সকাল ১০:০৫ ; সোমবার ;  ২২ জুলাই, ২০১৯  

‘জমি চাই না, নাগরিকত্ব চাই’

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মোয়াজ্জেম হোসেন, ছিটমহল থেকে॥

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার পানিশালা ও লতামারী ছিটমহলের বাসিন্দা আশরাফ আলী সিদ্দিকী, আবু বক্কর সিদ্দিক, মামুন হোসেন, আসমানী বেগম। তাদের মতো আরও অনেকেই লালমনিরহাটের অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতীয় ৫৯ ছিটমহলে জন্ম থেকেই বেড়ে ওঠেছেন। তাদের চোখে-মুখে স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে চাকরি করার।

কিন্তু সে স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। কারণ তারা বাংলাদেশি নন। ভারতীয় বাসিন্দা। তবে বসবাস ছিটমহলে। এখানেই থেমে যায় এদের মতো শত শত শিশু-তরুণের স্বপ্নযাত্রা। নিজ দেশে পরবাসী জীবনযাপন করেন তারা।

সম্প্রতি পানিশালা, ভোটবাড়ী, বাগডোগড়া, ডারিকামারী, লতামারী, গোতামারী, বাঁশপ্যাচাই, বাঁশকাটা ছিটমহল পরিদর্শনে গেলে সেখানে বসবাসকারী মানুষদের মুখে মুখে একটাই দাবি ঘুরেফিরে শুনতে হয়। ‘জমি চাই না। নাগরিকত্ব চাই।'

ছিটমহলে বসবাসকারীদের যাযাবর হয়ে জীবনের ৬৭ বছর কেটেছে। তবুও তারা নতুন দিনের আশায় আছে। বয়স্কদের জীবনতো প্রায় শেষ। এখন উঠতি মানুষগুলো মৌলিক অধিকার দেবে ভারত সরকার- এটা তাদের প্রত্যাশা।

ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, ‘ছিটমহলের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করবেন আমরা সেই অপেক্ষায় আছি। তবে অধিকার আদায়ে আমাদের মুক্তির আন্দোলন চলছে, চলবেই।’

ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মইনুল হক বলেন, ‘দীর্ঘ ৬৭ বছর ধরে ছিটমহল বিষয়টি মীমাংসা হচ্ছে না। অতীতের চাইতে উভয় দেশের বর্তমান সরকার বেশ আন্তরিক মনে হচ্ছে। আমরা অধিকার চাই, নাগরিকত্ব চাই। আমাদের জমির প্রয়োজন নেই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লালমনিরহাট সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর আবু আইয়ুব প্রধান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোটের রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের কারণে উভয় দেশের ১৬২টি ছিটমহলে বসবাসকারী মানুষরা মৌলিক অধিকার থেকে আজও বঞ্চিত। যতদুর জানি, ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলেই ছিটমহলসহ উভয় দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।’    

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ছিটমহল মীমাংসার বিষয়টি এখন ভারত সরকারের হাতে। কারণ '৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছে। কিন্তু ভারতের সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।'

ভারত সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে উভয় দেশের ছিটমহলের হাজার হাজার মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করেন তিনি।

/এএ/

এ সংক্রান্ত আরও খবর-

 

কেমন আছেন ছিটমহলবাসী

বাংলাদেশের ভেতরেই বাংলাদেশি ছিটমহল চন্দ্রখানা

মুক্তির অপেক্ষায় ১৬২ ছিটমহলবাসী

১৬২টি ছিটমহলে সমীক্ষা শুরু

অপেক্ষার প্রহর গুনছে ছিটমহলবাসীরা

মমতাকে ১৬২টি গোলাপ উপহার দেবে ছিটমহলবাসী !

ছিটমহল বিনিময়ে আপত্তি নেই : মমতা

'স্থলসীমান্ত চুক্তি হলে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ছিটমহলবাসীদের ভোটার করা হবে'

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।