রাত ১০:১৮ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

আবীর হক এর সাক্ষাৎকার

‘বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাটের ছবি তুলতে আমার খুব ভালো লাগে’

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

[আবীর হক নাইজেরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান লেখক ও আলোকচিত্রী। ইতোমধ্যে তিনি বহু পুরস্কার ও ফেলোশিপ অর্জন করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- NEA লিটারেচার ফেলোশিপ(২০১২), ফুলব্রাইট স্কলারশিপ(২০০৭)। ২০১৩ সালে তিনি ‘দ্যা লং ওয়ে হোম’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন তার ভ্রমণবিষয়ক আলোকচিত্র ও কবিতা নিয়ে। তার লেখা ও আলোকচিত্র ছাপা হয় গুয়ার্নিকা, ZYZZYVZ, দ্যা ডেইলি স্টার, ইন্ডিয়া টুডে এবং কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রতিযোগিতায়।
গত ১৪ নভেম্বর (শুক্রবার) তার ‘দ্যা লাভারস এন্ড দ্যা লিভারস’ নামে একটি গল্পগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি প্রকাশ করেছে ‘বেঙ্গল লাইটস বুকস(বিএলবি)।’ বিকাল ৪ টায় বিএলবি’র সম্মেলন কক্ষে অতিথিদের নিয়ে তিনি বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। তার লেখালেখির গল্প নিয়ে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।]
        
প্রশ্ন : আপনার বেড়ে ওঠা তো বাংলাদেশে না, নাকি?
আবীর হক : হ্যাঁ, আমার জন্ম বাইরে, আর আমি বড় হয়েছি বাইরে, আমার জন্ম হলো নাইজেরিয়াতে। আমার বাবা-মা দুইজনই প্রফেসর, ইউনিভার্সিটিতে পড়ান। তো নাইজেরিয়াতে গিয়েছেন আমার জন্মের আগে, আমার ওখানেই জন্ম আর ওখানে ছিলাম তের বছর বয়স পর্যন্ত। তারপর আমি যখন হাইস্কুলে পড়ি তখন বাংলাদেশে এসেছিলাম বেড়াতে। বাংলাদেশে আসতাম summer এর সময়ে পুরো summer টা থাকতাম বাংলাদেশে।

প্রশ্ন : আপনার বয়স তখন কত ছিল, সেই সময়কার কথা বলুন?
আবীর হক : প্রথম যখন আসি তখন আমার বয়স আট বছর; কারণ আমার বোনের এখানে জন্ম। আমরা যখন বাংলাদেশে আসি তখন আমার আম্মা প্রেগনেন্ট ছিলো। তো আমার বোনের এখানে জন্ম, তো আমি তখন বাংলাদেশে এসেছিলাম। তারপরেও প্রত্যেক summer এ আসতাম বেড়াতে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে আসি আমি একা, বাবা-মা ছাড়া এখানে ছিলাম দুই-তিন বছরের মতো।

প্রশ্ন : আপনার যে the Lovers & the Leavers বইটা বাংলাদেশের bengal lights books থেকে বের হয়েছে তার বিষয়বস্তু কি?
আবীর হক : আমার ইচ্ছা ছিল যে, গল্প লিখব। নানান রকমের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে গল্প লিখব । আর আমার ফুলব্রাইট ছিল বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়া, তাই কিছু গল্প ওখানে; আর বেশির ভাগ গল্প বাংলাদেশের। ইন্ডিয়াতে ৩ টি, আমেরিকাতে ২ টি, স্পেনে ১ টি আর বাংলাদেশে ৬ টি। 

প্রশ্ন : আপনার গল্পে কোন ধরনের বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন?
আবীর হক : প্রেমের উপরে, তবে প্রত্যেকটা গল্পের ভিন্নতা আছে বইটাতে। 

প্রশ্ন : ‘লেখক সত্তা ও আলোকচিত্রী’ এই দুটো বিষয়কে কিভাবে মেলবন্ধন করেন?
আবীর হক : এটা নানাভাবে বা নানা রকমে করা যায়। আমি করেছি দুটো way তে, ‘দ্যা লং ওয়ে হোম’; so কবিতা should be; কবিতা আর ছবি মেলানো সহজ মনে হয় কিন্তু the Lovers & the Leavers বই এ গল্পগুলো Fiction,মানে আমি বানিয়েছি। কিন্তু ছবিগুলো আসল। এটা মিলাতে গিয়ে আমি ছবিগুলো choice করছি,mood  বা ছবিটার theme টা  match করবে, যার জন্য আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।

প্রশ্ন : ছবি তোলার কোনো বিশেষ ঘটনা আছে যা আপনাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে আবার রোমাঞ্চও অনুভব করেছেন?
আবীর হক : আমি যখন প্রথম এসেছি তখন আমার সমস্যা হতো; কারণ যেটা আমি পছন্দ করি, রাস্তাঘাটের ছবি তোলা, তো আমার এটা খুব ভালো লাগে। কিন্তু বাংলাদেশে যখন বের হই, তারপরে সবাই দেখতেছে, তো রাস্তায় আমি যেটা তুলতে চাই ঐ রাস্তাটা হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে। যেটা Normal হচ্ছিল, লোকজন আমাকে তাকিয়ে দেখছিল, অর্থাৎ আমাকে Used হইতে হয়েছে। যখন আমি ছবি তুলি বা যার ছবি তুলছি সবাই আমার দিকে কেমনভাবে যেন তাকিয়ে আছে। কিন্তু বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাটের ছবি তোলা আমার খুব ভালো লাগে। কারণ এত রকমের রং টং, তারপরে হচ্ছে অনেক জিনিস যা আমাকে পুলকিত করে। খুব Interesting লাগে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশি কার কার লেখা আপনার ভালো লাগে বা পড়েছেন?
আবীর হক : একজন লেখক মাহমুদ রহমান, আর আমি তো বাংলা পড়ি না; তো উনি ইংরেজিতে লেখেন। কবি কায়সার হক, উনার কবিতা আমার খুব ভালো লাগে। মামুদের একটা গল্পের কালেকশন আছে যেটা বের হয়েছে দুই-তিন বছর আগে। এখন ও একটা উপন্যাস নিয়ে কাজ করছে। তারপর শাহীন আক্তার, ওনার অনুবাদ পড়েছি, কয়েকটা গল্প পড়েছি। 

প্রশ্ন : এছাড়া বাংলা সাহিত্যের বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, মানিক, জীবনানন্দ দাশ পড়েছেন কিনা?
আবীর হক : পড়েছি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ ও লালন শাহ্ মূলত ওনাদের অনুবাদ পড়া হয়েছে আমার। 

প্রশ্ন : আমেরিকায় জীবন-ধারার কোন বিষয়টি আপনাকে আলোড়িত করে বা আমেরিকায় বসবাস করতে গিয়ে আপনি কোন বিষয়টি বেশি উপভোগ করেন?
আবীর হক : ওখানে আমার যে বিষয়টি সবচেয়ে ভালো লাগে- তা হলো ইচ্ছা থাকলে সবই করা যায়; যা বাংলাদেশে একটু কঠিন কিন্তু আমেরিকাতে যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি Actor, কবি, লেখক হতে পারবেন, ছবি তুলতে পারবেন। অর্থাৎ এককথায় খুব ফ্রি। 

প্রশ্ন : আপনার সময়ে আমেরিকায় কারা কারা লেখেন বা সাহিত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন তাদের কথা একটু বলবেন কি? 
আবীর হক : আমি লেখালেখি শুরু করেছি ২০০১ সালে, প্রায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে লিখতেছি। তো এই সময়ে আমেরিকার লেখক... ঝুম্পা লাহড়ী, David Mitchel, Marget Atwood...।

প্রশ্ন : অন্য দেশের বংশোদ্ভূত আমেরিকার লেখক ও আমেরিকার মূল ধারার লেখকের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে বলে আপনি মনে করেন? 
আবীর হক : হ্যাঁ, আমার যেটা মনে হয় তা হচ্ছে Style এ একটা অমিল আছে। যেমন- আমার লেখার মধ্যে বাংলাদেশের চরিত্র বা সংস্কৃতির একটা প্রভাব আছে বলে আমি মনে করি। তেমনি ওনাদের লেখায় আমেরিকার একটা বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।