সকাল ১০:২৭ ; সোমবার ;  ২২ অক্টোবর, ২০১৮  

দ্বিতীয় দশকের কবিতা ও ভাবনা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

[২৭ অক্টোবর, সোমবার কাগজ প্রকাশনের সভাকক্ষে দ্বিতীয় দশকের কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল কবিকে নিয়ে কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পঠিত কবিতা নিয়ে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক জমে ওঠে। বাংলা ট্রিবিউন সাহিত্যে তাদের একটি করে কবিতা ও কবিতা ভাবনা প্রকাশ করা হলো।]

 

মহিম সন্ন্যাসী শিউলিসভ্যতা

মিথে আর মৈথুনে পারফরম্যান্স ভালো হলে মানুষ দেবতা হয়, দেবতারা আশ্বিন মাস। উপর্যুক্ত মাসে জীবনে শিউলি আসে শিউলি সাংঘাতিক : নিরাপদ দূরত্বে কর্ণকুহর পুঁতে রাখুন মেঝের ফাটল খুঁজে অক্ষিকোটর গুঁজে দিন আবর্জনার নিচে চাপা দিন নাসিকার গহবর শিউলি সেয়ানা হলে গবাদির দড়ি কাটা চাই চাঁদবণিকের দেশে এ শিউলি মনসার মেটাফর। যে পুরুষ রণে ষাঁড়, রমণে ভালুক যেই নারী বনে সীতা, বমনেও সতী উভয়েই শিউলির টার্গেটে পড়ে যায় শিউলির মৌসুমে গাড়িতে চড়াও হলে সিটবেল্ট বেঁধে নিন নারীতে চড়াও হলে ঢাকুন। কী করিব শিউলির বোঁটার বাখান বর্ণিতে নাহি জানি এ ফুলের কীর্তিকলাপ পাপড়িতে লোক ঠকে, পাপড়িতে লোক ধোঁকা খায়।   আমার কবিতা : তাতে ভাষার ব্যাপার

‘‘আমি যেসব ইংরেজি শব্দকে কবিতায় ঠাঁই দিয়েছি, সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাঙালিদের নিত্যদিনের কথাবার্তায় বহুলব্যবহৃত, নয়তো তার কোনো ক্ষমতা নেই অন্য একটি বাংলা শব্দকে স্থানচ্যুত করার’’

mohimভাষাকে পাল্টে দেয় ভাব। ভাব বলে দেয় কোন কবিতাটা টানা গদ্যে লিখে যেতে হবে, কোনটা লিখতে হবে পঙক্তি ভেঙে ভেঙে। আবার পঙক্তি বিভাজিত হবে বাক্যের কোন জায়গায়— সেখানেও ভাবের আধিপত্য। "কামিজের পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি বলে"— এতটুকু লিখে আমি যখন দ্বিতীয় পঙক্তিতে চলে যাই, সেটা কেবল ঐ "বলে" শব্দটি দিয়ে বাক্য অসমাপ্ত রেখে দ্বিতীয় পঙক্তি শোনার কৌতূহল তৈরি করবার জন্য নয়। অথবা এমনও নয় যে আমি জোরপূর্বক পঙক্তির দৈর্ঘ্য সীমিত করতে চাইছি। অন্ত্যমিল মাত্রই কবিতাকে খেলো করে— এটা অতিশয়োক্তি। কিন্তু এটা তো সত্যি যে, অন্ত্যমিলের ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে স্বতঃস্ফূর্ত অন্ত্যমিলও এড়িয়ে যেতে হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে। আর যেখানে ব্যবহৃত অন্ত্যমিলকে আরোপিত মনে হয়, সেক্ষেত্রে অন্ত্যমিল বর্জন করাই কর্তব্য। "কবিরা জিম্যাক্স খেলো, খোকা খেলো রেনিটিড/ দুধমাখা ভাত খেলো কাকে/ গাউছিয়া মার্কেট এখনো সে কাকটিকে গোপনে বৌদি বলে ডাকে"— এটার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পঙক্তির অন্ত্যমিল খুবই সাধারণ, তবে স্বতঃস্ফূর্ত এবং আমার মনে হয়নি এটি কবিতার কোনো ক্ষতি করেছে। নিজের কবিতার ভাষা নিয়ে কথা বলতে গেলে আমাকে অন্ত্যমিলের প্রসঙ্গ টানতেই হবে। কেননা ভাষার চরিত্রটা অনেক জায়গাতেই প্রভাবিত হয়েছে অন্ত্যমিল দ্বারা। কবিতায় বিদেশি ভাষার শব্দ ব্যবহার কীসের ইঙ্গিত বহন করে— এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি বহুবার। বিশেষত ইংরেজি ভাষার শব্দগুলো এক্ষেত্রে সবচেয়ে আপত্তিকর। তবে আমি ব্যবহার করি। ব্যবহার করি করতে হয় বলেই। "আষাঢ় মাসের নদী রিংটোন পাল্টালে"— পঙক্তিটিতে "রিংটোন" শব্দটির ব্যবহার জরুরি হয়ে উঠেছিল। এতই জরুরি হয়ে উঠেছিল যে এটি কোন ভাষার শব্দ তা তখন মাথায় আনার প্রয়োজন বোধ করিনি। বিদেশি শব্দ ব্যবহারের ঝুঁকির জায়গা হলো, এসব শব্দ নিজ ভাষার শব্দকে হটিয়ে স্থান করে নিতে পারে। আমি যেসব ইংরেজি শব্দকে কবিতায় ঠাঁই দিয়েছি, সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাঙালিদের নিত্যদিনের কথাবার্তায় বহুলব্যবহৃত, নয়তো তার কোনো ক্ষমতা নেই অন্য একটি বাংলা শব্দকে স্থানচ্যুত করার।   শঙ্খচূড় ইমাম রোববারের নিমপাতা জলের ফোয়ারা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভাবনা তোমাদের গুহাচিত্রে কোনোদিনই হবে না লাল দ্যাখো, পোড়া হাত নির্দেশ করতেই— পাখিরঙ পর্বতদ্বয় উড়তে থাকে ইশরাফিলে আর যতসব স্নিগ্ধ সৌখিন শৃঙ্খল নিঃশেষে বিভাজ্য আজ তা বেকে বসে বসন্ত ব্যঞ্জনায় তোমরা কি বুঝ না— দুই পাড়া দূরে রেখে জেগে ওঠা পিচ্ছিল জ্ঞান কতটা করুণা হলে নেমে আসে প্রস্থান পর্বে   কবিতা ভাবনা

‘‘আমি মনে করি ভাষার যে নতুন শৈলী দেয়া হবে তা জনজীবনে প্রভাবিত করতে রোজকার কথ্যভাষায় প্রবাহমান করাও নতুনদের দায়িত্ব’’

ইমামদুই সত্তার দ্বৈরথ আমাকে নামালো এই খাদে। এখানে রয়েছে বহু কৌণিকতার সমন্বিত আয়না। হয়তো নরকের নাকফুল কিংবা ধৈর্যের উপসংহার। ওই যে দ্যাখো— একটা শূন্য পড়ে আছে, সম্ভবত ওটাই কবিতা! যাপনের মধ্য দিয়েই জাতিসত্তার রূপ লাভ হয়। সময়ের পথ পরিক্রমায় এই যাপন বিভিন্ন স্তরে উন্নীত হয়। প্রতিটি স্তরে মানুষের বৈশিষ্ট্য-ধরন, চিন্তা-চেতনা, ভাব-উপলদ্ধি সংযোজন ও বিয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বৈচিত্রের দিকে ধাবিত হয়। এসবকে ফুটিয়ে তুলতে আমরা সময়োপযোগী শব্দ ব্যবহার করে থাকি। যা ভাষার বিনির্মাণ। প্রসঙ্গ হচ্ছে কবিতায় ভাষাশৈলী। কবিতার ধারাবাহিক বিকশিত হওয়ার দিক লক্ষ্য করলে দেখা যায়— একেক সময়ের ভাষারূপ একেক রকম ছিল। এক্ষেত্রে ভাষা পরিবর্তনশীল। সে পরিবর্তনটা চেতনে হোক কিংবা অবচেতনেই হোক। আমি মনে করি কবিতায় ভাষার বিনির্মাণ সচেতন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টা হচ্ছে— যে সময়টা আমরা বহন করছি সেই সময় কি চায়, সেটা যদি আমরা একটা উপযুক্ত কথার দ্বারা প্রকাশ করি সেটই হবে ভাষার শৈলী। এক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগতে পারে কবিতায় পূর্বে যে ভাষাশৈলী ব্যবহার হয়েছে সেগুলো চাপা পড়ে যাচ্ছে কিনা? কিন্তু তা নয়। বরং ভাষায় নতুন শৈলী বর্ধিত হচ্ছে। ভাষা যেহেতু বিকাশমান ও জীবন্ত সেক্ষেত্রে সময়োপযুক্ত ভাব প্রকাশ করতে নতুন শব্দ, সেসব শব্দের নতুন ব্যঞ্জনা চলমান থাকা দরকার। সে নিরিখে কবিতায় আমরা ভাষার যে শৈলী দিচ্ছি তাও যেন বিস্তৃত ব্যঞ্জনায় চলমান থাকে। অর্থাৎ এটা সচেতন প্রক্রিয়াই করতে হবে। আমি মনে করি সমকালীন চিন্তা ধারাকে প্রকাশ করতে অবশ্যই কবিতার ভাষায় নতুন শৈলী আনতে হবে। এক্ষেত্রে কবির নিজস্বতা ও সক্ষমতা দরকার। কেননা মানুষের জ্ঞান দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে। সেই সমৃদ্ধের ধারাবাহিকতায় কবিতার ভাষায় যে শৈলী থাকবে তাও যেন সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়। মাঝে মাঝে মনে হয় যা ঘটছে, হচ্ছে এসব তো সবই লেখা হয়ে গেছে। আসলেই তাই। লেখা হয়ে গেছে। কিন্তু এ জন্য তো নতুনরা বসে থাকবেন না। এক্ষেত্রে পূর্বের টেক্সটগুলো দেখা যায় নতুন আঙ্গিকে ধরা দেয়। তাই সেগুলো আবার নতুন রূপেই প্রকাশ করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিজস্ব প্রকাশ ও অভিব্যক্তিতে কাব্যভাষার বিপুল ভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। যা ভাষার শৈলী। এখানে নতুনদের করনীয়টুকু কি সেটা তাকে বুঝতে হবে। হতে পারে প্রথাগত, এক্সপ্রেশনাল, সাইকেল সিস্টেম, টিউনিং, শেড ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া। এড়িয়ে যাওয়ার পর যা হবে তা হবে নতুন উৎপাদন। আমি মনে করি ভাষার যে নতুন শৈলী দেয়া হবে তা জনজীবনে প্রভাবিত করতে রোজকার কথ্যভাষায় প্রবাহমান করাও নতুনদের দায়িত্ব। তবে শৈলী যদি উচ্চ মাপের হয় সেটাকে ঠিক ব্যাপক জনগোষ্ঠির সাথে কমিউনিকেট করানো কঠিন। যেহেতু শৈলীবোধ স্তরে স্তরে এক এক রকম হয়। এক্ষেত্রে লেখার সময় শ্রেণিভিত্তিক পাঠকের চিন্তা করেও শৈলীবোধ দাঁড় করানো যেতে পারে।   শ্যামল চন্দ্র নাথ একলা এক নাবিক বলো, কে নেবে আমার হাত, শুষ্ক প্রভাত দিনে দিনে আমি শুধু হারিয়েছি দিশা এ কেবল ইট কাঠ পাথরের যুগ নয় যেন মৃত্যু নেশা। এ যুগে কেউ কেউ জঙ্গি হয়, কেউ কারো সঙ্গী হয় এখনো আমি কারো নই, আমি একলা এক নাবিক, চলি নির্ভীক; মাঝেমাঝে মৃত্যুকে করি ভয়, যদি করতে পারি জীবন জয়। দেখি পাথরের দেওয়ালে লেগে আছে চিকমিক রোদ পৃথিবীর পথে পথে পড়ে আছে বিবেকের বোধ; তাই, জীবনের কষ্ট মৃত্যু থেকে একটু হালকা হলে দিয়ে দেবো আকাশের চোখে ধুলো, নিয়ে নেবো ক্ষতবিক্ষত রাত্রির শোক। কে নেবে আমার হাত, শুষ্ক প্রভাত? তবু লিখে যাই নিষ্ফল জীবনের কথা বলো, কে নেবে আমার হাত, শুষ্ক প্রভাত কে নেবে সহানুভূতিহীন শব্দে আমার দুঃখ-ব্যথা।   আলোর স্তব্ধময় রূপ ‘‘দ্বিতীয় দশকে যে মানের, ভাবের, ভাষার কবিতা লেখা হচ্ছে তা বর্তমান বিশ্বকবিতা এবং আধুনিক বাংলা কবিতা থেকে আলাদা। আলাদা এই অর্থে দ্বিতীয় দশকের কবিতা সম্পূর্ণ গদ্য এবং পদ্য কবিতার ব্যাকারণীয় শুদ্ধতম ধারাকে ধারণ করে না বলে আমি মনে করি।’’ শ্যামলবাস্তবতা, কল্পনা বা উপমায় শব্দের লিরিক্যাল নির্যাসের স্বতন্ত্র ভাব এবং ভাষাকে আমি কবিতা বলে মনে করি। প্রত্যেকের ভিতর কল্পনা এবং অভিজ্ঞতার স্বতন্ত্র সারবত্তা নিশ্চয় রয়েছে আমিও হয়তো এর ব্যতিক্রম নই। কবিতা যেন সৃষ্টির রক্তময় আবেগের আশ্চার্য এক বিশ্লেষণ যা সম্পূর্ণ বিশ্বাস এবং আত্ম উপলব্ধির সচেতন, অবচেতন অন্ধকার এবং আলোর স্তব্ধময় রূপ। এই রূপ ভাঙতে ভাঙতে, গড়তে গড়তে এক সময় কবিতা হয়ে ওঠে। যা আসলে নানান রকম মতবাদের এবং ধ্যান ধারণার চিন্তাময় চিত্তকে নাড়া দেয়। এবং সেই নাড়া দেওয়া সমাজ, জাতি কিংবা মানুষের সমস্যার বিষয়বস্তুর বাইরে নয়। আবার কখনো শুধু ভিতরেও নয়। কিন্তু কবিতা লেখা শুরু থেকে আধুনিক বিশ্ব কবিতায় ভাষা, ভাবে, অর্থে এবং আঙ্গিকের যে পরিবর্তন সেই পরিবর্তন বাংলা সাহিত্যও ঘটেছে, ঘটে চলেছে। তবে আধুনিক বাংলা সাহিত্য যে ভাবনার কথা, ভাষার কথা, অর্থের কথা, আঙ্গিকের কথা আমি বলতে চাই সে পরিবর্তনটা গদ্য না হয়ে পদ্যে ঘটে গিয়েছিল বলে আমার অভিমত। বৈষ্ণব যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাংলা কাব্য ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি নিশ্চয় রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ পরবর্তী সময়ে আধুনিক বাংলা কবিতা একটা বাঁক বদল করে তার মাস্তুল খানিকটা পশ্চিম দিকে ঘুরিয়েও এই আধুনিকতা তবু স্বতন্ত্র কাব্য ভাষায় প্রোথিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দশকে এসে আমিও একজন যে কবিতা লিখে যাচ্ছি। কিন্তু পরিবর্তনের স্বীকৃতি তো আবেগের মত। আবার শুধু আবেগ দিয়ে তো আর কবিতা লেখা চলে না। সৃষ্টির মধ্যে হয়তো মাঝেমাঝে নতুন শব্দের, বর্ণের, ভাষার আঘ্রাণ পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দশক বাংলা কবিতার আধুনিকতম মাধ্যমে যাওয়ার অভিপ্রায় রাখতেই পারে। তবে তা কতটা বাস্তবতার নিরিখে বিচার্য— তা এখনো মনে হয় বলে ওঠার সময় হয়নি। শুধু এটুকু বলতে পারি দ্বিতীয় দশকে যে মানের, ভাবের, ভাষার কবিতা লেখা হচ্ছে তা বর্তমান বিশ্বকবিতা এবং আধুনিক বাংলা কবিতা থেকে আলাদা। আলাদা এই অর্থে দ্বিতীয় দশকের কবিতা সম্পূর্ণ গদ্য এবং পদ্য কবিতার ব্যাকারণীয় শুদ্ধতম ধারাকে ধারণ করে না বলে আমি মনে করি। তথাপি কিছু কবিতা বিস্তৃত অর্থে কবিতা হয়ে ওঠেছে। এই ভেবে দ্বিতীয় দশকের একজন কবি হিসেবে আমি পুলক বোধ করছি।   সানাউল্লাহ সাগর নীল শহর হেমন্তের মঞ্চায়ন শেষে তুমি আসলে রোদ বললো— শববিছানায় কাতরতা নিভে গেলে এক পশলা মহৎ বরষা নামাবো। আগুন বললো— কষ্টের শামিয়ানা টেনে দাও আমি একগুচ্ছ নীল প্রজাপতি উড়িয়ে দেবো। আমি শ্মশানবালক আপদমস্তক রোদহীন নীলরাধা লালন করি। আমার শহরের প্রতিটি তোড়ন নীল, আমার বিপনীর প্রতিটি বিক্রিযোগ্য নিঃশ্বাস নীল, আমার দৃষ্টির প্রতিটি অহংকার নীল। আমি ও রোদ একবাক্যে মেঘ হয়ে যাই অসম চিকিৎসায় বেদনার শয্যা চিত্রায়িত করি- আর মুগ্ধ নিরবতায় তুমি নীল বায়ু তুমি নীল স্লোগান তুমি নীল পোস্টার ...মুখস্ত করি। জানি না কোন স্বপ্নে পড়শি বাগানের সুবাস মেখে তুমি হেসেছিলে কবে ভুল বানানে... জানি স্পষ্ট সুরাতে তোমার এলবামের প্রতিটি ছবি নীল তোমার প্রত্যাবর্তনের প্রতিটি স্বপ্ন নীল তোমার অপ্রকাশিত হাসির শব্দ নীল সকল পবিত্র অসুখ তোমার সুখিশব্দে— দৃশ্যায়নের বিরতিতে আমাকে শীতের উমে জাগিয়ে দিও নীলের শহরে আমি একটি গোলাপি শহর বায়না দেবো।   কবিতা ও ভাষা ভাবনা

‘‘অদৃশ্য সন্তানের মুখে চুমু খেয়ে খেয়ে তার প্রতিচ্ছবির বৈধতা দিতে চিৎকার করছি সময়ে-অসময়ে। কেউ কি ভর্ৎসনা করছেন? করুন!’’

সাগরঘুমের ঘোরে কি যে এক সাবলীল সুর তৈরি হয়, স্বপ্নঘরে তার স্বাধীন বিচরণ। মায়াময় নর্তকীদের নিবিড় আলিঙ্গন! সকালের কোমল আলো আর মধ্যবিত্ত ব্যস্ততার যৌথ প্রযোজনায় তৈরি হয় জীবনের চিত্রনাট্য। মাতাল শহর— মুগ্ধ ছায়া— অবৈধ হাঁট এইসব আমার চিরপরিচিত মানুষের চিরপরিচিত স্বর। হাঁটতে হাঁটতে মানুষ দেখি— পড়তে পড়তে মানুষ দেখি— অভ্যস্ত ভঙ্গিতে আন্তরিক পাঠ নেই মানুষের। সতেজ ভাবনায় অধ্যায়ন করি প্রতিটি প্রত্যন্ত বাঁক। এখানে আমার প্রতিটি নির্বাক ধ্বণি— আমার প্রতিটি দৃষ্টিভ্রম আমাকে ঘুমের দরজায় স্বাগত জানায়। এই ঘুম ক্রমেই পবিত্র থেকে পবিত্র হয়ে ওঠে... যেদিন বরষা ছুঁয়ে জ্যোৎস্নায় তামাসা ভেবেছিলাম সেদিন থেকেই কি এক অসুখে ক্লান্ত পায়রা আমাকে বাগিয়ে নিলো। সকালে বেলা করে ঘুম থেকে উঠি। কাজের নামে সব অকাজে দিন চলে যায়। সূর্যের সাথে আলো পালালে নিত্যনিঃসঙ্গতা চারপাশের দেয়ালের পাছায় সুড়সুড়ি দেয়...তীব্র কামকাতর হয়ে আলোকণার যোনিতে নিদ্রিত অন্ধকার জেগে ওঠে...তখন নিজেকে মেলে দেই তারাদের মৈথুন ক্রিয়ার অভ্যন্তরে। চেনা হরফের ডানায় বিজয় শিৎকার আমাকে এলোমেলো করে দেয়ে। নগ্ন বৃত্তান্তে মাথার কার্নিশে হেঁটে চলে তামাম দুনিয়া। মরুভূমির শূন্যতা— আফ্রিকার বর্ণবাদ— নিপীরিত মানুষের অবয়বে পুঁজি বাজারে মুদ্রিত ছবি— সব জলছবি নিদ্রার বাড়িময় আমাকে খুঁজে বেড়ায়। শৈশবে বাবা’র পিটুনির ভয়ে পাড়া দৌঁড়ে দুষ্টমির পণ্ডিত হওয়া হওনি— নায়ক হওয়ার ইচ্ছে ছিলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে সে ইচ্ছে পালিয়েছে... প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করার ইচ্ছে এখনো জিইয়ে রেখেছি... এসব করে করে কি কাঁটাতার জড়ানো বিদ্যুতে জড়িয়ে সরল প্রবণ জীবন-যাত্রাকে বৃত্ত থেকে বন্ধুর করে তুলছি... তবুও বেঁচে আছি বাঁচার লোভে। অদৃশ্য সন্তানের মুখে চুমু খেয়ে খেয়ে তার প্রতিচ্ছবির বৈধতা দিতে চিৎকার করছি সময়ে-অসময়ে। কেউ কি ভর্ৎসনা করছেন? করুন! নতুন পথ দেখাবেন? কি দরকার! জাগতিক অসুখ ছেড়ে পরম অসুখের অপরিমেয় সুধা পান করছি— এটাই আমার স্বনির্বাাচিত সঠিক পথ...   সায়মা হাবীব সাবেক মোহ ঠিক এই সময়টাই প্রলম্বিত হয়ে যখন এর এক প্রান্তে জ্বলে উঠবে আলো— তখন থেকে দেখছি এই বিস্তীর্ণ উৎক্ষণ ডিঙিয়ে যাব বৃহত্তর যে বিন্দুতে সেটা কখন তলাবিহীন ত্রিভূজ হয়ে সাঁতরে গেছে কিংবা যাবে অনন্ত কোন বর্তমানের মত্তভূমে— সপাট এসে খুবলে নিয়ে কোন হাওয়াকে, মুড়িয়ে দিয়ে সুগন্ধিতে, এই যে লোবান ডুবিয়ে দিল গতআবেগ— হাতড়ে দেখি আমার যে এক সেকাল ছিল সেই প্রলয়ে সমস্তটা পাক খেয়ে খুব খামির হবে, ঝিনুক ভরে মরচে এনে রাঙিয়ে দেব এই বিভূতি   ছন্দহীন স্বচ্ছন্দ  

‘‘কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতিকে যৌথ অনুভূতিতে পর্যবসিত করার কোনো সচেতন চেষ্টা দেখা যায় বলে মনে হয় না। সম্মিলিত দলগত যে উচ্চারণ : ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’র দিকে আসা, এটা আমি বিশেষভাবে করতে চেয়েছি।’’

saymaদ্বিতীয় দশকটা একেবারেই গদ্যকবিতার। আগের দশকগুলো যেভাবে এগোচ্ছিল তাতে এখানেই পৌঁছনোর ছিল। কিছু নতুনত্বও আছে। ভবিষ্যতে কবিতা থেকে ছন্দ যে একেবারে উঠে যাবে সেটা এখনই বলা যায়। ছন্দের শিকলবিহীন স্বচ্ছন্দ এবং স্বাধীন উন্নতমানের কবিতা লেখা সম্ভব হলে ছন্দের সেখানে কাজ কী। জীবন যেখানে গদ্যের মতো রুক্ষ সেখানে স্বরবৃত্ত বা মাত্রাবৃত্তে লিখবার মতো লঘু বাস্তবতা কোথায়। প্রযুক্তিজাত নিরাবেগ, স্বেচ্ছাচার, নানারকম সংশয়, বঞ্চনার ফলে হাহাকার, সমাজচিন্তা এবং বয়সের প্রভাবে মূলত, প্রেম বা প্রেমহীনতা এখনকার কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। চেতনাপ্রবাহের অনুপস্থিতি, চমকপ্রদ আপাতসম্পর্কহীন বিচ্ছিন্ন বাক্য সংযোগে কবিতা নির্মাণ এই সময়ের অন্যতম প্রবণতা। আত্মবিশ্বাসের অভাব, হ্রস্বদৃষ্টি, দর্শনহীনতা, দীর্ঘমেয়াদী গভীর ধারাবাহিক ভাবনাযাপনের ইতিহাসের অনুপস্থিতি কিছু কিছু ক্ষেত্রে কবিতাকে ছন্নছাড়াও করে দিচ্ছে। নিজস্ব প্রবণতা বা ধারা তৈরির নিরন্তর চেষ্টা আবহমান কাল ধরে সাহিত্যের সব শাখার লেখকদের মধ্যে চলে আসছে যার কোনো প্রয়োজন আমি দেখি না। ধারা তৈরির নিয়ামক : একই ধরনের ন্যূনতম পরিমাণে কবিতা লেখা। কিন্তু জীবনব্যাপী বিভিন্ন ধরনের, প্রতিটি আলাদা স্বাদের কবিতা লিখতে পারার ক্ষমতা বহুমাত্রিক কবির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত। বর্তমানে শুধু নয়, সকল কালের নারী কবিদের কবিতাবৈশিষ্ট্যে আত্মবিশ্বাস, ধী, প্রত্যয়, গভীর জীবনদৃষ্টির অভাব দেখা যায়। নারীজীবন যেন ভার হয়ে তাদের কবিতায় এসে পড়ে, পুরুষের দাঁত নখ এবং স্বেচ্ছাচারের বিপরীতে অসহায়, অনুগত বা প্রতিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিই মূলত নারী কবিদের কবিতা হিসেবে দৃষ্ট। কোনো না কোনোভাবে জেন্ডারগন্ধ যেন অপরিহার্য। ফলে নারী কবিদের  কবিতা কখনোই মানুষের কবিতা হয়ে ওঠেনি। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, পুরুষকে প্রতিযোগী হিসেবে না ভেবে সহযোগী করে তোলার মধ্যেই নারীবাদের মুক্তি। নারীর অধিকার ভাষা বা ভূমির অধিকারের মতো নয় যা যুদ্ধঘোষণার মাধ্যমে আদায় সম্ভব। কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতিকে যৌথ অনুভূতিতে পর্যবসিত করার কোনো সচেতন চেষ্টা দেখা যায় বলে মনে হয় না। সম্মিলিত দলগত যে উচ্চারণ : ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’র দিকে আসা, এটা আমি বিশেষভাবে করতে চেয়েছি। বাক্যগঠনে বহুকাল আনকোরা কিছু দেখা যায় না, সেদিকটায় নজর দিতে চাইছি। আবার, সাধারণ বর্তমান বা ঘটমান বর্তমান ছাড়া ক্রিয়ার অন্য রূপ চোখে পড়ে না। আমি অতীত, ভবিষ্যৎ, এমনকি বিভিন্ন কালের মিশ্রণ নিয়ে ভেবেছি। শুধু কলাকৈবল্যাবাদে যেমন শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে না তেমনি শুধু সমাজদৃষ্টি সমাজের উপকারে কমই আসবে। গণ্ডা গণ্ডা ইজমের ভিড়ে, ফিউশনের যুগে, সকল উপাদানের প্রয়োজনীয় ব্যবহার সুষম খাদ্যের মতোই কাজে দিতে পারে।   সুলতান সালাহ্উদ্দিন বিচ্ছিন্ন নাবিক একেকবার পিছু ফিরে একা উজ্জ্বল ল্যম্পপোস্ট অস্বীকার হয়, বিভ্রান্তিও থাকতে পারে কিছু নতুন ইশারায়, পথ ও সময় চিরকাল রয়ে গেলো মুখোমুখি সিসিফাস। সৃষ্টব্য বহুপথ রেখে একক পথে কত যে দেয়াল! পেছনেই ছিলো নামপরিচয়হীন এপিটাফ, আলোকিত শ্মশান আরেকটু চলো বাংলাদেশ! মুখের দেখা আজো দেখি না, বিশাল আকাশ কালো থাকতেই নিশ্চিত বোধ করে। খেলা তো চলছেই জনাব, উপরে-ভেতরে এমন কি বোকা-সোকা অন্তরেও! কার কত স্কোর তার চেয়ে উদ্বেগের কত কত হারালো! কাজবিহীন একটা পিঁপড়েও আসেনি আজো, শুধু বঞ্চিত থাকে আমি-তুমি-অনেকোরা... আরেকবার হ্যান্ডশেক হয়ে যাক মৃত্যুর আগে মৃত্যুকে!   কবিতাকে নিজপায়ে দাঁড়াতে হয়

‘‘শিল্পে নির্মাণ নামক পদ্ধতি বড়জোর হয়তো কিছু উপাদানের সন্নিবেশ হয়, পথিকের কিংবা দর্শকের নতুন যাপনের আশ্রয় সৃষ্টি করে না, যেখানে চিন্তার ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশান্তি মেলে।’’

sultanএমন কোনো জিজ্ঞাসা বাকি যা নিজের কাছে আজও করা হয়নি? ভাবতে ভাবতে নিজের সামনে দাঁড়াতে গেলে মনে হয় চেনা হয়ে উঠেনি পুরো পৃথিবী ও তার ভাষা। যেহেতু নিঃসঙ্গতা বলে একটা ব্যাপার আমাদের আছে, আরও আছে না বলা ভাব বিনিময়ের সমৃদ্ধ এক সন্ধান। নিজেকে যেমন শুধু মানুষ পরিচয় দিলে পরিপূর্ণ আত্মপ্রকাশ দাঁড়ায় না তেমনই কবিও। বেঁচে থাকা বা মরে যাওয়াও এখানে আপেক্ষিক ব্যাপার, সত্যিকারের কাজ করে যাবার মাঝে হয়তো সার্থকতা! ঠিক এইখানেই আবারও জিজ্ঞাসা, কাজটা কী? আর যাই হোক দেখে দেখে অনুসরণ নিশ্চয় নয়। একটা ইউনিক মোটিফ হয়তোবা এখানে সম্পর্কিত। কবিতাকে আমি প্রাণ বলেই ভাবি যেহেতু সত্যিকারের কবিতাকে নিজপায়ে দাঁড়াতে হয়, চলতে শিখতে হয়। শিল্পে নির্মাণ নামক পদ্ধতি বড়জোর হয়তো কিছু উপাদানের সন্নিবেশ হয়, পথিকের কিংবা দর্শকের নতুন যাপনের আশ্রয় সৃষ্টি করে না, যেখানে চিন্তার ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশান্তি মেলে। শিল্প কোনো দালানকোঠা নয়, শিল্প তাই প্রাণের সমান দামী। জীবনের বিকাশ যতদিন থাকবে শিল্প সৃষ্টির প্রক্রিয়াও ধারাবাহিক থাকবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়...   হিজল জোবায়ের দ্বন্দ্ব রাঙ্গামাটির জঙ্গলে সূর্য নিভে গ্যাছে, তুমি দেখো, তাকে আজ ভ্রান্তি মনে হয়— সেবার মরার সময় সান্ধ্য অন্ধকারে অবিনাশ, তোমার শাল হাওয়ায় উড়তেছিল, তাকে আজ স্মৃতি মনে হয় আমি বয়ে গেছি দূরে, তোমার গর্ভকেশর ছেড়ে মানুষের আলোচিত পৃথিবীর বাইরে— আলো আর অন্ধকার একটিই তার বিভাজন রেখা; সেই রেখা, রেখার ঘনত্ব দ্বন্দ্বময়তা ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে মাঝখানে নদী; ঢেউ বয়— নদীর ওপারে পাশ ফিরে তুমি ঢুকে গেছো নিজেরই বানানো স্বকীয়তা, অভ্যন্তরহীন স্বহন্তারক সেই স্বকীয়তার ভেতর— তবু, তোমারই নীরবতা থেকে বাক্য কুড়িয়ে দূরে এতদূরে আসা, বিস্মৃতি ঠেলে ঠেলে স্মৃতির ভেতর— বিস্মৃতি জাগে; ঘুমে ডোবা তুমি, অত অত ঘুমের ভেতরে অন্ধকার, অন্ধকারে দ্বন্দ্বময় অনির্ণীত তুমি আর আমি...   নৈঃশব্দমথিত সুরের বিস্ফার

‘‘সবকিছুর পূর্ণরূপ ঐ নীরবতার ভেতর জায়গা খুঁজে নেয়। নীরবতা বয়ে আনে অনুধাবন, অনুধাবনকে জারিত করে স্মৃতি। জ্ঞান কিংবা অভিজ্ঞতা যাকে বলি। কল্পনাও অনায়াসে এই স্মৃতি-পুঞ্জীভূত।’’

hiolসমস্ত শিল্পমাধ্যম চূড়ান্ত উৎকর্ষতার ভেতর দিয়ে শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠতে চায় কবিতা। আর কবিতাই তা, যা হয়ে উঠতে চায় সুর। সুরই পরিণতি;– যার কাছে পৌঁছাতে হলে কবিতার কাছে এসে দাঁড়াতে হয়। সুর সম্পৃক্ত নীরবতায়। সবকিছুর পূর্ণরূপ ঐ নীরবতার ভেতর জায়গা খুঁজে নেয়। নীরবতা বয়ে আনে অনুধাবন, অনুধাবনকে জারিত করে স্মৃতি। জ্ঞান কিংবা অভিজ্ঞতা যাকে বলি। কল্পনাও অনায়াসে এই স্মৃতি-পুঞ্জীভূত। স্মৃতিই আমার কাছে তাৎপর্যবাহী, যেখানে প্রত্যাঘাতের ভেতর দিয়ে, তা আমাকে ধারাক্রমে পৌঁছে দেয় নৈঃশব্দমথিত সুরের বিস্ফার ও নীরবতা, আঁধার শীতলতা এবং অনুধাবনের দিকে। সে এক অভাবিত রিয়ালিটি। ‘SILENCE IS ACCURATE.’ আহা! ধরা যায় না তাকে, আপাত অনুভবে পাওয়া। দেখি নাই, তবু জানি সে আছে, পাবো না তবু তারই অন্বেষণ, আনন্দ কি ক্লেদের ভেতর দিয়ে! এই কি সেই ঈপ্সিত পরম! পাবো না পূর্ণরূপ; সামান্য আলোকছটা ছাড়া, সামান্য উদ্ভাস! এই সামান্যেই খুঁজে পেতে হবে সমগ্রের প্রকাশ! অমীমাংসিত রই– শতখণ্ড শিলায়, বিদ্যুতে, আমিই তবে অমীমাংসিত পথ! আমিই ধাঁধাঁ! কাছাকাছি কোথাও উচ্চারণ শুনি, বন্ধুর ব্যাটা কবিপুত্র তারকাভস্কি বলতে থাকে– কবি তাই, যে ছেঁড়া মোজার একাংশ দিয়ে পায়ের গোড়ালি দেখেই পেয়ে যেতে পারে সমস্ত পায়ের ধারণা। কবির পুরোটুকু দেখবার প্রয়োজন পড়ে না। কবি তাই, যে খণ্ডাংশ থেকেই পেয়ে যায় সমগ্রের ধারণা। আশ্বস্ত হই...  

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।