দুপুর ০১:২৩ ; শনিবার ;  ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯  

ভারত থেকে ফিরে এলো পাচার হওয়া ৪৮ নারী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

যশোর প্রতিনিধি॥

ভারতে পাচারের শিকার ৪৮ বাংলাদেশি নারীকে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে এই নারীদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দেশে ফেরার আগে প্রায় দুই বছর মুম্বাইয়ের বেসরকারি সংস্থা রেসকিউ ফাউন্ডেশনের আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন তারা। এই সংস্থা এবং রাইটস যশোর ও জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রচেষ্টায় তারা দেশে ফিরে আসেন।

রাইটস যশোরের প্রোগ্রাম অফিসার শাওলী সুলতানা জানান, রেসকিউ ফাউন্ডেশনের সুপার লীনা জাভেদ এবং তথ্যানুসন্ধান কর্মকর্তা সুজয় ফেরত আসা নারীদের বিকেল সাড়ে তিনটায় বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য মুম্বাই পুলিশের ১০ সদস্য সার্বক্ষণিক সঙ্গে ছিলেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় তাদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন অফিসার কেএন মিশ্রা, পেট্রাপোল ল্যান্ড কাস্টমসের ইন্সপেক্টর এন ঝাঁ, বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ডিউটি অফিসার রবিউল ইসলাম, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক এবং জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির কাউন্সিলর নূর নাহার প্রমুখ।

ভিকটিমদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হাজির করে একটি জিডিই'র মাধ্যমে রাইটস যশোর ও মহিলা আইনজীবী সমিতির জিম্মায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।

৪৮ জনের মধ্যে রাইটস যশোর ৪২ এবং মহিলা আইনজীবী সমিতি ৬ জনকে নিজ নিজ জিম্মায় নেয়। প্রথমে তাদেরকে শেল্টার হোমে রেখে মনোসামাজিক কাউন্সিলিং দেওয়া হবে। আগামী ২০/২১ ডিসেম্বর থেকে ভিকটিমদেরকে নিজ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর শুরু হবে বলে জানান তিনি।

ফেরত আসা নারীদের মধ্যে ৬ জনকে মহিলা আইনজীবী সমিতির নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখা হবে বলে জানান সংগঠনের যশোর জেলা কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট নাসিমা আকতার। অন্যদের ঢাকা আহছানিয়া মিশনের শেল্টার হোমে রাখা হবে বলেন রাইটস যশোরের প্রোগ্রাম অফিসার শাওলী সুলতানা।

ফিরে আসা নারীদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের ৯, নড়াইলের ১০, সাতক্ষীরার ৬, গাজীপুরের ৪, ঢাকা, রংপুর, রাজবাড়ি, পিরোজপুর ও বাগেরহাট জেলার ২জন করে। বাকিরা গাজীপুর, সিলেট, কক্সবাজার, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার অধিবাসী।

সোমবার আরও একজন ভিকটিমের ফিরে আসার অনুমতি থাকলেও যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর আগে পাচারকারীরা এসব নারীকে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ভারতে নিয়ে ‘অসম্মানজনক’ কাজে ব্যবহার করে। পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে মুম্বাইয়ের শেল্টারহোমে রাখা হয়। এসব ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সরকারের মাধ্যমে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশের দুটি সংগঠন। যার ভিত্তিতে তারা সোমবার দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

/এএ/এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।