সকাল ০৯:৩৭ ; রবিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৮  

যেসব ভবিষ্যদ্বাণী ফলেনি!

প্রকাশিত:

নূসরাত জাহান॥

আশির দশকের সায়েন্স ফিকশন সিনেমাগুলোতে দেখানো হতো ২০০০ কিংবা ২০১০ সালের দিকে মানুষ মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ গ্রহ থেকে ওই গ্রহে যাচ্ছে। আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে একগাদা হোভারক্রাফট তথা উড়ন্ত যান।

কিন্তু ২০১০ পেরিয়ে ২০১৪ সালও শেষের পথে। সত্যি হয়নি কোনও ফিকশন। বিভিন্ন সময়ে প্রযুক্তি নিয়ে এমন আরও অনেক ভবিষ্যদ্বাণীই করেছিল মানুষ। এর মধ্যে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী ছিল নেতিবাচক, তথা মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি যে তাদের চিন্তার দৌড় কতটা সীমাবদ্ধ ছিল। তেমনি কিছু আগাম কথার উল্টো পরিণতি শোনা যাক এবার।

"মানুষ তাদের বাড়িতে কম্পিউটার রাখতে চাইবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ দেখছি না।" ১৯৭৭ সালে এ কথা বলেছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক মেইনফ্রেম কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কেন ওলসন।

"আমরা কখনওই ৩২ বিটের অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করব না।" কথাটা বলেছিলেন বিল গেটস। যার প্রতিষ্ঠান এখন ৬৪ বিটের অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করছে।

"লি ডিফরেস্ট বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বলে চলেছেন যে, মানুষের কণ্ঠ চাইলে আটলান্টিকে ওপারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই ধরনের আজগুবি ও ইচ্ছাকৃত ভুয়া তথ্য দেখে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে এবং তার কোম্পানির শেয়ার কিনছে।" মার্কিন রেডিও টেলিফোন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা লি ডিফরেস্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৯১৩ সালে এ কথা বলেছিলেন একজন মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি।

আবার এই লি ডিফরেস্টই ১৯২৬ সালে বলেছিলেন, "মাল্টি স্টেজ রকেটে চড়িয়ে তাকে চাঁদের নিয়ন্ত্রিত মাধ্যাকর্ষণযুক্ত কক্ষপথে পাঠানো, জীবিত অবস্থায় অবতরণ, গবেষণা এবং আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে- পুরো বিষয়টা কেবল জুলভার্নের গল্পেই মানায়। আমি বেশ চড়া গলায় বলতে পারি মানুষ ভবিষ্যতে যতই উন্নতি করুক না কেন, এমনটা কখনই সম্ভব হবে না।"

"কোনও রকেট কখনই পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করতে পারবে না" -এমন এক মন্তব্য প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল নিউইয়র্ক টাইমসে। সালটা অবশ্য ১৯৩৬।

"বাতাসের চেয়ে ভারি কিছু উড়বে, এমনটা ভাবা অবাস্তব ও অপ্রয়োজনীয়।" বি‌‌‌শিষ্ট একজনের এমনটা ঘোষণা দেওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই বিমান উড়িয়েছিলেন রাইট ভাতৃদ্বয়।

"এর চেয়ে বড় বিমান আর কখনই তৈরি করা সম্ভব হবে না।" ১০ আসনের দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমান তৈরির পর এমনটা বলেছিলেন বো‌‌‌য়িংয়ের একজন প্রকৌশলী।

"এটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বোকামি। বোমাটা কখনই বিস্ফোরিত হবে না। আমি একজন বোমা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলাপ করেছি।" দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যাটম বোমা প্রসঙ্গে কথাটি বলেছিলেন ওই সময়কার মার্কিন সেনাপ্রধান উইলিয়াম ডি লিহাই।

"আমেরিকানদের টেলিফোন দরকার। আমাদের নয়। আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে ডাকপিয়ন আছে।" ১৮৭৮ সালে এ কথা বলেছিলেন ব্রিটিশ পোস্ট অফিসের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার স্যার উইলিয়াম প্রিস।

"বিশ্বে ফটোকপি মেশিনের বাজার আছে বড়জোর পাঁচ হাজার পিসের।" জেরক্স -এর আবিষ্কারককে এ কথা বলেছিল আইবিএম। এ জন্য তারা এর উৎপাদনেই যায়নি।

"টেলিভিশন বেশিদিন টিকবে না। এটা প্যান -এর মধ্যে ফ্ল্যাশ হয়ে যাবে।" রেডিও এডুকেশনাল ব্রডকাস্টের অগ্রদূত ম্যারি সমারভিল কথাটি বলেন ১৯৪৮ সালে।

একই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করেন ড্যারিল জানুক নামের এক বিখ্যাত প্রযোজক। তিনি বলেন, "প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই টেলিভিশন বাজার হারাবে। কারণ লোকে প্রতিরাতে একটা প্লাইউডের বাক্সের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যাবে।"

/এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।