সকাল ১০:৪৯ ; শুক্রবার ;  ২৭ এপ্রিল, ২০১৮  

শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের শ্রমে তৈরি হচ্ছে শিশুদের বই

বাংলাবাজারের বিভিন্ন ছাপাখানায় কাজ করছে ২ সহস্রাধিক শিশু

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

নতুন বছরের মাত্র কয়েকদিন বাকি। বছরের প্রথম দিন থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণের জন্য সরকারিভাবে বই ছাপা হচ্ছে বাংলাবাজারের বিভিন্ন ছাপাখানায়। আবার এসব বই তৈরি হচ্ছে দেশের হাজার হাজার শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের দিয়েই। বছরের শেষে বাংলাবাজারের বিভিন্ন ছাপা ও বাঁধাইখানা ঘুরে এমনি দৃশ্য চোখে পড়েছে।

সরকারিভাবে বই ছাপার জন্য টেন্ডার দেওয়া হয় বিভিন্ন ছাপাখানায়। টেন্ডার পাওয়ার ভিত্তিতে দেশে বা দেশের বাহিরের যে কোনও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ছাপাতে পারে এসব বই। এ বছর বাংলাবাজারের বিভিন্ন ছাপাখানা টেন্ডার পেয়েছে বই তৈরির। কিন্তু সেই সব ছাপাখানায় শিশুরাই কাজ করছে বই প্রস্তুত করতে। ছাপাখানা মালিক সমিতির হিসেব মতে ২ হাজারের বেশি শিশু কাজ করছে বাংলাবাজারের বিভিন্ন ছাপাখানায়।

ফরিদপুর থেকে ঢাকায় আসা ৭ বছর বয়সী সবুজের কাছে জানতে চাওয়া হয়- ঢাকায় কেন এসেছ? সবুজ বলে, ‘আমরা গরিব মানুষ টাকার জন্য পড়তে পারি না। তাই ঢাকা আইছি টাকা কামাইতে। বাবা রিকসা চালায়। যে টাকা আয় করে তা দিয়ে আমাদের ৬ জনের সংসার চলে না।’ স্কুলে যাও? এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে, ‌‘কাজ করি সারাদিন, স্কুলে কেমনে যাব?’ এই একই ছাপখানায় নুরনবী নামে একজন বাক-প্রতিবন্ধীকেও দেখা গেল বই বাঁধাইয়ের কাজ করতে।

গত কয়েক বছর ধরে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বই দেওয়া হয়। কিন্তু পড়াশোনার জন্য এটাই যথেষ্ট নয়। যার যোগান দেওয়া অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হয় না। এমনি তথ্য উঠে এসেছে বাংলাবাজারের শিশু শ্রকিকদের সঙ্গে কথা বলে।

স্কুল বা কলেজের বই ছাড়াও নানান ধরনের বই বের হচ্ছে শিশুদের হাত দিয়েই। দিনে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করে এই শিশু শ্রমিকরা অন্য শিশুদের হাতে বই পৌঁছে দেয়। কিন্তু তারা নিজেরাই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

‘শিশু শ্রমকে না বলুন’ এমন শ্লোগান সরকারের, সমাজের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীদের এবং সচেতন সমাজকর্মীদের। কিন্তু বাস্তবে শ্লোগানটি একদমই অকার্যকর। এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

বাংলাবাজারের একজন বই প্রকাশক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘অভিভাবকহীন শিশুরা কেবল দুবেলা দুমুঠো খাওয়ার তাগিদেই কাজে নেমে পড়ে। কাজ করা ছাড়া এদের উপায় নেই। যার দরুন কাজের বাহিরে আর কিছু আছে তা এসব শিশুদের কাছে মনে হয় না’।

 

ছবি: রশিদ আল রুহানী

 

/আরএআর/এফএ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।