রাত ০৪:৫৮ ; রবিবার ;  ২১ জানুয়ারি, ২০১৮  

৪ লাখেরও বেশি শিশু গৃহকর্মী; পথশিশু ১২ লাখ

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ॥

দেশে চার লাখেরও বেশি শিশু গৃহকর্মে নিয়োজিত। দিনে এরা গড়ে ১৫ ঘণ্টা কাজ করে। গৃহকর্মীদের মধ্যে ৮৩ শতাংশই মেয়ে শিশু। যাদের বয়স ৫ থেকে ১৮ বছর। অধিকাংশ গৃহকর্মী তিন বেলা খাবার পেলেও খাবারের পুষ্টিমান থাকে অত্যন্ত কম। গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের গড় মাসিক মজুরি ৫০৯ টাকা। গৃহকর্মে নিয়োজিত এ শিশুরা প্রায়ই নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক এমনকি যৌন নির্যাতনেরও শিকার হয়। কখনও কখনও তারা প্রায় বন্দি জীবন যাপন করে। তাদের পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকে না।

বেসরকারি সংস্থা অ্যাসিসটেন্ট ফর স্লাম ডুয়েলার্স (এএসডি) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গৃহকর্মী ও পথশিশুদের নিয়ে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সভাটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এএসডি, আইএলও, ইউনিসেফ, বিলস ও বিএসএএফ-এর গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এএসডি'র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমানে বিভাগীয় শহরগুলোতে পথশিশুর সংখ্যা ১২ লাখে পৌঁছেছে। পথশিশুরা রাস্তা, পার্ক, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাট এবং সরকারি ভবনের নিচে ঘুমায়। তিন বেলা খাবার পায় না। অনেকে হোটেল-রেস্টুুরেন্টের পচা-বাসি খাবার খেয়ে থাকে। মেয়ে শিশুরা যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত। বেঁচে থাকার তাগিদে শিশুরা ভাসমান যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়। জোরপূর্বকও অনেকে এ কাজে নামতে বাধ্য হয়। ২০০৫ সালে ছয়টি বিভাগীয় শহরে পথশিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় সাত লাখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। এএসডি’র নির্বাহী পরিচালক জামিল এইচ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সংস্থার উপনির্বাহী পরিচালক মোজাম্মেল হক। বক্তব্য রাখেন, বিলসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ, শিশু সুরক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ শরফুদ্দিন খান, শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আব্দুস শহীদ মাহমুদ প্রমুখ।

গৃহকর্মে শিশুরা নিয়োজিত হওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক অসহায়ত্ব, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, গ্রাম ও শহরের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মসূচির ব্যাপক পার্থক্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য, পিতা-মাতার শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবকে দায়ী করা হয় সভায়।

অনুষ্ঠানে গৃহকর্মকে আনুষ্ঠানিক সেক্টর হিসেবে স্বীকৃতি, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রমকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, খসড়া গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি চূড়ান্ত করা, পথশিশুদের স্থায়ী পুনর্বাসনে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা, পথশিশুদের জন্য রাত্রিকালীন আবাসনের ব্যবস্থাসহ ৯টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, অসহায় শিশুদের জন্য আগামী বাজেটে ভাতা চালু করার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ ব্যাপারে যারা শিশুদের জন্য কাজ করছেন তাদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ব্রেড ফর দি ওয়ার্ল্ড- জার্মানির আর্থিক সহযোগিতায় এএসডি গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের সুরক্ষা ও পথশিশুদের নিরাপদ আশ্রয় প্রদানের লক্ষ্যে রাজধানীতে ‘ডেভেলপমেন্ট অব চিলড্রেন এ্যাট হাই রিস্ক’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।


 

/ওএফ/এফএ


 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।