রাত ০৪:২৪ ; রবিবার ;  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯  

শহরে বসবাসে নারীদের ঝুঁকি বাড়ছে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

রবিউল ইসলাম ॥ দেশব্যাপী আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের মাত্রা। বিশেষ করে শহরগুলোতে বসবাস করা নারীদের জন্য খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইড পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ৮০০ নারী ও কিশোরী এবং ৪০০ পুরুষের ওপর এ গবেষণা করা হয়। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ শহরে বসবাসরত নারীদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। বিআইডিএস মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে সংস্থাটি মোট ১২শ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এর মধ্যে ৮শ নারী ও শিশু। ২শ পুরুষ ও ২শ জন ১৮ বছরের কম বয়সী ছাত্র। এতে দেখা গেছে ৭৬ শতাংশ নারী ও শিশু জানিয়েছেন যে তারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ৩০ বছর বয়সের বেশি ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন তারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সাক্ষাৎকারে ৯৭ শতাংশ মহিলা ও ৯৫ শতাংশ পুরুষ জানিয়েছেন, যৌন নির্যাতন নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একটি অংশ। এমনকি দেখা গেছে অধিকাংশ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তা মাত্রা ছাড়িয়ে না গেলে কোনও ব্যবস্থা নেননা। ৫০ শতাংশ নারী কোনও ধরনের প্রতিবাদ না করে এ নির্যাতন সহ্য করেছেন। অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, নারীর প্রতি যৌন সহিংসতামুক্ত ও নিরাপদ নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারি সেবার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করতে অ্যাকশন এইড এ জরিপ পরিচালনা করে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নগরের ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ নারী গণপরিবহন, রাস্তা কিংবা উন্মুক্ত জনবহুল এলাকায় চলাফেরা করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এসব নারীর ৮৮ ভাগই মনে করেন তারা পথচারী, পুরুষ-যাত্রী এবং ক্রেতাদের দ্বারা হয়রানির শিকার হন। শহরের ৯৭ শতাংশ নারী যৌন হয়রানিকে সহিংসতা মনে করেন। তারা মনে করেন, পুলিশের সাহায্য চাইলে সমস্যা বাড়ে। যৌন সহিংসতা এড়াতে ৬৪ শতাংশ নারী রাতে ঘরের বাইরে যান না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ৬০ ভাগ নারী রাতে ঘরের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে দলগতভাবে যেতে চান। সেলিনা হায়াৎ আইভী যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট সাজার বিধান সংবলিত উপযুক্ত আইন প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু নারী কেন, এই নগরীর একজন মানুষও আজ নিরাপদ নন। নারীর জন্য নিরাপদ নগর গড়ে তোলা হলে তা সবার জন্য নিরাপদ হয়ে উঠবে। তাই যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি সুশীল সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইড পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্যই উঠে এসেছে। /এমআর/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।