রাত ০৮:৫৪ ; রবিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৯  

খুলনায় স্যানিটেশনে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

খুলনা প্রতিনিধি॥ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণসহ নানা দুর্যোগে খুলনা অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার কারণে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার স্যানিটেশন ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এ বিভাগের ৩৬টি পৌরসভার মধ্যে মাত্র তিনটিতে শতভাগ সাফল্য এসেছে। খুলনা বিভাগের অনেক এলাকায় নদী ও খাল পাড়ে এখনও ঝুলন্ত পায়খানা দেখা যায়। ওইসব এলাকায় নিরাপদ টয়লেট নির্মাণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌এরপরও দফায় দফায় লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন করে ২০২৫ সালের মধ্যে শতভাগ স্যানিটেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ আব্দুল মান্নান বলেন, “খুলনার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় দুর্যোগের কারণে স্যানিটেশন অবস্থা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবও এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক।” গত জুনে সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, খুলনা বিভাগে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারকারীর হার ৭৮ দশমিক ৬৫ ভাগ। এর আগে ২০০৩ সালের জরিপে এ হার ছিল ৩৪ দশমিক ৪৩ ভাগ। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর খুলনা এ জরিপ করে। জরিপে দেখা যায়, ৩৬টি পৌরসভার মধ্যে দাকোপ উপজেলার চালনাতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে চালনায় স্যানিটেশনের হার হচ্ছে ৯৫ দশমিক ০২ শতাংশ। ২০০৩ সালের জরিপে এখানে স্যানিটেশনের হার ছিল ৯৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। পাইকগাছা পৌরসভায় স্যানিটেশনের হার বেড়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এছাড়া  মাত্র ৩টি পৌরসভায় শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা রয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বিভাগের মধ্যে স্যানিটেশনে চুয়াডাঙ্গার অবস্থান সর্বনিম্ম অবস্থানে রয়েছে। এ জেলায় স্যানিটেশনের হার ৬১ দশমিক ৬০ ভাগ। সবচেয়ে ভাল অবস্থায় থাকা মাগুরায় স্যানিটেশনের হার ৯০ দশমিক ৪৭ ভাগ। ৭৫ দশমিক ১০ ভাগ স্যানিটেশন নিয়ে খুলনা রয়েছে অষ্টম স্থানে। বাগেরহাটে ৮৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, ঝিনাইদহে ৮৪ দশমিক ১২ শতাংশ, নড়াইলে ৮৪ শতাংশ, সাতক্ষীরায় ৮০ দশমিক ২১ শতাংশ, যশোরে ৭৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ, মেহেরপুরে ৭৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ, কুষ্টিয়ায় ৭৫ দশমিক ০৮ শতাংশ হার স্যানিটেশন রয়েছে। অপরদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় স্যানিটেশনের হার রয়েছে ৯০ শতাংশ। ২০০৩ সালে এখানে স্যানিটেশন হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪টি পরিবারের মধ্যে স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করা পরিবারের সংখ্যা রয়েছে ২৫ লাখ ৫২ হাজার ১৩৩টি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এসএম ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্যানিটেশন বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধিও এক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। আর স্যানিটেশন বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য চলমান ব্যবস্থায় সফলতা আসছে না। এ অবস্থায় বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। যা অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী ও টেকসই হবে।” জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ আব্দুল মান্নান বলেন, “এ কার্যক্রমের শুরুতে ২০১০ সালের মধ্যে শতভাগ স্যানিটেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ২০১৩ সাল ও তৃতীয় দফায় ২০১৫ সাল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য স্থির করা হয়। কিন্তু আইলা ও সিডরের কারণে স্যানিটেশন বাস্তবায়ন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থার কারণে সর্বশেষ ২০২৫ সালের মধ্যে শতভাগ স্যানিটেশন বাস্তবায়নের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।” /এমডিপি/এসটি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।