রাত ০৯:৩২ ; বৃহস্পতিবার ;  ২০ জুন, ২০১৯  

১৬ নয়, ১৮ জয়যুক্ত হয়েছে

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

মেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারণে ১৬ বছর নয়, ১৮ বছর বয়সই জয়যুক্ত হয়েছে। বলেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক আয়োজিত বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্ব বিয়ে প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম এ ধরনের কোনও মুভমেন্ট আয়োজন করা হল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশে কোনও আইন হওয়ার আগে সাধারণ মানুষকে তা জানানো হয়। ফলে মানুষ সে আইন সম্পর্কে তাদের মতামত জানাতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে তেমন প্রচার প্রচারণা খুব একটা হয় না। তবে এবার মেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারণ নিয়ে আইনের আগেই এক ধরনের বিতর্ক শুরু হয়েছে। শহর থেকে শুরু করে গ্রামের চায়ের দোকান পর্যন্ত আলোচনা চলছে এ বিষয়ে। সেসব আলোচনা থেকেই বলা যায় ১৬ নয়, ১৮ বছরই জয়যুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেরিতে হলেও আশা করছি এ নিয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন তৈরি হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন মেয়েরা ১৮ বছরে কেন, ৩০ বছরেও বিয়ে করতে চায় না। তারা পড়াশোনা শেষে রোজগার করে পরিবারে অবদান রাখতে চায়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণমাধ্যমকর্মী মানসুরা হুসাইন। এ আয়োজনের সমন্বয়ক আঙ্গুর নাহার মন্টির সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কানাডা হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ক্রিশ্চিয়ান টারডিফ, ইউএনএফপিএ-র বাংলাদেশ প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা ম্যাটাভেল পিকিন, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ লুইস মোভনো, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরদিা ইয়াসমিন প্রমুখ।

সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় ইস্যু। একে আইনগতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। তিনি সমাজের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার এবং মিডিয়াকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

ক্রিশ্চিয়ান টারডিফ বলেন, বাল্যবিবাহ উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা। এটি নিরসনে সরকারের নেওয়া ২০১৫ পরবর্তী এজেন্ডাকে আমরা সমর্থন করি। এক্ষেত্রে বেসরকারী এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর ভূমিকা রয়েছে। বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ে বন্ধ করা একটি অত্যন্ত জটিল প্রচেষ্টা। এটা করতে সমাজ, সংস্কৃতি এমনকি পরিবারের অন্য সদস্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়। তাই এটি এককভাবে দূর সহজ নয়। এর জন্য নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে।

ইউএনএফপিএ-র বাংলাদেশ প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা ম্যাটাভেল পিকিন বলেন, বাল্যবিবাহ রোধ একটি সামাজিক মূল্যবোধ। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক বিপ্লব। এক রাতে বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে সামাজিক পরিবর্তন আসবে না। এ পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, যেসব স্থানে সরকার এমনকি উন্নয়ন সহযোগীরা পৌঁছাতে পারে না, গণমাধ্যমে কণ্ঠ সমাজের সেসব স্থানেও পৌঁছাতে পারে।

ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ লুইস মোভনো বলেন, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সরকার, গণমাধ্যম এবং উন্নয়ন সহযোগীদের একসঙ্গে ভূমিকা রাখতে হবে।

ইউএন উইমেন-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্রিস্টিন হান্টার গণমাধ্যমের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বাল্যবিবাহ রোধে বালিকা, তাদের মা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলুন। তাদের স্বপ্নের কথা জানুন। তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করুন।


 

/জেএ/এফএ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।