সকাল ০৯:৩৬ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

বেগম রোকেয়া দিবস আগামীকাল

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাণী

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও এই দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে রোকেয়ার জন্মস্থান রংপুরসহ সারাদেশে এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

নারীজাগরণ ও নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর তাঁর জন্মদিনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘বেগম রোকেয়া দিবস-২০১৪’ উদযাপিত হয়। নারী ও সমাজ উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখার জন্য ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০১৪’ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নারীজাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন দেশে নারী শিক্ষা প্রসারে যে ঐতিহাসিক অবদান রেখে গেছেন তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীতে এ মহাদেশে মুসলিম সমাজে ধর্মীয় রক্ষণশীলতা, শিক্ষার অনগ্রসরতার বেড়াজাল ও বন্দিত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ নারীসমাজকে অশিক্ষার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে অতুলনীয় অবদান রাখেন।

তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া স্বপ্ন দেখেছিলেন শিক্ষার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক বৈষম্য থেকে দূর করে তাদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। তাঁর প্রদর্শিত পথ বেয়ে আজ দেশে নারী শিক্ষার বিপ্লব ঘটেছে, বেড়েছে নারীর ক্ষমতায়ন। তা সত্ত্বেও নারীর মর্যাদা, অধিকার ও স্বাবলম্বিতা অর্জনে আরও অনেক দূর যেতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বেগম রোকেয়ার আদর্শ ও অনুপ্রেরণায় এদেশে সকল পর্যায়ে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠাসহ নারীর ক্ষমতায়নের পথ সুগম হবে ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অনগ্রসর নারীদের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া শুধু একটি নাম নয়, তিনি ছিলেন নারী শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান। ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন রক্ষণশীল সমাজের শৃঙ্খল ভেঙ্গে বেগম রোকেয়া নারী জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেন শিক্ষার আলো। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মধ্য দিয়ে পশ্চাৎপদ নারীসমাজকে আলোর পথ দেখান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভা প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর বলিষ্ঠ অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, বিচারপতি, সচিব, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং পুলিশ ও আনসারবাহিনীর বিভিন্ন পদে নারীরা সাফল্যের সাথে কাজ করছেন। নারীদের এই উন্নতি বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নেরই সফল ধারাবাহিকতা।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আশা করেন, পদকপ্রাপ্ত গুণীজনেরা বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশের অনগ্রসর নারীদের উন্নয়নে নিজেদের আরও সম্পৃক্ত করবেন।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এদেশের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত। তাঁর কর্মময় জীবন ও আদর্শ নারী সমাজকে আরো উদ্যমী ও অনুপ্রাণিত করবে।

নারীমুক্তির বাণী বহন করতে গিয়ে বেগম রোকেয়াকে সমাজের গোঁড়া রক্ষণশীলদের প্রচন্ড আক্রমনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন কর্তব্যকর্মে অদম্য ও অবিচল। বেগম রোকেয়া তাঁর ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে নারীর প্রতি সমাজের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের মূলে আঘাত হেনে ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া পদক প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিধি থাকবেন।

বাংলা একাডেমি একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করবে। একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বিকেল চারটায় এই বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ‘রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ও নারী আন্দোলন’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করবেন বিশিষ্ট গবেষক, অধ্যাপক মালেকা বেগম।

এদিকে, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে আগামিকাল মঙ্গলবার থেকে তিনদিন ব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সকাল নয়টায় জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়া স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। অনুষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে- মিলাদ-মাহফিল, আলোচনাসভা, রক্তদান ও রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা এবং তিনদিন ব্যাপি ঐতিহ্যবাহি ‘রোকেয়া মেলা’।

বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ০৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন এবং ১৯৩২ সালের একই তারিখে কলকাতায় মৃত্যু বরণ করেন। খবর বাসসের।

/এফএস/এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।