রাত ০৮:৩৯ ; মঙ্গলবার ;  ১৬ জুলাই, ২০১৯  

লম্বা হলেও বুদ্ধি কিন্তু হাঁটুতে নয়

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

দেবশ্রী ভৌমিক।।

আশা যার নাম তার উপর কি ভরসা রাখা যায়? সৃষ্টিকর্তা হয়ত আশার উপর ভরসা করেছেন বলেই আজ তার পদচারণা সুদূর উইকিপিডিয়া পর্যন্ত।

লম্বা মানুষের বুদ্ধি নাকি হাঁটুতে থাকে, কিন্তু ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার এই লম্বা মানুষটির বুদ্ধি হাঁটুতে নেই। লম্বা-খাটো সব মানুষের দেহের উপরে যে মাথাটি থাকে আশার মাথাও সেখানে।

লম্বা দেহের অধিকারী এই মানুষটির নাম জাহিদ হসাইন খান আশা। নাম যেমন কাজ ও তেমন। সকলের আশা রেখেছেন তিনি।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গার নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজে তার পড়াশুনা। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণের মাধ্যমে আশা চট্টগ্রামে তার কৈশোর জীবনের অধ্যায় পার করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার কারণে ঢাকা শহরে আগমন। সহসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন তিনি। এভিএসন সিকিউরিটিজ অফ বাংলাদেশের উপর মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

ক্লাশে খুব মনোযোগী ছাত্র আশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেন। কিন্তু তাই বলে যে শুধু পড়াশুনা করেই ক্যাম্পাস-লীলা সাঙ্গ করেছেন তা কিন্তু নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই যুক্ত হয়ে যান ম্যাথ অলিম্পিয়াড-এর সাথে। এর পর আর বসে থাকা নয়, যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক এর সাথেও।

আরেকটু সময় পার হলে যুক্ত হলেন সাংবাদিকতায়। হাত দিলেন অনুবাদ এবং স্ক্রিপ্ট লেখার কাজে। না এভাবে বাংলাদেশের মধ্যে কাজ করে আর কত দিন। এবার একটু বাংলাদেশের বাইরের বাংলাদেশকে নিয়ে কাজ করা যাক।

এ ভাবনা থেকেই উইকিপিডিয়াতে নাম লিখিয়েছেন আশা। ২০০৯ সালে তিনি মুক্ত বিশ্বকোষের কাজ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত বাংলা এবং ইংরেজি উইকিপিডিয়াতে তিনি ৫ হাজারেরও বেশি ভুক্তি সম্পাদনা করেছেন। এই কাজের জন্য উইকিপিডিয়া তাকে ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মনোনীত করে। উইকিপিডিয়া তার কর্মসূচি বিভিন্ন দেশে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ জন প্রতিনিধির মধ্যে তাকে দূত নির্বাচন করে। বর্তমানে তিনি ক্যাম্পাস দূত হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত।

গণিত উৎসব, শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস, ই-এশিয়া, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, রবো এক্সিবিশন— কিসে নেই তার পদার্পণ। তাকে সর্ব ঘাটের কাঁঠালি কলা বললে হয়ত খুব একটা ভুল বলা হবে না।

আশার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছে রিপলিজ বিলিভ ইট অর নট। তাঁর লেখা আইটি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সিএনএন অনলাইনে।

সকলের আশা বর্তমানে দেশের স্বনামধন্য পত্রিকা এবং টিভি মিডিয়াতে নানা ধরনের কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে আশা বলেন— ‘আমার ইচ্ছা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পিএইচডি করার'।

'অনেক তো করলেন আর কত করবেন?' 'আরে, আমি যে পরিমাণ অলস, আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না।' অট্টহাসির সাথে যেন মিশে গেল একরাশ বিষণ্ণতা। আশা যতই হতাশার কথা বলুন না কেন, তার অতীত কিন্তু হতাশার কথা বলে না। ভবিষ্যতও বলবে না নিশ্চয়ই।

এমবিআর

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।