রাত ০১:১১ ; শুক্রবার ;  ২১ জুন, ২০১৯  

তিনি একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি (ভিডিওসহ)

ফেসবুকে তারুণ্য: ভূমিকার বদলে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মাহাবুব রাহমান।।

মিস (কিংবা গোপনে মিসেস) অর্ধচন্দ্রিকা 'চুলায় আগুন ধরানোর কলাকৌশল' জাতীয় একটি অনুষ্ঠান টেলিভিশনে নিয়মিত উপস্থাপন করেন। তার চেহারা-সুরতও বেশ আগুন ধরানো। অনুষ্ঠান শেষে তিনি রুটিনমাফিক ফেসবুকেও আগুনের ছবি পোস্ট করেন। আর তাতেই হাজার হাজার লাইক, কমেন্ট, শেয়ার— ইত্যাদি তুঘলকি কাণ্ড। চলতি বাংলায় অর্ধচন্দ্রিকা একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি। একজন মানুষ নানা কারণেই ফেসবুক সেলিব্রেটি হয়ে ওঠে। অর্ধচন্দ্রিকা বেগমের ফেসবুক সেলিব্রেটি হওয়ার একমাত্র কারণ টেলিভিশনের পর্দায় চেহারা প্রদর্শন আর বাকি সবই অকারণ।

লাখ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর মধ্যে মাত্র কয়েকজন ব্যবহারকারী কেন ফেসবুক সেলিব্রেটি হয়ে ওঠে? ফেসবুক সেলিব্রেটিদের প্রোফাইল ঘেটে আমরা বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি। দেখতে পাই, নানা গুরুত্বপূর্ণ কারণেও একজন মানুষ ফেসবুক সেলিব্রেটি হয়ে ওঠে।

মুখ মুখোশ ও মুখশ্রীর বাইরে অনেক সেলিব্রেটি রয়েছেন যারা বাস্তব জীবনেও বেশ জনপ্রিয়। এদের কেউ রাজনীতিবিদ, কেউ সাহিত্যিক, কেউ একটিভিস্ট, কেউ খেলোয়াড়, ইত্যাদি ইত্যাদি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফেসবুক সেলিব্রেটি আরিফ আর হোসাইন। তার প্রোফাইলে ঢুকলেই ফেসবুক ব্যানারে দেখতে পাবেন বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে, ‍

পাকিস্তানের সাকিব
আবারে বিশ্বসেরা!

লেখাটি দেখে যে কেউ চমকে উঠবেন। কেউ কেউ হয়ত গালিও দিয়ে বসবেন। কিন্তু না, আরেকটু ধৈর্য ধরে খেয়াল করে নিচের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন ছোট ছোট অক্ষরে লেখা রয়েছে,

শিরোনামগুলো হয়ত এমনই হয়ে যেত! হয়নি যাঁদের আত্মত্যাগে,
সেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, অশেষ কৃতজ্ঞতা।

আরিফ আর হোসাইনের প্রায় সব স্ট্যাটাসই দেশপ্রেম, গণসচেতনা, জনকল্যাণমূলক। যেন দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই তার এক একটা স্ট্যাটাস। আর তার প্রতি মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এক একটা লাইক, কমেন্ট, শেয়ার।

তবে কেবলমাত্র ফেসবুকে মধুর মধুর বাণী দিয়ে তিনি ফেসবুক সেলিব্রেটি বনে যাননি। বাস্তব জীবনের নানা ক্ষেত্রেও তার রয়েছে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান। তিনি আমরাই বাংলাদেশ-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশিজম-এর স্বপ্নদ্রষ্টা। এখানে আরিফ আর হোসাইনকে একটি উদাহরণ হিসেবে নেয়া হয়েছে মাত্র।

অনেকেই নাকি আরিফ আর হোসাইনকে ফেসবুকে ইনবক্স করেন, ভাই আমি আপনার একজন বিশাল ফ্যান/ফলোয়ার, আমি আপনার মতো হতে চাই। আরিফ আর হোসেনের উত্তর ভাই আমার মতো হয়ে, আমার ফ্যান ফলোয়ার হয়ে কী লাভ? আমিই তো মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, শাইখ সিরাজদের মতো হতে চাই, বাস্তব জীবনে যাদের হাজার হাজার ফ্যান ফলোয়ার রয়েছে।

কেউ একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি হলেই যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তা কিন্তু নয়। 'ফেসবুক হচ্ছে নির্বোধদের একটা বিশাল অ্যাশোসিয়েশন। এর আগে নির্বোধরা তাদের অযোগ্যতার কারণেই কোথাও কল্কে পেত না। কিন্তু ফেসবুকে নির্বোধদের সাথে নির্বোধদের সহজেই মতানৈক্য, দোস্তি ও অ্যাশোসিয়েশন গড়ে উঠছে।' প্রায় এরকমই একটি কথা বলেছেন লেখক, ব্লগার, একটি‌‌‌ভিস্ট বাকি বিল্লাহ। তার কথাটি একেবারেই হেলায় উড়িয়ে দেয়া যায় না। বলাবাহুল্য তিনিও একজন ছোটখাটো ফেসবুক সেলিব্রেটি। তবুও তার কথাটি বিবেচনায় রেখেই আমরা তরুণ ফেসবুক সেলিব্রেটিদের নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের তারুণ্য পাতায় একটি ধারাবাহিক ফিচার প্রকাশ করে যাব।

যুক্তিবিদ্যায় আরোহী ও অবরোহী পদ্ধতি নামে দুটি পদ্ধতি আছে। যারা যুক্তিবিদ্যা জানেন না, তাদের বোঝার সুবিধার্থে সহজ ভাষায় বলা যায়, আরোহী পদ্ধতি হচ্ছে নবম শ্রেণির পড়া শেষ করে দশম শ্রেণির পড়া শুরু করা। কিন্তু মাঝে মাঝে পড়া বোঝার স্বার্থে দশম শ্রেণির ছাত্রকে নবম শ্রেণির পড়াটি আবার পড়ে নিতে হয়। এটিই হচ্ছে অবরোহী পদ্ধতি।

এর আগে আমরা সামিরা জুবেরী হিমিকা, বিপাশা মতিনকে নিয়ে ফিচার প্রকাশ করেছিলাম। তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে হিমিকা ইতিমধ্যেই তার দক্ষতার যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিপাশা মতিনকে এক কথায় একজন একটিভিস্টই বলা যায়। বাস্তব জীবনের পাশাপাশি ফেসবুকেও তারা সমান জনপ্রিয়। এবার আমরা ফেসবুক থেকে সেই সব সেলিব্রেটিকে নিয়ে ফিচার করব যারা বাস্তব জীবনেও জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ‌‌‌।

এমবিআর

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।