রাত ০১:০৫ ; রবিবার ;  ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০  

তালেবানি বর্বরতায় ইসলামি দলগুলো নীরব, বিলম্বিত নিন্দা জামায়াত-তরিকতের

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে গত ১৬ ডিসেম্বর তালেবান জঙ্গিদের হামলায় ১৩২ জন শিশু শিক্ষার্থীসহ ১৪১ জন লোক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে হামলার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও চুপ রয়েছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামি দলগুলো। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও বক্তব্য কিংবা বিবৃতি দেয়নি কোনও ইসলামি সংগঠন। তবে বুধবার দুপুরে বিলম্বিত প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন।

দলের প্রচার বিভাগের কর্মচারী এম আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমদ বলেন, ‘আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং এ নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ মর্মান্তিক ঘটনায় পাকিস্তানের জনগণের মতো বাংলাদেশের জনগণও গভীরভাবে শোকাহত। হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের হিংসাত্মক ও অমানবিক ঘটনা ইসলাম কখনও সমর্থন করে না। আমরা আশা করি পাকিস্তান সরকার এ ধরনের ঘটনা রোধে উপযুক্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

পেশোয়ারের হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপি বলেন, ‘তালেবান জঙ্গিরা নিষ্পাপ শিক্ষার্থীদের খুন করে প্রমাণ করেছে তারা ইসলামের পক্ষের নয়, ইসলাম ধ্বংসই তাদের কাজ।’

এ নৃশংস ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ডান-বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবাদ করে এবং

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনও ইসলামি দলই নৃশংস এ ঘটনার ব্যাপারে মুখ খোলেনি। দেয়নি প্রতিবাদ বিবৃতিও।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সম্মিলিত ইসলামি দলসমূহের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, ‘ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রতিবাদ জানানো দরকার ছিল। কিন্তু এখন না পাঠানোর কোনও কারণ দেখি না। আমার দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ পাঠাব।’

যদিও এ ব্যাপারে রাজধানীর মুহাম্মদপুরের সাত মসজিদ সংলগ্ন জামিয়া রাহমানিয়ার হাদিছের এক শিক্ষক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তালেবানি হামলার প্রতিবাদ কীভাবে করবে বাংলাদেশের আলেমরা। এখনও অনেকে তালেবানদের ধর্মীয় মুজাহিদ মনে করে।’

জানতে চাইলে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার সাবেক শিক্ষক ও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষক মাওলানা গোলাম রাব্বানী বলেন, 'ইসলামে কোনও অবস্থাতেই এ ধরনের হামলার অনুমতি নেই। তালেবানদের এসব নৃশংসতা সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধতা।’

/এসটিএস/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।