রাত ১১:২৫ ; বুধবার ;  ১৭ অক্টোবর, ২০১৮  

যমুনা গর্ভে স্কুল, বার্ষিক পরীক্ষা চলছে বাগানে

প্রকাশিত:

মানিকগঞ্জ প্রতি‌‌‌নিধি॥

যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের চকধুবুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পরেছে ১৮২ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া। স্কুল ঘর না থাকায় শিক্ষার্থীরা এবারের বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে পাশের বাগানে বসে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের কয়েকশ গজ দূর দিয়ে বইছে যমুনা নদী। বাগানের পাতায় জমে থাকা কুয়াশার পানিতে সকালে ভিজে থাকে শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে ওই ভেজা বেঞ্চে বসে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়।

ওই স্কুলের দুই শিক্ষক জেসমিন আক্তার ও হাসবিন আরা জানান, যমুনা পারের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বয়স ৩৬ বছর। এই নিয়ে তিনবার স্কুলটি যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ষাটোর্ধ্ব আব্দুল মোন্নাফ জানালেন, যমুনার বৈরিতা আর শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা স্কুলটি চালিয়ে যাচ্ছেন। শিশুদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটতে দেননি। সর্বশেষ পনের দিন আগে স্কুলের পাকা ভবনটি নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই লুৎফর রহমানের কাঠ বাগানটিকে বার্ষিক পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, গাছের নিচে আলো ছায়াতে ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতেই পরীক্ষার খাতায় লিখছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তারা জানালো, গাছের কারণে রোদ ঢুকতে না পারায় খুব ঠাণ্ডা লাগছে।

শিক্ষিকা জেসমিন বলেন, 'শিক্ষার্থীরা প্রায় সবাই চরের গরীব ঘরের ছেলে-মেয়ে। গরম কাপড়-চোপর নেই। ওদের খুব কষ্ট হচ্ছে।'

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আরা বেগম জানান, আগামী বছর যেন ওই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত না হয় সে জন্য টিন সেড স্কুল ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য এলাকার লোকজন ১০ শতাংশ জমির ব্যবস্থা করে দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

/জেবি/একে/

 


 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।