রাত ০২:৫৭ ; রবিবার ;  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯  

বাংলাদেশি সাফিয়া প্রাণ দিয়ে বাঁচালেন সাগরে ডুবন্ত ৪ আমিরাতি শিশুকে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক॥ চার আমিরাতি শিশুকে ডুবে মরা থেকে বাঁচালেন এক বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী। কিন্তু তা করতে গিয়ে নিজেই ডুবে মরেছেন। আরব সাগর পাড়ের আবুধাবী শহরের দাবিয়া সৈকতের এ ঘটনায় প্রাণ বিসর্জন দেওয়া ওই নারীর নাম সাফিয়া। গত বৃহস্পতিবার আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনি মিডিয়ায় এ খবর প্রকাশ পায়। সম্প্রতি ওই সৈকতে শিশুগুলো গোসল করার সময় প্রবল স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকে। এসময় তাদের ভয়ার্ত চিৎকার শুনে সাফিয়া ছুটে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন সাগরে। এরপর একে একে চারটি শিশুকেই উদ্ধার করে তীরে তাদের স্বজনদের হাতে তুলে দেন। হঠাৎ প্রবল হয়ে ওঠা উত্তাল সাগরের সঙ্গে লড়ে এ কাজ করিতে গিয়ে তিনি মারাত্মক পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন। তারপরও চারজনকেই উদ্ধার না করে থামেননি তিনি। শেষ শিশুটিকে স্বজনদের হাতে তুলে দিয়েই যেন নিস্তেজ হয়ে যেতে থাকেন তিনি। আবু আব্দুল্লাহ নামের এক আমিরাতি, যিনি ওই ৪ শিশুর একজন আব্দুল্লাহর পিতা, সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, 'আমি সৈকতে এসে দেখি প্রবল স্রোত এড়িয়ে সাফিয়া প্রাণপনে স‌‌‌াঁতরে পাড়ে আসার চেষ্টা করছেন... তিনি বারবার ডুবে যাচ্ছিলেন আবার পরক্ষণেই ভেসে উঠছিলেন। একপর্যায়ে আমরা তাকে পাড়ে টেনে তুলতে সক্ষম হই, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি প্রাণ ত্যাগ করেন।' বাঙালি নারীর আত্মত্যাগে মুগ্ধ ওই আমিরাতি কৃতজ্ঞ কণ্ঠে আরও বলেন, 'তিনি আমার ছেলে ও তার ৩ সঙ্গীর প্রাণ বাঁচিয়ে খুবই বীরোচিত কাজ করেছেন। এই নারীর কাছে আমরা সবাই ঋণী আর তার মৃত্যুতে শোককাতর হয়ে পড়েছি।' সাফিয়ার নিজের প্রাণ দিয়ে উদ্ধার করা ওই শিশুগুলোর বয়স ছয় থেকে দশের মধ্যে। আবু আব্দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে গত চার বছর ধরে ছিলেন সাফিয়া। তিনি জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন সাফিয়া। কিন্তু তা আর হলো না। চোখেমুখে গভীর শ্রদ্ধার অভিব্যক্তি নিয়ে আবু আব্দুল্লাহ আরও বলেন, 'তিনি খুবই সাহসী ছিলেন এবং আমাদের সন্তানদের জন্য কোনও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই তিনি তার প্রাণ কোরবান করলেন। এই দুঃসাহসিক আর মানবিক কাজে সাফিয়া তার নিজের জীবর উৎসর্গ করেছেন!' আবু আব্দুল্লাহ জানান, এরইমধ্যে বাংলাদেশে সাফিয়ার পরিবারে সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। মরদেহ শিগগিরই দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে কোনও এলাকায় তার বাড়ি সংবাদ মাধ্যম তা জানায়নি। তিনি আরও জানান, যেসব পরিবারের সন্তানদের সাফিয়া রক্ষা করেছেন তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে যাতে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সম্মানজনক একটি তহবিল সংগ্রহ করে পাঠানো যায়। দ্য ফিলিপিনো টাইম্স, এমিরেটস২৪/৭ /একে/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।