সকাল ০৯:৪৫ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

অবহেলিতই থাকছে গর্ভবতী মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

উদিসা ইসলাম।। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন সিফাত (ছদ্মনাম)। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করে। যদিও তিনি এ সিদ্ধান্তে মোটেও খুশি ছিলেন না। সিফাত যখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখন চিকিৎসক তাকে স্বাভাবিক কাজ করতে বলেন। কিন্তু ততদিনে তো তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ফলে গর্ভধারণের বাকিটা সময় সিফাত অনেক বেশি হতাশাগ্রস্ত ছিল। যার কারণে চিকিৎসক তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বাড়ির পরিবেশে পরিবর্তন আনতে বলেছেন। ফলশ্রুতিতে সিফাত সাত মাসে সন্তানের জন্ম দেয়। এ কারণে তার সন্তানের প্রথম ছয় মাসে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। সিফাত এখানে একটি নামমাত্র। এমন হাজারও সিফাত বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে। নানা কারণেই বাংলাদেশে অপুষ্ট শিশু জন্ম গ্রহণের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রে মায়েদের ওপর মানসিক চাপ ও গর্ভবর্তী থাকার সময় তাদের মতামত অগ্রাহ্য করার জন্যই এমন ঘটনা বেশি ঘটে। এ ঘটনা ঘটার হারের তথ্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞাদের কাছে নেই। কিন্তু তারা বলছেন, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এসব ঘটনা পারিবারিক নির্যাতনের মধ্যে ধরা হয় না বলেই সবার অজ্ঞাতই থেকে যায়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফাতেমা আকতার বলেন, প্রতি ১০০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে ১৫-২০ জন বিষাদগ্রস্ততা ও দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এছাড়া আরও বেশকিছু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। তিনি বলেন, গর্ভকালীন মানসিক সমস্যা বাংলাদেশের অনেক গর্ভবতী মায়ের ওপর নেতাবিচক প্রভাব ফেলে। জন্মের সময় শিশুর ওজনহীনতার সবচেয়ে বড় কারণ এটি। এই সময় পরিবারের সদস্যরা পাশে থাকলে এবং গর্ভবতীর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে গর্ভজাত শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, অপুষ্টিজনিত সমস্যাও দেখা দেয় না। সরকার কতৃর্ক পরিচালিত 'ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইম্যান সার্ভে ২০১১' জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের ৮৭ শতাংশ বিবাহিত নারী তাদের স্বার্মী কতৃর্ক নির্যাতিত। ১২ হাজার ৬শ নারীর ওপর পরিচালিত ওই জরিপে দেখা গেছে মাত্র ৮ শতাংশ বিবাহিত মহিলা বলেছেন তারা কখনও স্বামী কতৃর্ক আক্রমণের শিকার হননি। পরিবারে নারীদের এই নির্যাতনের হার তাদের সন্তানের ওপরও প্রভাব ফেলবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় মানসিক বা আবেগজনিত সমস্যাগুলোকে ‌'বড়লোকের রোগ' বলে মনে করা হয়। যার কারণে অনেকেই এ সমস্যাগুলো পাত্তা দেন না। এ বিষয়ে সাইকোথেরাপিস্ট মোহাম্মদ আসিফ খান বলেন, গর্ভকালীন সময়ে পরিবারের সদস্যদের আচরণ শিশুর বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এ বিষয়ে এখনও অনেকেই অসচেতন। তাদের এই মানসিক স্বাস্থ্য শুধু নিজেদের ভবিষ্যত নয় বরং দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি জানান অব্যাহত মানসিক চাপ একটি শিশুর মানসিকতায় শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি এটা হতে পারে যখন মা যখন তার পরিবারের পক্ষ থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চ‌‌‌াপে থাকেন।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।