দুপুর ০২:১৯ ; রবিবার ;  ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮  

'নীলক্ষেত মোড় অামাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে'

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

পুঁজি মোটে ৪০ হাজার টাকা, তাও নগদ নয়। ধার করা ওই টাকা দিয়ে কেনা হলো কম্পিউটার। কেবল মাত্র একটি কম্পিউটারকে সম্বল করে 'উদ্যোক্তা' হওয়ার স্বপ্ন দেখে বিশাল এক দুঃসাহস দেখিয়ে ফেলেছিলেন প্রকৌশলী রাফেল কবীর। একটি কম্পিউটার অার যুক্তরাষ্ট্র থেকে অানা সফটওয়্যার দিয়েই শুরু করলেন ই-মেইল সেবাদানের কাজ।

অথচ তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই শহর ঢাকার 'নীলক্ষেত মোড়' -এর প্রতি। ওখানকার পুরনো বইয়ের দোকানে একদিন ম্যাগাজিন ঘাঁটতে ঘাঁটতে পেয়ে গেলেন বিশ্বখ্যাত 'টাইম' সাময়িকী। ওই সাময়িকীর একটি স্টোরি তার ভেতরের উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছাকে উসকে দেয়। চট করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেন তাকে 'উদ্যোক্তাই' হতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিএনএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রাফেল কবীর বললেন, উদ্যোক্তা হতে চাইলে কাজের প্রতি অাবেগ, ভালোবাসা থাকতে হবে। কাজটা ভালোভাবে বুঝতে পারা , ভবিষ্যত গন্তব্য বা কাজটা কোন দিকে যাচ্ছে বা যাবে তাও বুঝতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে চলতে হবে। পুঁজি বা নগদ টাকা না থাকা কোনও সমস্যা নয়। উদ্ভাবনী 'অাইডিয়া'ই পুঁজি নিয়ে অাসবে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হিটলার এ. হালিম

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটি জানতে চাই।

রাফেল কবীর: ছোটবেলা থেকেই ব্যবসা করার শখ ছিল অামার। ম্যাট্রিক পাশ করার পরই ব্যবসা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার মা-বাবার স্বপ্ন ছিল আমাকে প্রকৌশলী হতে হবে। তাদের স্বপ্ন পূরণে আমি প্রকৌশলীও (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, বুয়েট) হলাম। ফাইনাল পরীক্ষার শেষ দিন আমি পরিবারে জানালাম, 'তোমাদের স্বপ্ন ছিল আমাকে ইঞ্জিনিয়ার বানানো, আমি ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেছি। এখন আমি ব্যবসা করতে চাই।'

সুকান্তের কবিতা লেখার মতো বা হিমুর হাঁটার মত আমিও ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলাম ব্যবসা করার জন্য।

১৯৯১ সালের কথা। আমি তখন বুয়েটে পড়ি। একদিন নীলক্ষেতে টাইম ম্যাগাজিনের একটি কপি দেখলাম। প্রচ্ছদ রচনা ছিল ‘এওএল অর ইন্টারনেট: হোয়াট ইজ দ্য ফিউচার?’ শিরোনামটা অামাকে টানল। বিষয়টি জানতে অাগ্রহী হলাম। ওই ম্যাগাজিন থেকেই আমি ইন্টারনেট দুনিয়া সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি।

ইন্টারনেট বুঝতে বুঝতেই তিন-চার মাস পার হয়ে গেলো। তখন এওএল ও কম্পিউসাব নামে প্রতিষ্ঠান ছিল যারা বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কিং সেবা দিত। ইন্টারনেট ধারণাটা তখনও নতুন। কিন্তু বাদ সাধল ব্যবসার এজেন্সি দেওয়া নিয়ে। ইন্টারনেটে কীভাবে আমি এক্সক্লুসিভ এজেন্সি দিব- কনসেপ্টটাই তো জানি না। এরপর এক ভদ্রলোকের সন্ধান পাই যিনি আমেরিকা থেকে লেখাপড়া করে এসেছেন। ইন্টারনেট চালু করবেন। গেলাম ওনার বাসায়। বাসাতেই ওনার অফিস ছিল। উনি আমার এক প্রশ্নে অবাক হয়ে বলেন, ‘আপনাকে দিয়ে হবে না, আপনি বরং আমারটা বিক্রি করেন’।

তার কথা শুনে ভীষণ আমি শকড হই। এমনিতে ছাত্র রাজনীতি করে করে এসেছি, মাথা গরম। এ কথা শুনে মাথায় রক্ত চড়ে গেল। ইন্টারনেট অামাকে বুঝতেই হবে।

আমার আমেরিকা প্রবাসী কয়েকজন বন্ধুর মাধ্যমে খোঁজখবর নিলাম। ওরা জানাল, এটার এজেন্টশিপ নেই, এটা অন্য জিনিস। পুরো বিষয়টা অাগে শিখতে হবে।

পড়াশোনা শুরু করলাম। পড়তে গিয়ে জানলাম এর জন্য একটা সফটওয়্যার লাগে। দাম ৩০০ ডলার। কিন্তু আনাব কীভাবে? এক বন্ধুর সহায়তায় আমি ৩০০ ডলার দিয়ে অামেরিকা থেকে সফটওয়্যার আনালাম। এবার তা ব্যবহারের পালা। কিন্তু আমি তো কম্পিউটার ব্যবহার জানি না। আমি কম্পিউটার কীভাবে চালু করতে হয় তাও জানতাম না। বুয়েটে পড়ার সময় কোনও দিন কম্পিউটার ক্লাসে যাইনি, এমনকি ছুঁয়েও দেখিনি। কিন্তু সফটওয়্যারটা শিখতে হলে কম্পিউটার লাগবে এবং তা কিনতে ও শিখতে হবে। কেনার জন্য অনেক টাকার দরকার। টাকা নাই!

একদিন বিজ্ঞাপন দেখলাম ডিএক্স-ফোর নামের একটা কম্পিউটার বিক্রি হবে। ওতে ছিল ৪ মেগাবাইট র‌্যাম, ৪০ মেগাবাইট হার্ডডিস্ক। দাম ৪০ হাজার টাকা।

মার কাছে টাকাটা চাইলাম কম্পিউটার কেনার জন্য। মা তখন এত টাকা দিতে পারেননি। এক বন্ধু তখন একটি কোম্পানি থেকে পার্সোনাল লোন হিসেবে তিন বছরে শোধ করার শর্তে আমাকে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করে দেয়। মার কাছ থেকে নিলাম ১০ হাজার টাকা। কম্পিউটার কিনে ওই সফটওয়্যার শিখতে আমার সময় লাগল ছয় মাসের মতো।

তারপর রাউটার আনালাম। বাসার স্টোর রুমে রাউটার বসালাম। নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে ইন্টারনেট বিক্রিতে নামলাম। শুরুর দিকে আমিই ছিলাম অফিসের একমাত্র লোক। পিয়ন, দারোয়ান সব অামি।

কিন্তু কেউ তো ইন্টারনেট কেনে না। কিনবে কি কেউ অামাকে চেনে না, চিনতে চায়ও না। যোগাযোগ করলে জানিয়ে দেয়, ইন্টারনেট তাদের লাগবে না।

এদিকে অামিও বড় কর্তাদের কাছে পৌঁছতে পারি না। যাদের কাছ পর্যন্ত যেতে পারি তাদের দিয়ে অামার কোনও কাজ হয় না।

আমি নতুন পদ্ধতি ধরলাম। ঢাকা শহরের বড় বড় অফিসের ফ্যাক্স নাম্বার যোগাড় করলাম। সবাইকে ফ্যাক্স করলাম। সাড়া দিলেন মাত্র একজন। অার তিনি হলেন ব্র্যাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদ। উনি আমার ফ্যাক্স পড়ে খুবই মজা পেয়েছিলেন। উনি ওনার সহকর্মী সালাউদ্দিন (ড. সালাউদ্দিন অাহমেদ, বর্তমানে ডেইলি স্টারের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক) সাহেবকে বললেন বিষয়টি দেখতে।

আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে সালাউদ্দিন সাহেব একদিন ফোন করে বললেন, "আবেদ সাহেব আমাকে বলেছেন আপনার বিষয়ে। কাল আপনার অফিসে আসতে চাই। আপনার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে অার বিষয়টি দেখার জন্য।"

মহা-বিপদে পড়লাম। অামার তো অফিস নাই! যেখানে বসি সেটা অামার খালুর অফিস। সারাক্ষণ হাজার হাজার মানুষে গিজগিজ করছে। মহা-সমস্যায় পড়লাম। পরে খালুকে বলার পর তিনি অামাকে একদিনের জন্য পুরো অফিস ব্যবহার করার সুযোগ দিলেন।

বিশাল অফিসে আমরা দুইজন বসে আছি। পুরো অফিস খালি। এগারোটার দিকে বিশাল এক প্রাডো গাড়িতে করে সালাউদ্দিন ভাই এলেন। সেদিন অনেক মজার কথা হলো। ওনাকে একঘণ্টা ধরে বিষয়টি বোঝালাম। এরপর ওনারা (ব্র্যাক) তিনটা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট নিলেন।

ব্র্যাক অামাকে ব্যবসা বড় করার প্রস্তাব দিল। কিন্তু অামার তো টাকা নাই। অামার কাছে জানতে চাওয়া হলো, ব্যবসা বড় করতে কত টাকা লাগবে? অামি জানালাম ২০-২৫ লাখ হলেই চলবে। ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ অামার উত্তর শুনে মনে হয় অবাক হলেন। তারা বললেন, এক কোটি টাকা নেন। অামি অত টাকায় রাজি হইনি।

অামার মোটের ওপর হাজার চল্লিশেক টাকার পুঁজি ব্র্যাক মূল্যায়ন করল ৫০ লাখ টাকা। তাদের অর্থায়নেই বড় পরিসরে হলো ব্যবসা। প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হলো নাম ব্র্যাক বিডি মেইল। এটা ১৯৯৫ সালের কথা। ওখান থেকেই নতুন করে শুরু।

বাংলা ট্রিবিউন: অাপনি একজন প্রকৌশলী হয়েও কেন প্রকৌশল পেশা বেছে নিলেন না? কেন উদ্যোক্তা হলেন?

রাফেল কবীর: অাসলে অামি সব সময় স্বাধীনভাবে কিছু একটা করতে চেয়েছি। ব্যবসাটাই ছিল অামার টার্গেট। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রকৃতিকভাবে কিছু গুণ হয়তো অামার ভেতর ছিল। এ কারণেই ব্যবসায় এসেছি।

তবে ব্যবসা করতে চাইলে সবার অাগে ব্যবসাটা বুঝতে হবে। বুঝতে হবে, কোথায় ব্যবসা আছে? ওটা যে অামি করতে পারব সেটাও বুঝতে হবে। সর্বপোরি নিজের ওপর অাত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।

অাবেগও থাকতে হবে। টাকা উপার্জনের জন্য ব্যবসা করলে সেই ব্যবসা কখনওই হবে না। টাকা হচ্ছে রেসিডিউয়াল ইম্প্যাক্ট, তোমার যদি ব্যবসা ভাল হয় টাকা এমনিই আসবে।

বাংলা ট্রিবিউন: কেন তথ্যপ্রযুক্তির খাতকেই বেছে নিলেন?

রাফেল কবীর: ওই যে টাইম ম্যাগাজিন। আমি সবসময় নতুন কিছু করতে চেয়েছি। ইন্টারনেট দিয়ে শুরু করেছি বলে এখনও যে ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে আছি তা তো নয়। সব সময় নতুনের অনুসন্ধান করেছি। যদি ট্রেন্ডটা ফলো করা যায়, তাহলে নতুন কিছু আসছে কি না তা বোঝা যায়।

বাংলা ট্রিবিউন: কেন আমাদের দেশে হার্ডওয়্যার শিল্প গড়ে উঠছে না? আর কতদিন আমাদের আমদানি নির্ভর দেশ হয়ে থাকতে হবে?

রাফেল কবীর: আমি এটাকে খারাপ ভাবে দেখি না। আমি যদি দেশের বাইরে থেকে কম্পিউটার কিনে এনে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তির গাড়ি তৈরি করতে পারি তাহলে সমস্যা কোথায়? আমার যে হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করতেই হবে এমন কোনও কথা নেই। যে জায়গায় আমার দক্ষতা আছে আমি যদি ওই জায়গায় কাজ করি তাহলে খারাপ কি? একজন তো আর সবকিছুতে ভালো হতে পারে না।

আর এই বিষয়টি মূলত চাহিদার উপর নির্ভর করে। আমাদের দেশে ভেতরে যদি ১০ লাখ ইউনিট হার্ডওয়্যারের চাহিদা কখনও সৃষ্টি হয় তাহলে এমনি এমনিই অামাদের দেশে হার্ডওয়্যার তৈরি শুরু হয়ে যাবে।

শেষ কথা হচ্ছে, আমি যা করছি তা আমি সঠিক পথে করছি কি না। ওটা থেকে লাভ করতে পারছি কি না। ওই লাভটা আমি দেশ, জাতি ও নিজের ভালো কাজের জন্য ব্যয় করছি কি না। এসব ঠিকঠাক হলে নতুন অনেক কিছুই করা সম্ভব।

বাংলা ট্রিবিউন: হালের তরুণরা কী তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রতি বিমুখ?

রাফেল কবীর: সমস্যা আসলে প্রযুক্তি শিক্ষা-বিমুখতায় নয়। মূল সমস্যাটা হচ্ছে, আমরা 'প্যাশন' তৈরি করতে পারছি না। আমাদের দেশের পাবলিক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোনওটাই কোনও শিক্ষার্থীর মধ্যে ওই 'প্যাশন' তৈরি করতে পারছে না। এখন সবাই মুখস্তের উপর নির্ভরশীল।

অামার মতে 'ভালো স্টুডেন্ট' কোনও মানদণ্ড নয়। শিক্ষা ব্যবস্থার বাজে দিক হলো, অামরা পড়াশোনায় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি মনোযোগী বা অাগ্রহ তৈরি করতে পারি না।

বাংলা ট্রিবিউন: আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বাজার নিয়ে কেন কোনও গবেষণা হয় না? মানুষের চাওয়াটা কেন গুরুত্ব পাচ্ছে না?

রাফেল কবীর: এর বড় কারণ হচ্ছে গবেষণার জন্য কোনও তহবিল নেই। কোনও উদ্যোক্তাই বাজার গবেষণার জন্য তহবিল দিতে ইচ্ছুক নন। অথচ ভালো ব্যবসা করার জন্য তার ব্যবসা, ব্যবসার ঝুঁকি থেকে শুরু করে সবকিছু জানা দরকার। গবেষণা থাকলে বিষয়টা বুঝতে সহজ হয়ে যায়।

তবে বেসরকারিভাবে এই সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। একমাত্র সিপিডি ছাড়া অন্যকোনও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেভাবে কাজ করছে না। সরকারি সেক্টরেরও তহবিল দেওয়া দরকার। আমার ধারণা স্লো হলেও এই সংস্কৃতি চালু হচ্ছে। কারণ এটা এখন অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার।

বাংলা ট্রিবিউন: আমাদের জানা আছে যে আপনি অনেক কিছুর সঙ্গেই জড়িত। দুই হাতে দশ হাতের কাজ সামলান। এক সঙ্গে এত কিছু কিভাবে করেন? এতে কী সবকাজের প্রতি সুবিচার করা হয়?

রাফেল কবীর: এটা শুধু ব্যবসা নয়, অামার জন্য একটা 'প্যাশন' এর জায়গা। কেউ কেউ আছে ৩০ আইটেম দিয়ে এক বেলা খেয়ে উঠছে। সে চাইছে বলেই সে এটা করতে পারছে। তেমনি আমারও এটা একমাত্র চাওয়া। আর এটা আমার জন্য লোড নয়। কাজ করে আমি কখনওই টায়ার্ড হই না। ফলে সব কাজই সমানভাবে করতে পারি।

বাংলা ট্রিবিউন: মোবাইল ব্যাংকিংয়েও আপনি আপনার ব্যবসায়ের শাখা প্রসারিত করেছেন। কেমন সম্ভাবনা দেখছেন এই খাতে?

রাফেল কবীর: আমার ধারণা, মোবাইলই হবে সবকিছুর ভবিষ্যৎ। এই ডিভাইস নিয়ে কাজ করার অনেক অপশন আছে। আমি ডিভাইসটির শুধু একটিমাত্র সেক্টর নিয়ে কাজ করছি। মোবাইল আসলে আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে। একটা সময় অার মানিব্যাগ থাকবে না। ডিভাইসই হবে আপনার পরিচয়।

যেমন, আগামী দিনে কোনও ডিজিটাল ডিভাইস, এসি, টিভির সঙ্গে রিমোট দেওয়া হবে না। মোবাইলে অ্যাপস তৈরি করে দেওয়া হবে। তখন মোবাইল দিয়েই সব কিছু চালানো যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী?

রাফেল কবীর: শিক্ষাক্ষেত্রে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তবে আমি ইতিবাচক চিন্তা করতে পছন্দ করি। তাই মনে করি এটাও ঠিক হয়ে যাবে। সময় লাগবে। বাংলাদেশ এমন একটি জায়গা এখানে কিছু রাজনৈতিক স্পর্শকাতর জায়গা ছাড়া বাকি প্রায় সবখানে আমরা চাইলেই সব করতে পারি।

বাংলা ট্রিবিউন: আগামী দিনে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় কোন দিকটা উজ্জ্বল হবে বলে আপনি মনে করেন?

রাফেল কবীর: এটা বলা শক্ত। এটা আসলে শিক্ষা ব্যবস্থার মতো। আমরা জানি না আসলে কোন দিকে, কোনটার কীভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। তবে আমরা যেহেতু সব সূচকে এগিয়ে আছি আমার ধারণা, আমরা এগিয়ে যাব। আমরা পিছিয়ে থাকব না।

তবে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বিষয়ে বলা যেতে পারে। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অাসলে সার্ভিসে। আমি চাইলেও এখন আর ফেসবুক বা মাইক্রোসফট বানাতে পারব না। তবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বা সেবা পরিচালনার জন্য এ বিষয়ক সেবার জন্য অ্যাপস বা সেবাধর্মী কিছু একটা বানাতে পারব। ওই সেবা দিয়েই ভবিষ্যৎ চলবে।

বাংলা ট্রিবিউন: দেশে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে আপনার উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাই।

রাফেল কবীর: এটাও শিক্ষার মতো একটা বিষয়। এই জায়গাটার বৈষম্য পূরণ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। গ্রামের দিকে বিদ্যুৎ নাই, কম্পিউটার নাই। থাকলেও তারা ব্যবহার করতে পারে না। কারণ কম্পিউটারের ব্যবহার ইংরেজিতে। দেশের সব জায়গায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছেনি। বৈষম্যের পেছনে এসব একটা বড় কারণ।

তবে নতুন যে প্রজন্ম অাসছে তারা এসব দিকে অনেক এক্সপার্ট। ১০-১৫ বছর পর এই বৈষম্যটা এমনিতেই কমে যাবে। জোর করে কমানোর মতো কিছু এখনও হয়নি।

বাংলা ট্রিবিউন: কেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন আপনি?

রাফেল কবীর: অামি একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। যে দেশে মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে এবং এর সুফল ভোগ করবে। প্রযুক্তি অামাদের উন্নত জীবন গড়তে সহায়তা করবে।

অার সার্বিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, জবাবদিহির একটা জায়গা থাকা উচিত। কারণ এই একটা জায়গা ছাড়া বাকি সব জায়গায় আমরা অনেক ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছি। সব সূচকে আমাদের দেশ খুব ভালোভাবেই এগুচ্ছে।

আমরা এখন ভালো ইন্টারনেট ব্যবহার করি। আরও ভালো করতে হবে। সর্বত্র একটা পরিবর্তন আসছে। কিন্তু সরকারের যে জবাবদিহির জায়গাটা ছিল সেটা এখন আর নেই। যেটা থাকার দরকার। পাঁচ বছর পর পর জনগণের হাতে এই ক্ষমতাটা দেওয়া উচিত যাতে জনগণ বিচার করতে পারে কাকে সে পছন্দ করবে।

এই ক্ষমতাটা জনগণের হাতে থাকলে অার সবকিছুতেই এমনি এমনই পরিবর্তন অাসবে।

বাংলা ট্রিবিউন: সময় দেওয়ার জন্য অাপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

রাফেল কবীর: বাংলা ট্রিবিউনকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

শ্রুতি লিখন: এম. এম. রহমান

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এইচএএইচ/

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।