রাত ০১:৪৩ ; শুক্রবার ;  ২১ জুন, ২০১৯  

ক্যাম্পাস যেন বিয়েবাড়ি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

লিপটন কুমার দেব দাস।।

এটি কি সেই চিরচেনা ক্যাম্পাস নাকি বিয়েবাড়ি? অটোরিকশা থেকে নেমে খটকা লাগল। ঢাক আর শাঁখের বাজনায় পুরো এলাকা প্রকম্পিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে ঢোকার পরও ভ্রম কাটছিল না। গেট দিয়ে ঢুকে সামনেই বড় একটা প্যান্ডেল। প্যান্ডেলটি সাজানো হয়েছে সুনিপুণ শৈল্পিক ছোঁয়ায়। আর ডানদিকে বাজছে ঢোল।

সেদিকে এগিয়ে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম ব্যাপারটা। তখনো জানতাম না সেখানে আমার জন্য কী চমক অপেক্ষা করছে। একটু এগুতেই যেন স্বপ্নের পিঠা রাজ্যে প্রবেশ করলাম। চারদিকে হাজার রকমের পিঠা থরে থরে সাজানো। পছন্দের পিঠাটা ইচ্ছা হলেই মুখে তুলে চেখে দেখার সুযোগ।

চারুকলার শিক্ষার্থীদের আয়োজনে চলছে পৌষ পার্বণ এবং পিঠা উৎসব। চারুকলার শিক্ষার্থীদের তৈরি পিঠা যখন একটি একটি করে মুখে নিচ্ছিলাম, স্বাদের বন্যায় ভেসে যাওয়ার মতো অবস্থা।

পিঠার নামগুলো যেমন সুন্দর উপস্থাপনাও তেমনি সুন্দর। স্টলের নাম থেকে শুরু করে পিঠার নাম। সবকিছুতেই শৈল্পিকতার ছোঁয়ার যেন আলতো স্পর্শ রয়ে গেছে।

পিঠা উৎসবে প্রথম পিঠা স্টলের নাম কাঠপেন্সিল। ৪৯ ব্যাচের এই স্টলে পিঠার অভাব নেই। নকশী পিঠা, পাটি সাপটা, ভাপা পিঠা, জালার ধানের পিঠা, চালের নাড়ু, সাইন্না পিঠা, তালের পিঠা, গোলাপ পিঠা, ছিটা পিঠা, ফোসকা পিঠা, চিতুই, ক্ষীরপুলি, হলা পিদে, বিনি হগা, সান্নে পিদেসহ আরও কত বৈচিত্র্যময় নামের পিঠা।

একটি স্টলে দাঁড়িয়ে পিঠা খাচ্ছিলেন নাঈমা নাসরীন। তিনি বললেন, আমি হলা পিদে, বিনি হগা, সান্নে পিদে খাচ্ছি। এগুলো উপজাতিদের ঐতিহ্য। আমি এই প্রথম এই পিঠা খাচ্ছি। খুবই ভালো লাগছে। নতুন কিছু খাওয়ার মজাই আলাদা, আর তা যদি হয় পিঠা, তাহলে তো কথায় নেই।

এরপর একে একে ঘুরে দেখলাম রূপসীপুর পিঠা স্টল, ভাপাপিঠা, সংশপ্তক, পানখিলি পিঠা আর পিঠা বিতান নামের পিঠা স্টলে। পিঠা তৈরির কারিগরদের যেন কারো সাথে কথা বলারই সময় নেই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস থেকে পিঠা উৎসবে এসেছেন একদল শিক্ষার্থী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিমি দূরের এই চারুকলায় তারা এসেছেন শুধু পিঠার টানে। কথা হল পিনাক, অরিন, শুভ, শাম্মা, উপমা, সাইফুল আর মিমের সাথে।

মুখে পিঠা আর উচ্ছলতা কোনটিরই অভাব ছিল না তাদের মধ্যে। পিঠা উৎসবের প্রায় সব পিঠাই খেয়েছেন তারা। বললেন এমন উৎসব প্রতি মাসে একবার হলে মন্দ হয় না।

পিঠার রাজ্য থেকে যখন ফিরতে হবে, তখন একজন বলল, ভাইয়া, রাতে কিন্তু বাউল সন্ধ্যা, পুতুল নাচ, আর যাত্রাপালারও আয়োজন আছে। কিন্তু আমার পক্ষে রাত পর্যন্ত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাউল সন্ধ্যায় না থেকেই চলে আসলাম। সাথে আফসোস একটা রয়েই গেল কিন্তু– পিঠা উৎসবই যদি এত উৎসাহ উদ্দীপনার হয়, না জানি বাকি অনুষ্ঠানে কতো বেশি মজা করেছে চারুকলার শিক্ষার্থীরা!

আলোকচিত্র: অনির্বাণ রায়
এমবিআর

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।