রাত ০৮:২৭ ; বুধবার ;  ২৫ এপ্রিল, ২০১৮  

জহর সেনমজুমদারের কবিতা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

vvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvতৃষ্ণা বাঘছাল পরিহিত বটবৃক্ষ; তুমি তার বুকে মিশে আছো হরিণী, ওগো হরিণী, নিঃসঙ্গ বনভূমি চিরে কতদূরে যাবে? বাক্যমালা, চাঁদমালা, শূন্যপথে বারবার রক্তে ভেজা তোমার ঐ ঋতু চমকায়; তোমার ভেতরে আছে রাঙা পথ, স্তব্ধ গ্রাম, যেন রাধাচূড়া যেন কৃষ্ণচূড়া; বাচ্চা মেয়ের মতো তোমারও খোঁপাভর্তি পিঁপড়ের টিপ; আমি আজ তোমার ভেতর জল আর অগ্নি নিয়ে প্রবেশ করতে চাই; তোমার বন্ধ ঋতু খুলে দেবো আমি; তোমার বন্ধ ঠোঁট শুষে নেবো আমি তৃষ্ণা তৃষ্ণ; রূপতৃষ্ণা দেহতৃষ্ণা; দুই পায়ের ভিতর দিয়ে মাতৃভক্ত হেলেসাপ উপরে উঠছে, উঠছে উঠছে উপরে উঠছে; শূন্যের ভিতরে শূন্য তোমার খোঁপার ভেতর তোমার যোনির ভেতর আমিও তৈরি করি আমার কুঁড়েঘর...   প্রমা ঢেউ ভেঙে গেল ঢেউ ভেঙে গেল; তোমার ভেতর থেকে বার হয়ে এলো মর্মরিত নারীরূপ, হয়তোবা বনরাজিলীলা, স্পর্শ করি, শিহরিত হই প্রাচীন বল্কলের ফাঁকে ফাঁকে পড়ে আছে হরিণীর মৃদুমন্দ ঘ্রাণ মূক ও বধির ইন্দ্রিয়সমূহ এইবার জেগে উঠলো ফড়িঙ লাগলো অন্ধকার চুমায়; ফড়িঙ লাগলো ঘুমন্ত শ্রাবণের ওই চকিত রক্তপাতে ঢেউ ভেঙে গেল ঢেউ ভেঙে গেল; একটি বালক মাঝরাতে একা একা শিমুল পলাশের নৌকোয় উঠে এই প্রথম সঙ্গম শিখলো একটি বালিকা মাঝরাতে একা একা বেণী খুলে দুর্বোধ্য চাঁদের দিকে ছুঁড়ে দিলো মেঘ আর মায়া; চারিদিক স্তব্ধ কেউ কোথাও নেই; শুধু তুমি বারবার পিছন ফিরে তোমার ঐ নরম আঙুলে টিয়াপাখির প্রমা তুলছো আমিও তোমাকে দেখছি বালকস্বভাবে; তুমি কি দেখতে পাচ্ছ আমায়?   জৈব মাঝরাতে চাঁদও বিস্মিত হলো; আদিম মাঝির মতো আমিও মুগ্ধ তোমাকে দেখলাম, কিছুটা ঐশী কিছুটা জৈব, যেন এইমাত্র প্রথম ঋতু ফুটলো, অঙ্কুরিত কুহু ও কেকা, অঙ্কুরিত আলো ও ছায়া; ওগো মাধবী, ওগো মাধবী এ জীবনে একবার বালিকার রহস্যমঞ্জরী উন্মুক্ত করো কাল সারারাত হাঁড়িভর্তি সাপ নিয়ে পাগলেরর মতো আমি শুধু স্বপ্নের দিকে ছুটে গেছি; অন্ধকার চক্রব্যূহ; কোথাও তোমায় দেখতে পাচ্ছি না কেন? সারারাত ঘরের ভেতর কি করো তুমি? তোমার মেয়ে তো এখন বড়ো হয়ে গেছে স্তনদুগ্ধ প্রয়োজন নেই; তা বলে কি তুমি আর নিজের যত্ন নেবে না? মরীচিকা মরুশিখা পার হয়ে এসে তুমি কি তোমার ঐ শাদা ছোট্ট দাঁতে রক্তে ভেজা হৃৎপিণ্ড কামড়ে ধরবে না? উন্মুক্ত করো উন্মুক্ত করো; ফুটে ওঠো ঝাউঝাঁপি; অনুভূতিমালা... জল মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের এই জীবনের ভেতর আমাদের এই অতি ছোট্ট হৃৎপিণ্ডের ভেতর জল পড়ে, যেন ফোঁটা ফোঁটা জল, শাশ্বত, অবিমিশ্র, সেও অপরূপ কেন তুমি রাগ করো? কেন তুমি একা একা কাঁদো? অল্প অল্প মেঘ নিয়ে বটবৃক্ষ পুনরায় কালো হয়ে ওঠে শ্মশানের আগুনে পড়ে থাকে ছাইচাপা মানুষের চুমু মেয়েদের নাভিতে প্রকৃতিও লেপ্টে থাকে ফড়িঙের মতো জল পড়ে জল পড়ে, ভিজে যায় তোমার দিকে তোমার ওই অফুরন্ত বনভূমির দিকে, একদিন একদিন বাউল এসে খোয়াইকে কবিতা শোনায়, আমিও সেই বাউল, কবিতা লিখেছি, শুনবে? একবার শুনবে? জল পড়ে জল পড়ে, ভিজে যায় বাবুই পাখি...   লিঙ্গ রক্তে রাঙা পলাশের মতো, অতিদূর বনপথ, ঝাউঝাঁপি খুলে গেল আজ তোমার মাথার ভেতর ঘুমঘোরে কথা বলি আমি; তোমার মাথার ভেতর ঘুমঘোরে স্বপ্ন করি আমি; তোমার মাথাভর্তি অন্ধকার আমাকে দাও তৃষিত হরিণ এইমাত্র ঝাঁপ দিলো হিজলের ঘ্রাণে এই ঘ্রাণ হয়তোবা রূপতৃষ্ণা আছে, এই ঘ্রাণে হয়তোবা রতিমুগ্ধ পুরুষের সংরচিত দিনলিপি আছে প্রেমিকের মুঠি থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যাজল ঝরে বিকলাঙ্গ কাঁকড়াকলোনী পুনরায় তোমাকে গ্রাস করে নেয় তোমার ভিজে কৃষিক্ষেতে এতো রাতে মুখ দিয়ে শুয়ে আছে কে? ঐখানে অগ্নি আর জল একসাথে মিলেমিশে আছে ঐখানে ভাঙা চাঁদ ক্রমে ক্রমে হরিণীর দেহে ঢুকে যায় তুমিও কি সেই হরিণী? শতাব্দীর পর শতাব্দী তোমার চারিপাশে লিঙ্গ ও লাঙলের কালমৃগয়া; ক্রমাগত সন্ধ্যাজল ঝরে সন্ধ্যাজল সন্ধ্যাজল, আমিও তোমাকে দেখে উঠেছি...   ঘ্রাণ ঐ, ওই, জলের মধ্যে নৌকো দাঁড়িয়ে আছে, ছই চাপা নৌকো ওর মধ্যে স্বপ্ন আছে, ওর মধ্যে নির্জনতা আছে, ঘুমঘুম নির্জনতা তুমি যাবে ওর ভেতর? মুগ্ধ, অভিভূত তুমি আর আমি; শালিকের মতো খড়কুটো তুলে, সারাদিন সারারাত চড়ুইয়ের মতো ভাঙা বাড়ি ভাঙা বাংলা ঝাঁট দিতে দিতে ক্রমশ অভিসারী এক কল্পবিশ্ব, ঝুলন্ত চাঁদের পাশে এই শান্ত কঙ্কন দ্বীপ, হয়তোবা এইখানে কঙ্কাবতী থাকে, তার এলোচুলের গভীর অন্ধকারে ক্রমে ক্রমে ডুবে যায় আদিম বাউণ্ডুলে এক মানুষ, হাত কাটা, পা কাটা ভিড়ের ভেতর দমবন্ধ, তবুও ঘ্রাণ চায়, তবুও জৈব গুহার ভেতর দাঁড় বায় অক্লান্ত মাঝি তুমি যাবে ওর ভেতর? মুগ্ধ, অভিভূত ওই কঙ্কন দ্বীপ, আমাদের একমাত্র কঙ্কন দ্বীপ...       fc[জহর সেনমজুমদার জন্মেছেন ১৯৬০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উত্তর চব্বিশ পরগনার আড়বালিয়া গ্রামে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষায় এম. এ। বর্তমানে সুরেন্দ্রনাথ সান্ধ্য কলেজের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান। কবিতার পাশাপাশি তিনি প্রবন্ধও লেখেন।]  

 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।