সকাল ০৯:২১ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

বিএনপি-জামায়াত স্ট্যাটাস নিয়ে অাত্মপক্ষ সমর্থন অাযমীর (ভিডিওসহ)

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক॥ মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের প্রয়াত আমির গোলাম আযমের জানাজায় অংশ না নেওয়ায় বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমী। স্ট্যাটাসটি নিয়ে এরইমধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আযমী তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ছাড়া বিএনপির পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়া অসম্ভব। এনিয়েই বৃহস্পতিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির '৭১ এর জার্নাল' নামে একটি অনুষ্ঠানে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অাযমী। এই সাক্ষাৎকারে তিনি ওই স্ট্যাটাসের ব্যাপারে অাত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। এছাড়া সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনীতিতে নিজের অবস্থান, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও তার বাবার যুদ্ধাপরাধের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য আবদুল্লাহিল আমান আযমীর সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ফেসবুকের স্ট্যাটাস নিয়ে অাযমী বলেন- অাযমী: নিরপেক্ষ সচেতন জ্যেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে অামার কাছে মনে হয়েছে এবং অামি নিশ্চিত যারা শুনেছেন ও শুনছেন তারা সবাই স্বীকার করবেন যে, অধ্যাপক গোলাম অাযম একজন বিশ্ববরেণ্য ইসলামি নেতা যাকে নিয়ে সারা পৃথিবীতে হাজার হাজার জানাজা হয়েছে। সেই জানাজায় লাখো কোটি মানুষ যোগ দিয়েছে। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে সবচেয়ে বড় শরিক দলের নেতা মারা যাওয়ার পরে বিএনপির নিরবতা অবশ্যই প্রশ্নের ব্যাপার। স্বাভাবিকভাবেই অামি বিভিন্ন সাংবাদিক মহল থেকে টেলিফোন পেয়েছি। অামি সবার কাছেই জানতে চেয়েছি অাপনাদের মনে কি প্রশ্নটা অাসেনি বা মনে হয়নি যে, এটা অস্বাভাবিক? সবাই বিনা বাক্য ব্যয়েই এটা স্বীকার করেছেন যে, এটা অস্বাভাবিক। তাই অামিও একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই অস্বাভাবিক ঘটনার কারণে অামার মনে যে প্রতিক্রিয়া ছিল তা ব্যক্ত করেছি। এটা দলের বা জোটের ব্যক্তব্য নয়, এটি সম্পূর্ণ অামার ব্যক্তিগত বক্তব্য। প্রশ্ন: জনাব অাযমী, অামরা জানি অাপনি জামায়াতের কোনও পোস্ট হোল্ড করছেন না। সেক্ষেত্রে অাপনার এই মন্তব্য ঘিরে দলে বিশেষ করে জোটে সম্ভাব্য একটি প্রভাব হয়তো অাশা করা যায়। সেই প্রভাব সম্পর্কে অাপনার কোনও বক্তব্য অাছে কি না? অথবা অাপনার মন্তব্যে কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে জোটের রাজনীতিতে? অাযমী: অামি বলতে চাই যে, অামার এই স্ট্যাটাস যদি কাউকে অাহত করে থাকে তাহলে দুঃখিত। এটি কোনও ব্যক্তি গোষ্ঠী বা দলকে হেয় অসম্মান করার জন্য বলা হয় নাই। অামি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এটা প্রকাশ করেছি। অার অামি যেহেতু সম্পূর্ণ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তাই একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির মন্তব্যে বড় একটি রাজনৈতিক জোটের মধ্যে সামান্য প্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিন্তু এটি কোনও বড় প্রভাব ফেলবে বলে অামি মনে করি না। অামি দেশকে ভালোবাসি অাপনারা জানেন। অামি ৩০ বছর এই দেশের সেবার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছি। অামি এখনও দেশকে ভালোবাসি। দেশের সেবা করতে চাই এবং অামি দেশের ইন্টিগ্রেসনে বিশ্বাস করি ডিভিসনে নয়। অামার স্ট্যাটাসটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এটি নিয়ে অনেক অালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। অামি অাশা করছি ইনশাল্লাহ কালকে অারেকটা স্ট্যাটাস দেব, যেন এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। যারা অামার এই বক্তব্য শুনছেন তাদেরকে অামি অনুরোধ করবো, অাপনারা অামাকে ভুল বুঝবেন না। অামি এটা কোনও উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বলিনি। কেবলমাত্র একজন মৃত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে অামার এটা অাকাঙ্খা ছিল যে শুধু বিএনপিই নয়, উনার (গোলাম অাযম) মানের কোনও লোক যদি ইন্তেকাল করেন তাহলে সরকার পক্ষ থেকেও শোক বা সমবেদনা জানানো হলে তারা বড়ই হতো। এতে তারা ছোট হ‌‌‌তো বলে অামি মনে করি না। সেই হিসেবে অামি মনে করি বিএনপির এই শোক জানানোটা সৌজন্যতা ছিল। প্রশ্ন: জনাব অাযমী, বিএনপির এই নিশ্চুপ ভূমিকার পেছনে অাপনি সরকার দলীয় পক্ষের সঙ্গে কোনও সমঝোতা বা অাঁতাতের ষড়যন্ত্র বা এমন কোনও কিছু কি অাঁচ করতে পারেন বা এমন কোনও বিশ্লেষণ কি অাপনার মধ্যে রয়েছে? অাযমী: কার সাথে অাঁতাতের কথা বলছেন অাপনি? প্রশ্ন: বিএনপির সঙ্গে সরকার দলীয় কোনও সমঝোতা অাছে বা অাঁতাতের মতো ষড়যন্ত্র বা এমন কোনও কিছু কি অাপনি অাঁচ করতে পারছেন বা সন্দেহ করছেন? অাযমী: না, অামি এই ধরনের কিছু সন্দেহ করছি না। মূলত অনুমান নির্ভর কোনও কিছু বলাটা ঠিক না। অাল্লাহর কোরানেও নিষেধ অাছে যে, তোমরা অনুমান করে কিছু বলো না। এজন্য অামি অনুমান করে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। অামার কাছে যেহেতু সুনর্দিষ্ট কোনও প্রমাণ নেই, তাই অামি এটা বলতে চাই না এবং অামি এটা মনে করি না। প্রশ্ন: বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে, বিশ্লেষণে ও অালোচনায় উঠে অাসছে, ভবিষ্যতে জামায়াতের গঠন প্রক্রিয়ায় অাপনি নেতৃত্বে উঠে অাসছেন। এই বিষয়ে অাপনার মন্তব্য জানতে চাই। অাযমী: অামি অাপনার কাছেই প্রথম এই বক্তব্যটা শুনলাম। অার কারও কাছে শুনিনি। অামি গত কয়েকদিনে বেশ কিছু মিডিয়া ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছি ও সবাইকেই বলেছি, বর্তমান এই অপসংস্কৃতি ও অসুস্থ রাজনীতির দ্বারা অামি মনে করি না দেশের কোনও পরিবর্তন করা যাবে। অামার দৃষ্টিতে দেশের মূল সমস্যা হলো শিক্ষার সমস্যা। যদি সুশিক্ষিত সুনাগরিক দেশপ্রেমিক তৈরি করা যায়, তাহলেই অামাদের দেশের সমস্যার সমাধান হবে। দেশের জনগণের কল্যাণ হতে পারে। প্রশ্ন: অাপনি বলছিলেন, অসুস্থ রাজনীতির কথা। সেক্ষেত্রে জামায়াতের রাজনীতিকে অাপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? অাযমী: দয়া করে অাপনি অামাকে কথা শেষ করতে দিন। অামি মনে করি যে, শিক্ষাক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমে দেশের উন্নতি সম্ভব। রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বললে এ মুহূর্তে অনেক প্রতিক্রিয়া অালোচনা, সমালোচনা ও বিতর্ক হতে পারে। তাই এ মুহূর্তে কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না। এটা সকলে স্বীকার করেন এবং যারা রাজনীতির মঞ্চে অাছেন, তারাও স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তটস্থ ও অপসংস্কৃতির রাজনীতি। এটা কোনও সুস্থ্য রাজনীতি নয়। ব্লেম গেমের রাজনীতি এবং... প্রশ্ন: বিএনপির পক্ষ থেকে অামরা কোনও প্রতিক্রিয়া দেখলাম না। তারা সমবেদনা বা শোকও প্রকাশ করলো না। এর কারণ হিসেবে অাপনি মনে করেন না যে, গোলাম অাযম যেহেতু ১৯৭১ সালে এই বাংলাদেশের জন্মের বিরোধীতা করেছিলেন এবং বাংলাদেশের জনসংখ্যার বেশিরভাগ সংখ্যক মানুষ যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ করে এই দেশে স্বাধীন করেছেন। সেই সময় গোলাম অাযম যেহেতু বাংলাদেশের জন্মের বিরোধীতা করেছিলেন এবং অাল বদর অাল শামসসহ এই যে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে যে কাজ করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে তার ইমেজের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বিএনপি যদি এখন সমবেদনা প্রকাশ করে, তাহলে রাজনৈতিকভাবে দলটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় থেকেই কি কোনও সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করছে না? অাযমী: ধন্যবাদ অাপনার প্রশ্নের জন্য। প্রথম কথা হলো, অামি অাপনার সাথে বিনয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষন করতে চাই। অধ্যাপক গোলাম অাযমের বিরুদ্ধে যে সমস্ত প্রচারণা এগুলো সব মিথ্যাচার এবং এর মধ্যে সত্যের কোনও সংস্পর্শ নেই। অাপনারা রাজাকার, অাল বদর, অাল শামস যেগুলো বলেন, সেগুলো সরকারি বাহিনী ছিল। গোলাম অাযম সরকারের কোনও ব্যক্তি ছিলেন না। উনি শান্তি কমিটির কোনও বড় নেতা ছিলেন না। সাধারণ সদস্য ছিলেন ৩৯ জন শান্তি কমিটির সদস্যের মধ্যে। উনি শান্তি কিমিটির চেয়ারম্যান সেক্রেটারিসহ কোনও পোস্টেই ছিলেন না। প্রশ্ন: রাজাকার অালবদর অালশামস তাদের যে কর্মকাণ্ড ছিল, তাতে গোলাম অাযম সমর্থন করেছেন। সে সময়ে দৈনিক সংগ্রামে যাবতীয় তথ্য অাছে। অাযমী: এই বিতর্কে অামি যেতে চাই না। অাপনারা যে প্রশ্নটি করেছেন, অধ্যাপক গোলাম অাযম কি মানুষ এটা উনার জানাজায় স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে। এ দেশের সবচেয়ে বড় জানাজায় মানুষ উপস্থিত হয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে অধ্যাপক গোলাম অাযমকে এ দেশের মানুষ ভালোবাসে কি ভালোবাসে না। প্রশ্ন: অামি ১৯৭১ সালের প্রেক্ষিতে সে সময়ের ঘটনাটি অাপনার কাছ থেকে জানতে চাই। অাযমী: প্রশ্নকারী এক পর্যায়ে বলেছেন, অধ্যাপক গোলাম অাযম খারাপ লোক। অামি এটিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই. অধ্যাপক গোলাম অাযম খারাপ লোক ছিলেন না তার প্রমাণ হলো উনার জানাজা। শুধু তাই নয় এটি দেশের ইতিহাসে সর্ব বৃহৎ জানাজা। অার বিএনপি কি কারণে এতে অংশগ্রহণ করেনি এটা অামি অাগেই বলেছি। এ বিষয়ে অামি অার কোনও মন্তব্য করতে চাই না। তবে ১৯৯১ সালে অাওয়ামী লীগ যেমন জামায়াতের সমর্থন চেয়েছে তেমনি বিএনপিও চেয়েছে। তখন কারও একবার মনে হয়নি গোলাম অাযম যুদ্ধাপরাধী কিনা। বরং অাওয়ামী লীগ তখন দুটি মন্ত্রীত্ব ও ৭টি মহিলা এমপির পদ অফার করেছিল জামায়াতকে সমর্থন পাওয়ার বদৌলতে। অাওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী অধ্যাপক গোলাম অাযমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে সমর্থন চেয়েছেন। তখন কিন্তু কারও মনে হয়নি যে অধ্যাপক গোলাম অাযম যুদ্ধাপরাধী কিনা। এরশাদ বিরোধী অান্দোলনে অধ্যাপক গোলাম অাযম সকলের সঙ্গে একসঙ্গে অান্দোলন করেছেন, তখন কেউ তাকে যুদ্ধাপরাধী বলেনি। ৯৬ সালে কেয়ারটেকারের জন্য অান্দোলনেও কেউ তাকে যুদ্ধাপরাধী বলেনি। ২০০১ সালে জোটবদ্ধভাবে অান্দোলন করেছেন এবং অধ্যাপক গোলাম অাযম চার দলীয় জোট গঠনের অন্যতম একজন রূপকার। তখন তাকে যুদ্ধাপরাধী বলা হয় নাই। অাজকে ২০১০ সালে কেনও হঠাৎ করে তাকে যুদ্ধাপরাধী বলা হলো, এটি এক বিশাল বড় প্রশ্ন। প্রশ্ন: অাপনি যেভাবে বলছেন যে, ১৯৯৬ সালে বলা হয় নাই, অাসলে কি তাই? যখন থেকে তারা অান্দোলন করছেন, তখন থেকেইতো খুব পরিষ্কার করেই বলা হচ্ছে যে, গোলাম অাযম যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তার বিচার চাওয়া হয়েছে, প্রতিকী বিচার হয়েছে। সুতরাং তাকে যুদ্ধাপরাধী বলা হয় নাই সে বিষয়টি কি সঠিক? অাওয়ামী লীগ ৯৬ সালে তাদের সঙ্গে অান্দোলন করেছে সেটি অালাদা ব্যাপার। অাযমী: এ সমস্ত প্রতিকী বিচার অাইনের বাইরে। অাবেগ অার অাইন দুই জিনিস। ১৯৯৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের সর্বসম্মত রায়ে তিনি নাগরিকত্ব ফিরে পেয়েছেন এবং উনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সমস্ত অভিযোগ উত্থাপন করে নিয়েছে। অাবেগ দিয়ে অাইন চলে না। প্রশ্ন: নাগরিকত্ব অাইন নিয়ে অাপনি অাপনার কথায় বলছেন যে, গোলাম অাযমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হলো সেই রায়টিকে ভালো। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তার যখন বিচার হচ্ছে, অামৃত্যু কারাদণ্ড হচ্ছে সেটিকে অাপনি বলছেন মিথ্যা। একবার অাপনি অাদালতের রায় মানছেন অাবার বলছেন অাদালতের রায় সঠিক নয়। তাহলে বিষয়টি স্ববিরোধী হয়ে গেলো না? অাযমী: অাইসিটি অাইন করেতো অামাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনও অপরাধ থাকে তাহলে অামার বাবা হোক বা যে কারোই বিচার হওয়া উচিত এর সঙ্গে অামি নীতিগতভাবে একমত। কিন্তু যখন অাপনি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার করবেন, তখন এই ট্রাইব্যুনালটা অান্তর্জাতিক মানসম্মত, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হতে হবে। কিন্তু এগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। স্কাইপ কেলেঙ্কারি ও অন্যান্য কারণে অান্তর্জাতিকভাবে এই অাইনটি বিশালভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ থেকে শুরু করে ইউনাইটেড নেশনসহ প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অাইন, এর ফাঁক ফোকর ও অাইনের পদ্ধতি এগুলোর ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছে। অামার বাবার বিচারের সময় অামাদের ২ হাজার ৯৩৯ জনের মধ্যে অামি একমাত্র সাক্ষী দিতে পেরেছি। বাকি সাক্ষী দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল থেকে শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অাপনি এগুলোকে কিসের বিচার বলছেন? ৩০ বছর সাজা হয়েছে অামার বাবার হত্যাকাণ্ডের জন্য বলছেন। যেই চিঠি দিয়ে অামার বাবা হত্যা করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে সে চিঠি এবং চিঠিটি যে বহন করেছে তার কোনও অস্তিত্ব নাই। শুধু সিধু মিয়ার বউ এসে বলেছেন, তাও ক্যামেরা ট্রায়ালে। যা ক্যামেরা ট্রায়াল হওয়ার যোগ্য না। অার এটির উপর ভিত্তি করে অাপনি ৩০ বছরের সাজা দিয়েছেন। হাস্যকর ব্যাপার অামার মনে হয় অামার কাছে। বিচারের দিন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান নিজে বলেছেন, অধ্যাপক গোলাম অাযম কোনও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অামার জানা মতে পৃথিবীর এমন কোনও অাদালত অাছে কিনা জানি না, যেখানে ট্রাইব্যুনালের সম্মানিত বিচারক বুঝে ফেলেছেন অাদালত স্বপ্রোণোদিত হয়ে অনেক কিছু উত্থাপন করেছেন। এটা অামার কাছে মনে হয়, সাক্ষী সাবুদ বিচার করে রায় দেওয়ার কথা। প্রশ্ন: উনি (অাযমী) বিচার নিয়ে, রায় নিয়ে, অাদালত নিয়ে যা বলছেন এগুলো কোনওটাই খুব নতুন কথা নয়। অাসলে জামায়াতে ইসলামী বা যারা যুদ্ধাপরাধী সেটা গোলাম অাযম থেকে শুরু করে জামায়াতের অন্য নেতারা যারা এরইমধ্যে অভিযুক্ত হয়েছেন, তারা সকল ক্ষেত্রেই এ ধরনের কথা বলেছেন। মূল বিষয়টি হচ্ছে, অাদালতে অপরাধী হিসেবে তারা প্রমাণিত হয়েছে। অাপনি (অাযমী) বলেছেন যে, অাপনি দেশ প্রেমিক, বাংলাদেশে বিশ্বাস ও স্বীকার করেন। তাহলে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের অাদালত ও তার বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিও নিশ্চই অাপনার শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকা স্বাভাবিক। যখন একজন খুন করে তখন সে সমাজের চোখে খুনি। যাকে খুন করছে তার পরিবারের কাছে সে হচ্ছে খুবই ঘৃণ্য ব্যক্তি। কিন্তু সেই খুনি তার স্ত্রী, সন্তানের কাছে অত্যন্ত ভালোবাসার ব্যক্তি। সেই হিসেবে অামি খুবই ভালো বুঝতে পারি যে, অাপনি গোলাম অাযমের পুত্র হিসেবে অাপনার পক্ষে বাবা সম্পর্কে এসব কথা গ্রহণ করাটা সত্যিই কঠিন। যদিও এসব বিষয় অাদালতে মিমাংসা হয়ে গেছে। কিন্তু অামি অাজকের স্ট্যাটাসটাতে অাগ্রহী। অাপনি বলেছেন, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপির পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়। অাপনি যদিও বলছেন রাজনীতি নিয়ে অাপনার কোনও অাগ্রহ নেই। কিন্তু অাপনি পার্টির লোক না হয়েও সেই কথা বলেছেন। অামরা জানি যে, ২০০১ সালে জোটবদ্ধভাবে অাপনারা ক্ষমতায় গেছেন। বিএনপি অফিশিয়ালি এটা স্বীকার না করলেও অামরা জানি যে ৯১ সালে জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে। যে জন্য জামায়াত ১৭-১৮টি সিট পেয়েছে। কিন্তু অাপনি কোন কনফিডেন্স, অাস্থা ও বিশ্বাস থেকে বলছেন, জামায়াতকে ছাড়া বিএনপির পক্ষে কখনো ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়? অাযমী: অাপনার সম্পূর্ণ বক্তব্যে দুটি অংশ এসেছে। একটি অাপনি ট্রাইব্যুনাল ও যুদ্ধাপরাধী নিয়ে কথা বলেছেন। অাপনি বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীর সন্তান হিসেবে অামার বা সব অপরাধীর সন্তানের কাছেই তার বাবা গ্রহণযোগ্য। অধ্যাপক গোলাম অাযমের জানাজা প্রমাণ করেছে তিনি কি জিনিস। তিনি যে যুদ্ধাপরাধী নয় ইতিহাস একদিন তা প্রমাণ করবে ইনশাল্লাহ। সুতরাং অাপনাদের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, কাল্পনিক ও সাজানো। অামি অত্যন্ত ঘৃণাভরে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করি। অার অামার স্ট্যাটাস নিয়ে যে কথা বলেছেন, সেটা অামার বক্তব্য নয়। এটা সাধারণ মানুষের। অামি এ দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে ও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে রাজনৈতিক উত্তাপ অামাকে প্রভাবিত করে। অামি সেই ৬০ এর দশক থেকেই রাজনীতি প্রত্যক্ষ করছি, মানুষের সঙ্গে মিশছি। প্রায় ৩০ বছর অামি সেনাবাহিনীর চাকরিতে ছিলাম। সেনাবাহিনীর ভেতরে রাজনীতির কোনও সুযোগ না থাকলেও অামার অাত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সহ হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে অামার কথা হয়েছে, কাজ করতে হয়েছে। জামায়াতের, বিএনপি বা অাওয়ামী লীগ সব দলের লোকই একত্রে এটা বলেছে। যুদ্ধাপরাধীর যে বিষয়টা এটা অধিকাংশ মানুষ মনে করে যে, এই ইস্যুটা অাসলে জামায়াত-বিএনপি যে জোট সেটাকে ভাঙার জন্য এটা বানানো হয়েছে। অামার বাবা গ্রেফতারের পূর্বে জাতির উদ্দেশ্যে একটা ভাষণ দিয়ে গেছেন। সেখানে তিনি সুস্পষ্ট বলেছেন, ২০০১ পর্যন্ত অামাকে কেউ যুদ্ধাপরাধী বলেনি। এটি এ দেশের সকল মানুষের বক্তব্য এবং অধ্যাপক গোলাম অাযম স্পষ্ট বলে গেছেন, এই ট্রাইব্যুনাল হয়েছে জোট ভাঙার জন্য, অার কোনও কিছু না। এটির ব্যাপারে উনার কি বিশ্লেষণ ছিল তা অামি কখনও জিজ্ঞাসা করিনি। কিন্তু অামি এই কথা বলতে পারি, অামি যেটা বলেছি এটা এ দেশের সাধারণ মানুষসহ সকলেই বিশ্বাস করে যে, এই দুই জোট এক সাথে থাকলে সঠিকভাবে এবং নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয় এবং অধ্যাপক গোলাম অাযম যে কেয়ারটেকারের ফর্মুলা দিয়েছেন যার মাধ্যমে ৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচন হয়েছে এমন নির্বাচন হলে অার দুই দল একত্রে থাকলে কোনও শক্তি ক্ষমতায় অাসতে পারবে না। প্রশ্ন: অাপনারা ২০০৮ সালে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছেন। তখন বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেও জিততে পারেনি। তাই জামায়াত ছাড়া বিএনপি কখনো ক্ষমতায় যেতে পারবে না, এমন একটি রাজনৈতিক স্টেটমেন্ট অাপনি কোন অাত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে দিয়েছেন? অাযমী: অামি এটি অামার ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকেই দিয়েছি। অামার কোনও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। অামি অামার ফিলিংসটা তুলে ধরেছি। অামি বলেছি রাজনীতি অামি ফলো করছি। অার ২০০৮ সালে নির্বাচনের সময় অামি সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলাম। সেসময় অামি সেনাবাহিনীর অংশ হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছি। ওই নির্বাচন নিয়ে এ দেশের মানুষের অনেক সংশয়, প্রশ্ন, দ্বিধা রয়েছে। এই নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। /এসএম/এমআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।