সকাল ১০:২০ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপলের কর্পোরেট অফিস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

লিপটন কুমার দেব দাস।।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন থেকে নেমে আসছেন স্টিভ জবস, ল্যারি পেজ এবং সারগে ব্রিন। অটো রিক্সায় উঠে তারা জীববিজ্ঞান অনুষদের পাশের একটি পার্কে প্রবেশ করলেন। সিলিকন ভ্যালির সঙ্গে এই জায়গার কোনও মিল নেই। এ যেন সিলিকন ভ্যালি থেকেও সুন্দর আর প্রকৃতির মায়বি এক কন্যা সন্তানের সবুজ আঁচলে ঘেরা পার্ক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইটি পার্ক।

বর্ণনাটা কাল্পনিক হতে পারে। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৃতপক্ষেই তৈরি হতে চলেছে দেশের প্রথম আইটি পার্ক। এই পার্কে থাকবে মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপলসহ বিশ্বের নামিদামি সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট অফিস।

আইটি পার্কের জন্য ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৫ একর জমিও বরাদ্দ করে ফেলেছে। প্রায় একশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে আইটি পার্কটি। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শীঘ্রই শুরু হবে এর নির্মাণ কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জীববিজ্ঞান অনুষদের পাশের পাঁচ একর জায়গা এরই মধ্যে এজন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হতে চলেছে দেশের প্রথম আইটি পার্ক। এই পার্কে থাকবে মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপলসহ বিশ্বের নামিদামি সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট অফিস।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি করা হবে একই ধরনের আইটি পার্ক। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ই পাচ্ছে দেশের প্রথম আইটি পার্কের মর্যাদা। এছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হল— জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসাবে পার্কটি তৈরি করা হচ্ছে। পার্কটি তৈরি হলে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি পার্ক তৈরির ক্ষেত্রে এটি পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবে। উল্লেখ্য, এর আগে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে সম্পূর্ণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে ওয়াই ফাই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়।

২০১৪ সালের ১৫ ও ১৬ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ইরান-বাংলাদেশ যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সভায় বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক একটি প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে বাংলাদেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি পার্ক স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সে প্রস্তাব মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে এবং সাতশ কোটি টাকা ব্যয়ে আইটি পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আবদুল্লাহ আব্বাস নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী আইটি পার্ক নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। তিনি জানালেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম আইটি পার্ক তৈরি হতে যাচ্ছে। এটা তো আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।' শুধু আব্বাস নয়, তার মতো চবি’র ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের আইটি পার্কের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। যেন পুরো চবি'ই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে আইটি পার্কের জন্য।

/এমবিআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।