সকাল ০৯:২১ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

নির্যাতিত নারীর ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার নারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার একটি হোটেলে ‘পারিবারিক ও যৌন সহিংসতার শিকার মেয়েদের বিচারের অধিকার’ শীর্ষক একটি কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান বিচারপতি এ আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক উইমেন জাজেস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ উইমেন জাজেস অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা কোনও স্থানিক সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ সমস্যার সমাধানে শুধু আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করলেই চলবে না, এর জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ও সচেতনও হতে হবে। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, নারী নির্যাতন বন্ধে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের দরকার। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ-রাষ্ট্র সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়নের কারণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী সবাই নারী। তৈরি পোশাক খাতের ৮০ ভাগ শ্রমিকই এখন নারী। এসব কারণে প্রধান বিচারপতি নির্যাতিত নারীর ন্যায় বিচার প্রাপ্তির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের সংবিধান নারীদের সমান অধিকার দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক আইনগুলোতেও বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। নারীরা যেন সুবিচার পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, সংবিধান নারী-পুরুষকে সমান অধিকার দিলেও অশিক্ষা, দারিদ্র্য বাংলাদেশের নারীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা। এ দেশের সহিংসতার শিকার একটি মেয়েকে থানার পুলিশ থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলা করতে হয়। পদে পদে সবাই বোঝানোর চেষ্টা করে যেন মেয়েটাই দায়ী।

যৌন নির্যাতিত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ নেই—উল্লেখ করে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, নির্যাতিত নারীর বিচার পেতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন আদালত। এ ধরনের কর্মশালা এতে সহায়ক শক্তি বলে তিনি মনে করেন।


 

/এমবিআর/এফএ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।