সকাল ১০:৪৬ ; মঙ্গলবার ;  ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯  

বিবাহিত কিশোরীদের অর্ধেকই স্বামীর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

বাংলাদেশে কিশোর বয়সী নারীর যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার হার সর্বাধিক, কেননা এ দেশে বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে প্রতি দুইজনে একজনই স্বামীর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এ ছাড়া বাল্যবিবাহের কারণে প্রতি বছর ঝরে যায় প্রায় ৫০ লাখ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের কিশোরী শিক্ষার্থী।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত 'জোরপূর্বক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা' শীর্ষক এক আলোচনাসভায় বক্তারা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত এ তথ্য উত্থাপন করেন। আলোচনাটির আয়োজন করে উইমেন জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক।

আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকায় নিযুক্ত কানাডিয়ান হাই কমিশনার ক্রিশ্চিয়ান টারডিফ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএফপিএ-এর প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা মাটাভেল পিচ্চিন, ইউএন এর নারী বিষয়ক প্রতিনিধি ক্রিশ্চিয়ান হানটার, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ লুইস মুভনো, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সচিব ফরিদা ইয়াসমিন ও সমন্বয়ক আঙ্গুর নাহার মন্টি।

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রথম আলোর সাংবাদিক মনসুরা হোসেন।

তিনি বলেন, “বাল্যবিবাহের এই ক্ষতিকর প্রভাবের কথা সবাই জানেন, ২০১১ সালের জনমিতিক উপাত্তে পাওয়া যায় বাংলাদেশে ৬৬ শতাংশ নারীর ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। প্রতি ৩ জনে ১ জন নারী ১৯ বছর হওয়ার আগেই গর্ভধারণ করেন।”

ক্রিশ্চিয়ান টারডিফ বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জনমনে সচেতনতা তৈরি করেতে ভূমিকা রাখতে পারে। গণমাধ্যম অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার বদলে শিক্ষিত করার বিষয়ে মানুষকে প্রভাবিত করতে অগ্রসর ভূমিকা রাখতে পারে।

আর্জেন্টিনা মাটাভেল পিচ্চিন বলেন, “সামাজিক পরিবর্তনের জন্য চাই সামাজিক বিপ্লব। এ ধরণের পরিস্থিতি রাতারাতি পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে না।”

ফরিদা ইয়াসমিন মনে করেন বাল্য বিবাহ বিষয়ে জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লুইস মনভো বলেন, “গণমাধ্যম, সরকার, উন্নয়ন অংশীদার- এরা কেউই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে একা কোন কিছু করতে পারবে না। এ জন্যে প্রয়োজন একযোগে কাজ করা।”

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি তার বক্তব্যে বলেন, “জোর করে দেওয়া বাল্যবিবাহ বাংলাদেশের সামনে একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত আইনে প্রচুর ফাঁকফোকর রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নতুন আইনের সব দিক বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।


 

/ইউআর/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।