রাত ০৪:৫০ ; রবিবার ;  ২১ জানুয়ারি, ২০১৮  

এক দশকে আবাদ বন্ধ হয়েছে ২৬ লাখ একর জমিতে

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

দেশে চাষাবাদের জন্য জমির পরিমাণ ক্রমাগত কমছে। গত ১১ বছরে ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ একর জমি কৃষি খাত থেকে অকৃষি খাতে পরিবর্তিত হয়েছে।

এদিকে গত এক দশকে গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৯ একর জলাশয় ভরাট হয়েছে এবং এসব জলাশয়ের ভরাটকৃত জমিও কৃষির পরিবর্তে অকৃষি খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজধানীতে বুধবার আয়োজিত এক সেমিনারে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর ‘সিরডাপ’ মিলনায়তনে ‘বাণিজ্যিক ব্যবহারে কৃষিজমি হ্রাস এবং ক্ষুদ্র চাষী ও গ্রামীণ দরিদ্র-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভলপমেন্ট’ (এএল আর ডি) এ সেমিনারের আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড.আবুল বারকাত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

২০০৩ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত মোট ১১ বছরে কৃষি খাত থেকে জমি বাড়ি তৈরীসহ অন্যখাতে পরিবর্তিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ড. বারকাত তার প্রবন্ধে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।

উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে, আইন তৈরি করে সেই আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাক চাষ নিষিদ্ধ এবং তামাক চাষে বহুজাতিক কোম্পানির প্রণোদনা বন্ধ, তামাকের ওপর উচ্চ শুল্ক নির্ধারণ এবং কৃষি জমির বাণিজ্যকরণ বন্ধ করা।

এ এল আর ডি’র চেয়ারপার্সন ও এনজিও 'নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবিরের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আবও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও শিরীন আখতার, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, পরিবেশবিদ এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এডভোকেট লুৎফর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা ক্ষুদ্র চাষী ও গ্রামীণ দরিদ্র-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তায় প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাস জমি বরাদ্দ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, কৃষি জমির বাণিজ্যক ব্যবহার হ্রাসের পাশাপাশি চাষীদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। খবর বাসসের।

/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।