙ্গে শুনতে হয়।

পরীক্ষার্থীর ইংরেজি লেখার দক্ষতা যাচাই করা হয় রাইটিং অংশে। এক ঘণ্টার মধ্যে এ অংশের উত্তর দিতে হয়। একাডেমিক বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ডায়াগ্রাম দেখে নিজের কথায় উত্তর লিখতে হয়, আর জেনারেল বিভাগের পরীক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধ লিখতে হয়।

রিডিংয়ের ৩টি বিভাগ থেকে মোট ৪০টি প্রশ্ন থাকে। ১ ঘন্টার মধ্যে ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। নানা জার্নাল, বই, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন থেকে কিছু অংশ তুলে দেয়া হয়। এসব থেকে বাক্য পূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর, সঠিক উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

স্পিকিং অংশে মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ মিনিটের পরীক্ষা হয়। পরীক্ষার্থীকে প্রথমে পরিবার-পরিজন, পড়াশোনা, বন্ধু-বান্ধব, ইত্যাদি সম্পর্কে সাধারণ কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয়। এরপর একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষার্থীকে প্রায় ২ মিনিট কথা বলতে হয়। সবশেষে পরীক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট কোনও বিষয় নিয়ে পরীক্ষকের সঙ্গে ৪-৫ মিনিট কথোপকথন চালাতে হয়। ৯-এর স্কেলে আইইএলটিএসের স্কোর দেয়া হয়। চারটি অংশের প্রতি‌‌‌টি থেকে প্রাপ্ত স্কোর যোগ গড় স্কোরকে চূড়ান্ত করা হয়।

যোগাযোগ

টোফেল, জিআরই এবং জিম্যাট সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমেরিকান সেন্টার এবং আইইএলটিএস সম্পর্কিত তথ্যের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলে যোগাযোগ করতে হবে।

এমবিআর

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।