সকাল ১১:৫৬ ; শনিবার ;  ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯  

এরশাদই জিয়া এবং মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত; আমার কাছে তথ্যপ্রমাণ আছে: ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

‘‘হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। সকল অপকর্মের হোতা। এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ বা দ্বিধা নেই। ডা. বি. চৌধুরীর সম্পৃক্ততার ব্যাপারে আমার কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে এরশাদের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। এটা আমার বইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।”

বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এ কথাগুলো বলেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান রাজনীতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন। এর পূর্ণ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।

বাংলা ট্রিবিউন: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

কর্নেল অলি: দেশে একদলীয় সরকার গঠন হওয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছে না। নতুন প্রজন্মের অনেক উদ্যোক্তা বিগত ছয় বছরে তাদের মিল, কল-কারখানা বিক্রি করে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করে দিয়েছেন। অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থান নেই বললেই চলে। ক্রমশ অর্থনীতিতে স্থবিরতা আসছে। সরকার এদিকে ভ্রুক্ষেপ করছে না। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নির্বাচন, গণস্রোত, মিথ্যা মামলা, হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম বৃদ্ধি পেয়েছে। সারাদেশে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। যা দেশের জন্য বা সরকারের জন্য সুফল বয়ে আনবে না। সরকারকে বুঝতে হবে বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রেখে সফলভাবে কখনও সরকার পরিচালনা সম্ভব না। অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, গণতন্ত্র ব্যাহত হয়। কোনো ভিত্তি ছাড়া যেমন কোনো ভবন নির্মাণ করা যায় না, একইভাবে সরকারের ভিত্তি মজবুত না হলে আমলাদের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। যা হয়েছে বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে। আমাদের সবার উচিত অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতকে যাতে সুন্দর এবং পরিচ্ছন্নভাবে নির্মাণ করা যায় সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া। বাস্তবতা হচ্ছে- বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ দেশে দু’টি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি। এই দু’টিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করলে সেটা কখনও দেশে-বিদেশে কারো কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। যেমন বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে হয়েছে। গৃহপালিত তথাকথিত সরকারি দলকে বিরোধী দলের আসনে বসিয়ে সরকার পরিচালনা করছে, যা হাস্যকর। বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং পরবর্তী পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচনের ফলগুলো দেখলে যে কোনো অন্ধ লোকের চোখেও স্পষ্ট হবে যে এই দেশের রাজনীতিবিদরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চায়। তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। মানুষের মতামতের তোয়াক্কা করে না। রাজনীতিবিদদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমূল সংস্কার প্রয়োজন। দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবার অংশগ্রহণের নির্বাচন এবং একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, ধৈর্য্যশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, দেশের জনগণ আমাদের ক্রীতদাস নয়। স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করার অধিকার সবার রয়েছে। যা বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত।

বাংলা ট্রিবিউন: বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনাটি নিয়ে আপনার কাছ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি...

কর্নেল অলি: নারায়ণগঞ্জে মূলত ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে, সাতজন নয়। এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমরা কেউই নিরাপদ নই। সবাই আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটছে। তারা গরিব বলে পত্র পত্রিকায় প্রাধান্য পায় না। নারায়ণগঞ্জে যে খুনগুলো সংগঠিত হয়েছে, তারা সমাজের গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি বলে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পত্রিকা আর টিভির সংবাদ দেখলে বোঝা যায় সমাজের প্রকৃত অবস্থা। সবার মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে, কোনও কোনও জায়গায় স্ত্রী করছে স্বামীকে। অথবা পুত্র সন্তানেরা বাবা-মাকে খুন করছে। রাজনৈতিক হত্যা, খুন অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় ১০০ গুণ বেড়েছে। এর মূল কারণ হল- বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। তারা হলো দলীয়ভাবে মনোনীত, দলীয়ভাবে নিবন্ধিত সংসদ সদস্য। জনগণ এই নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে জবাবদিহিতার কোনো তোয়াক্কা তারা করছে না। এই ধরনের অস্বাভাবিক এবং অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে সরকারের বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব নয়। ইদানীং মিডিয়া বিভিন্ন মন্ত্রীদের দুর্নীতি, অপকর্মের বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রী ও এমপিদের পরিবারের সদস্যরাও দুর্নীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। এমপি ও মন্ত্রীর সরাসরি পুলিশ প্রশাসন এবং সিভিল প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। নিজেরা কোথাও পুলিশ পাহারা ছাড়া নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও কোনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে সাহস পাচ্ছে না। এর মূল কারণ কী? সরকার যতো দ্রুত এ বিষয়গুলো উপলব্ধি করবে ততই তাদের জন্য মঙ্গল হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: এই যে নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় র‍্যাবের জড়িত হবার কথা আসছে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কর্নেল অলি: শুধু র‍্যাব নয়, এক কথায় বলতে গেলে পুরো প্রশাসন বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত হয়েছে। কারণ সরকার তাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল, জনগণের ওপর নয়। প্রশাসন একদলীয় সরকারের দুর্বলতার সুযোগের অপব্যবহার করছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার এবং প্রশাসন একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। সত্যিকার অর্থে জনগণের সাথে সরকারের সম্পৃক্ততা থাকলে বা সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে এ পরিস্থিতির উদ্ভব কখনও হতো না ।

বাংলা ট্রিবিউন: প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‌্যাব কি বিতর্কিত হয়েছে?

কর্নেল অলি: শুধু র‌্যাব না, বর্তমানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত। গণতন্ত্রের উপাদান হিসেবে চিহ্নিত প্রত্যেকটি স্তম্ভকে ধ্বংস করা হয়েছে। যার খেসারত এই সরকারকে একদিন না একদিন দিতেই হবে। যেমন কর্ম তেমন ফল। পাপ বাপকেও ছাড়ে না । বর্তমান রাজনীতি দুর্নীতিগ্রস্থ ও কলুষিত।

বাংলা ট্রিবিউন: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি করেছেন। আপনি কি এই দাবির সঙ্গে একমত?

কর্নেল অলি: কোনও ব্যক্তি বা সরকার যখন বিতর্কিত হয় তখন সরকারের জন্য এটা একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। মূলত বিএনপি’র আমলেই র‌্যাব সংগঠিত হয়। বিশেষ একটা পরিস্থিতির কারণে। বর্তমানে এই পরিস্থিতি আর বিদ্যমান নেই। পুলিশ যে কোনো সময়ের তুলনায় অধিক শক্তিশালী এবং জনসংখ্যার দিক থেকেও প্রায় দ্বিগুণ। সুতরাং আইন-শৃঙ্খলার বিষয়গুলো পুলিশের ওপর ন্যস্ত করলে দেশের জন্য ভালো হয়। এতে অন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও বিতর্কিত হবে না। র‌্যাব গঠনের সময় বর্তমান সরকারের সদস্যরা প্রবল বিরোধিতা করেছিল। আমার মনে আছে, সংসদে এই আওয়ামী লীগই বিরোধী দলে থাকার সময় বলেছিল, ‘র‌্যাবের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য, বিরোধী দলের ওপর দমন নিপীড়নের জন্য র‌্যাব গঠন করেছে।’ অথচ বিএনপি আমলে র‌্যাবের হাতে বিএনপি নেতা-কর্মীরাই বেশি নির্যাতিত হয়েছে এবং ক্রসফায়ারে পড়েছে। অন্যদিকে, এখন র‌্যাবকে সরকারবিরোধী আন্দোলন থামানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সুতরাং র‌্যারের ব্যাপারে সরকার এবং বিরোধী দলের মত অভিন্ন ।

আমি একটি নতুন বই লেখার কাজে হাত দিয়েছি। এই বইয়ের নাম ‘এরশাদ: দি কিলার’।

বাংলা ট্রিবিউন: অ‌‌নেকেই বলছেন, র‌্যাবের প্রয়োজনীয়তা ‌‌‌আছে। বিলুপ্ত না করে সংস্কার করলেই ভালো হবে। আপনি কী মনে করেন?

কর্নেল অলি: আমি মনে করি, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের র‌্যাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা উচিত না। সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তা হলো দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কাজ করা। পুলিশের দায়িত্ব পালন করা না। দৈনন্দিন আইন-শৃঙ্খল‌‌‌া নিয়ন্ত্রণ কাজে তাদের নিয়োগ দেওয়া যুক্তিযুক্ত না। পুলিশ প্রশাসন অনেক দক্ষ এবং সৎ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে থেকে উপযুক্ত ব্যক্তিদের আলাদা করে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে র‌্যাব নামক সংগঠনের মাধ্যমে নয়, পুলিশের কাজ পুলিশই করবে। সেটাই জনগণ আশা করে। সাদা পোশাকে কারও ঘরে প্রবেশ করা বা কাউকে গ্রেফতার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা উচিত।

বাংলা ট্রিবিউন: অন্য প্রসঙ্গে আসি, আপনিতো সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খুবই ঘনিষ্ট ছিলেন। একসাথে বিদ্রোহ করেছেন। সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন যে, জিয়াউর রহমান এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জড়িত। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

কর্নেল অলি: এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ বা দ্বিধা নেই। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এই দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং তিনি একজন গণতন্ত্র হত্যাকারী। সকল অপকর্মের হোতা। আমি একটি নতুন বই লেখার কাজে হাত দিয়েছি। এই বইয়ের নাম ‘এরশাদ: দি কিলার’।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু এরশাদ তার বক্তব্যে বলেছেন, তিনি নন; হত্যাকারী জিয়াউর রহমানের পাশের রুমেই ছিলেন। আসলে তিনি আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দিকে ইঙ্গিত করে তাকেই দোষারোপ করেছেন। এটিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

কর্নেল অলি: ডা. চৌধুরীর সম্পৃক্ততার ব্যাপারে আমার কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে এরশাদের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। এটা আমার বইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার কাছে কী ধরনের তথ্য আছে? আপনি কি পাঠকদের সাথে খানিকটা শেয়ার করবেন?

কর্নেল অলি: জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় এরশাদ সেনাপ্রধান ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ২৯ মে চট্টগ্রামে যান এবং সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন। এরশাদ বিনা কারণে ২৮ মে চট্টগ্রাম মিলিটারি একাডেমি পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মূল হত্যাকারী লে. কর্নেল মতিউর রহমানের সঙ্গে অফিসার্স মেসে একান্তে গোপন বৈঠক করেন। এর পরের দিনই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মর্মান্তিকভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লে. কর্নেল মতিউর রহমান। তার (এরশাদের) মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা দখল করা। তিনি এক ঢিলে অনেকগুলি পাখি শিকার করেছিলেন। সক্রিয় যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেক মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে বদলি করে চট্টগ্রামে একত্র করেন। পরে তথাকথিত একটি তদন্তের মাধ্যমে ওই সব অফিসার জিয়া হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আছে বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তাদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়। মূল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত লে. কর্নেল মতিউর রহমানসহ আরও দু’জন অফিসারকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং ফটিকছড়ির মধ্যবর্তী এলাকায় পালানোর সময় গুলি করে হত্যা করা হয়। কারণ ওই অফিসাররা বেঁচে থাকলে এরশাদের সম্পৃক্ত থাকার ঘটনাগুলি প্রকাশ পেত। এরশাদ অত্যন্ত সুচতুরভাবে প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং প্রায় ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে হত্যা করেন, ফাঁসিতে ঝোলান এবং ক্ষমতা দখলের পথ নিষ্কণ্টক করেন।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনিতো বিএনপিতে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। মন্ত্রী ছিলেন। আপনাদের আমলে কেন এরশাদের বিচার করা হলো না?

কর্নেল অলি: এটা ছিল আমাদের অপারগতা এবং দুর্বলতা। প্রত্যেকটি খুনের এবং অপকর্মের কঠোর ও ন্যায়বিচার হওয়া উচিত। বিভিন্ন সরকারের সময় দুর্নীতিবাজ, হত্যাকারী এবং চাঁদাবাজদের শাস্তি হয়নি বলে দেশের বর্তমান এই অস্বস্তিকর পরিবেশ।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি কি এর জন্য দায় এবং ব্যর্থতা স্বীকার করে নেবেন?

কর্নেল অলি: নিঃসন্দেহে। এটা আমাদের ব্যর্থতা।

বাংলা ট্রিবিউন: আবার অন্য প্রসঙ্গে আসি, শোনা যায় আপনি বিএনপিতে আবার ফিরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের এতে সায়ও আছে।

কর্নেল অলি: বিএনপিতে পুনরায় ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কখনও বিএনপি চেয়ারপারসন বা অন্য কারও সাথে কোনও ধরনের আলোচনা হয়নি। আমার কাছে কোনও প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি। স্বপ্রণোদিত হয়ে আমিও কাউকে এই প্রস্তাব দেইনি। বাস্তবতা হলো, আমি বর্তমানে এলডিপি’র সভাপতি এবং এই দলটাকে সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য সহকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাবো।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাকে ধন্যবাদ।

কর্নেল অলি: আপনাকেও। বাংলা ট্রিবিউনের জন্য অনেক শুভকামনা।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।