সকাল ১০:০৮ ; রবিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৮  

ব্যান্ডউইথ রফতানি চুক্তি: দিল্লির অনুমোদনের অপেক্ষায় ঢাকা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম॥

ভারতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রফতানির নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরও বিষয়টি এখনও ঝুলে অাছে। দিল্লি অনুমোদন না পাওয়ায় এ ব্যাপারে অগ্রসর হতে পারছে না ঢাকা।

তবে ঢাকা অাশা করছে, শিগগিরই অনুমোদন পাওয়া যাবে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষর করে ব্যান্ডউইথ রফতানি শুরু করতে অন্তত অারও দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দুটি দেশ অনেকগুলো বিষয়ে একমত হয়ে প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে। দিল্লি প্রস্তাবনা অনুমোদন করলে চুক্তি চূড়ান্ত হবে।

তিনি বলেন, 'অনুমোদন পাওয়ার পরে রফতানি প্রক্রিয়া, দরদাম, সময়-- সব কিছু চূড়ান্ত করে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।' স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দিল্লির অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি অাশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর অাগে গত মে মাসে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরই ব্যান্ডইউথ রফতানির চুক্তি চূড়ান্ত হবে। তবে এরপর ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও চুক্তি স্বাক্ষর করা যায়নি।

যদিও ব্যান্ডউইথ রফতানি বিষয়ে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) ও ভারতের ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেডের (বিএসএনএল) মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়।

ওই চুক্তি অনুযায়ী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্যে ৪০গিগাবাইট পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ রফতানি করবে বাংলাদেশ। রফতানি প্রক্রিয়া শুরু হবে ১০গিগা ব্যান্ডউইথের মাধ্যমে।

বিএসসিসিএল'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভারত ব্যান্ডউইথ ক্রয়ের যে অফার করেছে তা আমাদের প্রস্তাব করা দামের কাছাকাছি। খুব বেশি পার্থক্য নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমঝোতা চুক্তিতে তিন বছরের জন্য ব্যান্ডউইথ রফতানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশ ব্যান্ডউইথ রফতানি বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় করবে।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য ৪০ গিগা ব্যান্ডউইথ রফতানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য রুটও ঠিক করা হয়েছে সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিংস্টেশন কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কুমিল্লা পর্যন্ত। এরপর কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-আখাউড়া বর্ডার এলাকা-আগরতলা হয়ে সংযোগ যাবে ত্রিপুরা পর্যন্ত। এই রুটে আট মাসের মধ্যে ব্যান্ডউইথ রফতানির পরিমাণ ১০ থেকে ৪০ গিগায় পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।

ভারতে ব্যান্ডউইথ রফতানির আরও একটি রুট নির্দিষ্ট হয়েছে। ওই রুটটি কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সিলেট দিয়ে তামাবিল সীমান্ত হয়ে মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং পর্যন্ত যাবে। এরপরে শিলং থেকে বিএসএনএল তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আসামের রাজধানী গুয়াহাটি পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ নিয়ে যাবে।

তবে ব্যান্ডউইথ রফতানির জন্য বাংলাদেশ এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ব্যাকহল কানেক্টিভিটি জনিত কিছু সমস্যার সমাধান না হলে ব্যান্ডউইথ রফতানি (ফাইবার অপটিক ক্যাবল দিয়ে পরিবহন) শুরু করতে দেরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

/এইচএএইচ/একে/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।