ভোর ০৬:৩৮ ; শুক্রবার ;  ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯  

ছাত্রী হলে প্রবেশে বিধিনিষেধ, বিক্ষোভে জাবি ছাত্রীরা

প্রকাশিত:

জাবি সংবাদদাতা॥

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জারি করা বিধিনিষেধের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ছাত্রীহলের বাসিন্দারা ও প্রগতিশীল ছাত্র জোট বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলছে।

এদিকে, মেয়েদের হলে ঢোকা এবং বের হওয়ার সময়সীমার নিয়মকে নারী-পুরুষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যমূলক নীতি ও অযৌক্তিক দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক মঞ্চ।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহানারা ইমাম হলে গত ৭ ডিসেম্বর হল প্রভোস্ট অধ্যাপক শ্যামল কুমার স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী রাত ১০টার পর কোনও ছাত্রী হল থেকে বের হতে পারবে না বা হলে ঢুকতে পারবে না। বিভাগীয় কোনও কাজে হলের বাইরে থাকতে হলে অন্তত একদিন আগে বিভাগের সভাপতির সুপারিশসহ আবেদন করতে হবে। এছাড়া প্রত্যেক ছাত্রীকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

অপর একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হলে ছাত্রীদের উপস্থিতি ৭৫% থাকতে হবে অন্যথায় পরীক্ষার আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করা হবে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ বলেন, ‘ছাত্রীদের হলে এসব নিয়ম অনেক আগে থেকেই ছিল। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, আজ (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার ও উপউপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনের সঙ্গে দেখা করেছে আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দাবি বিবেচনা করবে এমন আশ্বাসে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভ মিছিল প্রত্যাহারের বিষয়ে জাহানারা ইমাম হলের শিক্ষার্থী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, 'প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ৭৫ % উপস্থিতির যে নিয়ম করা হয়েছে তার প্রতিবাদে রাতে হলের সামনে সমাবেশ করবে ছাত্রীরা।'

তিনি আরও জানান, সমাবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি (এটেনডেন্স) নেওয়ার প্রথা বাতিল করে রুমে রুমে গিয়ে এটেনডেন্স নেওয়ার দাবি জানানো হবে। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে জাহানারা ইমাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শ্যামল কুমার জানান, প্রক্টর ও বিভিন্ন হলের প্রভোস্টদের সঙ্গে রাতে অনুষ্ঠিতব্য সভায় যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/বিএল/একে/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।