রাত ০৮:১৭ ; রবিবার ;  ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯  

নারী ও শিশু পাচার ও সহিংসতা প্রতিরোধ নিয়ে খান ফাউন্ডেশনের সেমিনার

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

‘নেদারল্যান্ডস বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার রক্ষা তথা মানবাধিকার সংরক্ষণে সোচ্চার। আমরা ওই আলোকে বাংলাদেশে নারী অধিকার রক্ষা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে সহায়তা করছি।’

সম্প্রতি খান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে "নারী ও শিশু পাচার ও সহিংসতা প্রতিরোধঃ খান ফাউন্ডেশনের অভিযাত্রায় বাধা অতিক্রম" শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত গার্বেন ডি জং।

২৪ নভেম্বর হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএইডস বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর লিও কেনি। সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দূরীকরণের জন্য জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক দিবস ২০১৪-এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার।

সেমিনারের শুরুতে খান ফাউন্ডেশন পরিচালিত "নারী ও শিশু পাচার ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: একটি মৌলিক মানবাধিকার" প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায় নারী নির্যাতনের পেছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী হচ্ছে যৌতুক। এছাড়া নেশাগ্রহণ ও টাকার বিনিময়ে পাচার বিষয়গুলোও নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশের নির্দিষ্ট কিছু জেলায় মোবাইল হট লিংক-এর মাধ্যমে নারী পাচার ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করার জন্য খান ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস। স্বল্প পরিসরে মোবাইল হট লিংক-এর এ সেবা একদিন গোটা বাংলাদেশে একটি নাম্বার হয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশা করেন।

ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর লিও কেনি বলেন, ‘জাতিসংঘ সবসময়ই নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে এবং খান ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’ তিনি নারী পাচারের সঙ্গে পুরুষ পাচার ও বিদেশে তাদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা তুলে ধরে সার্বিকভাবে মানবপাচারের বিরুদ্ধে কাজ করার পরামর্শ দেন।

সেমিনারের সভাপতি খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার বলেন, ‘খান ফাউন্ডেশন নারীর অধিকার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছে এবং আগামীতেও চালিয়ে যাবে। খান ফাউন্ডেশন এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কোনও দাতা সংস্থার সহায়তা ছাড়াও আমাদের কাজ এগিয়ে নিতে পারব।’

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইসরাত শামীম, প্রফেসর নাজমুন্নেছা মাহতাব ও সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রফেসর সেলিনা মহসিন বিশেষজ্ঞ। নারী অধিকারের প্রয়োজনে আইন সংশোধনের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও শিক্ষাবীদরা।

খান ফাউন্ডেশন অগ্রাধিকারভিত্তিতে ১৭টি জেলায় "নারী ও শিশু পাচার ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধঃ একটি মৌলিক মানবাধিকার" নামক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি মোবাইল হটলাইন স্থাপন করেছে যা নাগরিক/কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ নামক স্থানীয় গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত হয়। মোবাইল হটলাইন সেবার আওতায় আইনি সাহায্য, চিকিৎসা সহায়তা এবং তথ্যসহ তাৎক্ষণিক অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

সেমিনারে প্রকল্প ফলাফল উপস্থাপনা করেন খান ফাউন্ডেশনের গবেষণা সহযোগী নওশীন খান। এনজিওসহ বিভিন্ন জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও তৃণমূল পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এ সেমিনারে।

এছাড়া মো. এমরানুল হক চৌধুরী, পরিচালক, উদ্দীপন, ড এহ্ছানুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, মো. নূর-এ-আলম, উপ-পরিচালক, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, মোহাম্মদ নাজমুল হক (সানি), মেয়র, নওগাঁ পৌরসভা, মোঃ তাজুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, মেহেরপুর সদর, মেহেরপুর, রাশেদা আক্তার, ভাইস চেয়ারম্যান, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা, এ্যাডভোকেট হাসিনা মাহমুদা সিদ্দিকা, জজ কোর্ট, কুষ্টিয়া সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


 

/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।