রাত ১০:২০ ; শনিবার ;  ২০ এপ্রিল, ২০১৯  

শাটল ট্রেনের বগি বাজিয়ে শিল্পী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

তাসমিয়া আফরোজ তৃষা।।

চ্যানেল আই'য়ের আয়োজনে গত ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় কোকাকোলা-চ্যানেল আই ব্যান্ড ফেস্ট-২০১৪। ব্যান্ড ফেস্টে অংশ নেয় দেশের সামনের সারির ২০টি ব্যান্ড দল। এর মধ্যে ছিল এলআরবি, অবসকিউর, প্রমিথিউস, আর্ক, চিরকুট, ব্ল্যাক, আর্টসেল ও জলের গান। এসব রথী মহারথীদের সাথে এই ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছিল চট্টগ্রামের জনপ্রিয় ব্যান্ড তীরন্দাজ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্ম নেয়া এই ব্যান্ড দল তরুণ প্রজন্মের মাঝে উচ্ছ্বাস ছড়াচ্ছে, বাড়াচ্ছে হার্টবিট। কথা হল তীরন্দাজের ব্যান্ড লিডার শান শাহেদের সাথে।

‘নতুন ও ট্যালেন্টেড ব্যান্ডের যোগ্যতা যাচাইয়ে আইয়ুব বাচ্চু ভাই সবসময় সুযোগ করে দেন। তিনিই এই ফেস্টিভ্যালে আমাদের সুযোগ করে দিয়েছেন। এটাই ছিল আমাদের ব্যান্ড এর প্রথম টিভি শো।‘ বলছিলেন তীরন্দাজ ব্যান্ড লিডার শান শাহেদ। কি রকম লেগেছে জিজ্ঞাসা করলে এক গাল হেসে জবাব দিলেন,’এক কথায় অসাধারণ। স্বপ্ন পূরণের প্রথম সিঁড়িতে পা দিয়েছি বলতে পারেন। সবার কাছ থেকে এত উৎসাহ পাব, সবাই আমাদের গানে নাচবে, আমাদের গান উপভোগ করবে এতটাও আশা করিনি। শুধু স্বপ্নই দেখেছিলাম। তাছাড়া এত বড় বড় সব শিল্পীদের মাঝখানে দর্শক আমাদেরকে এত উৎসাহের সাথে গ্রহণ করেছে আমরা সবাই খুশি। দর্শক ছাড়া তো আমরা কিছুই না।

তীরন্দাজের যাত্রা শুরু ২০০৭ সালে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের বগি বাজিয়ে গান করতে করতে গানের প্রতি ভালবাসা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। সেই ভালবাসা থেকেই গানের দল তৈরি। প্রথমে দলে মেম্বার ছিল পাঁচ জন। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ৬ জনের দলটিতে এখন ভোকালে রয়েছে শান শাহেদ, লীড গীটারে মাইনু, কী বোর্ডে টুটুল, ব্যাস-এ রাফি আর ড্রামসে অভি।

এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বেগ পেতে হয়েছে তীরন্দাজের। ২০০৯ সালে সানি আর ২০১৩ সালে ইমতিয়াজের আকস্মিক মৃত্যুর পরেও থেমে থাকেনি তাদের যাত্রা। যে স্বপ্ন তারা সবাই মিলে দেখেছিল সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে ধীরে ধীরে। তাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যাওয়া বন্ধুরাও হয়তো দেখছে তাদের এই জয়যাত্রা।

তাদের সাফল্যের পেছনে চবির শাটল ট্রেনের অবদান স্বীকার করতেও দেরি করলেন না শান। জানালেন, আমাদের অনুপ্রেরণা ওই শাটল ট্রেনই। ওখানেই গান শুনেছি, গান গেয়েছি। ক্লাসিকালের শিক্ষাটা নেই, তবুও গাইতে গাইতে গায়েন হয়েছি। আমাদের সবারই এই একই ইতিহাস। সব গানই শুনি। তবে প্রিয় ব্যান্ড এল আর বি, ওয়ারফেজ, শিরোনামহীন, ব্লাক, আর্টসেল আর দেশের বাইরের মেটালিকা, স্করপিয়ান্স, গানস, ড্রীম থিয়েটার। ফেস্টিভালে গেয়েছিলাম আমাদের বাহার আহমেদে লেখা ২টি গান জাগো বাংলাদেশ আর পাগলাটে এক গান। আমাদের নতুন একটা ট্র্যাক রিলিজ হয়েছে— মাক্সেল ভাইয়ের লেখা রংধনু। তাছাড়া এ বছর আমাদের অ্যালবাম বের হবার কথা আছে। ইতোমধ্যে রেকর্ডিং হয়ে গেছে কয়েকটির।

তরুণদের প্রতি কোনও বার্তা আছে? প্রশ্নের জবাবে হেসেই দিলেন শান শাহেদ। আমি কি বুড়ো নাকি? আমিই তো তরুণ। হো হো করে অনেকক্ষণ হেসে থামলেন এক পর্যায়ে। প্রচুর গান শুনতে হবে, গানের চর্চা করতে হবে, ভালোবেসে গান করতে হবে, সর্বোপরি ভাল মানুষ হতে হবে। ভালো মানুষ না হলে গান করা যায় নাকি আবার?গান তৈরির প্রবণতা রাখতে হবে। উদ্দেশ্য যদি হয় প্রচার ও হাততালি পাওয়া তবে ঝরে যেতে সময় লাগবে না।

গানের বাজার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে একরাশ আক্ষেপ ঝড়ে পড়ল তার মুখ থেকে— কি আর বলব। পাইরেসির বাজার। কেউ নতুনদের নিয়ে কাজই করতে চায় না। কোনো লাভ আসে না, অ্যালবাম হিট হয় না। ভাল কাজ হলে অ্যালবাম বিক্রি হবেই। অপেক্ষা তো করতেই হয়। শিরোনামহীন, নেমেসিসের গান সবার মুখে মুখে। একদিনে কারোর নাম হয়নি। আমাদের নিজেদের প্রমাণের তো সুযোগ করে দিতে হবে। সেই সুযোগ তো পাচ্ছি না। আরো অনেক ভালো ভালো ব্যান্ড আছে, কিন্তু তারা সুযোগ পাচ্ছে না বলে উঠতে পারছে না। তার উপরে আমরা থাকি চট্টগ্রামে। সুযোগ তো আরও কম। সবার কাছে অনুরোধ থাকবে, প্লীজ ফোকাস চট্টগ্রাম। যখন বিদায়ের সময় এলো। লক্ষ্য করলাম মন একটু খারাপ করে আছেন শান। জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, পরিবার থেকে আমরা তেমন সাপোর্ট পাইনি। এখন পাচ্ছি টিভিতে দেখানোর পরে। বাইরে থেকে সাপোর্ট পেলে পরিবার ও সাপোর্ট করে। আমাদের সাপোর্টটা বড় কম। পড়ালেখার পাশাপাশি গান করি। পড়ালেখা দিয়ে উতরে যাই, কিন্তু আমাদের স্বপ্ন সাপোর্টের অভাবে পেছনে পরে থাকে।

গভীর দীর্ঘশ্বাস শান শাহেদের। তবুও আত্মতৃপ্তি তারা কিছু করতে পারছেন। অনুরোধ করলাম একটা গানের। বেঞ্চ বাজিয়ে ধরলেন আর্টসেলের শহীদ সরণি গানটি। ‘দুটো মানচিত্র এঁকে, দুটো দেশের মাঝে.. .. ..’

তীরন্দাজের ফ্যানপেজ: https://www.facebook.com/teerondaz

এমবিআর

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।