সকাল ১০:৫৪ ; শুক্রবার ;  ২৭ এপ্রিল, ২০১৮  

দেশের এক কোটি শিশু অফিসিয়ালি অস্তিত্বহীন!

দেশের পাঁচ কোটি ৭০ লাখ শিশুর অর্ধেকই দারিদ্র্যসীমার নিচে

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

শিশু অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনের (সিআরসি) রজত জয়ন্তীতে বিশ্ব শিশু প্রতিবেদন ২০১৫ প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিশেষজ্ঞরা মিলিত হয়েছিলেন।

শিশু অধিকার রক্ষা জোট বাংলাদেশ আয়োজিত 'শিশু অধিকার কনভেনশন ২৫ বছর: যেতে হবে বহুদূর' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মোট পাঁচ কোটি ৭০ লাখ শিশুর অর্ধেকই দারিদ্র্যসীমার নিচে। এসব শিশুরা বিশুদ্ধ পানি, যথাযথ পয়ঃনিষ্কাশন, পর্যাপ্ত পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপদ আশ্রয়ের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এদের মধ্যে এক কোটি শিশুর অফিসিয়াল অস্তিত্বই নেই। কারণ তাদের জন্মের পরে নিবন্ধন করা হয় না।

ইউনিসেফের মতে, একটি শিশুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণের পূর্বশর্ত হলো জন্ম নিবন্ধন। সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই জন্ম নিবন্ধনের হার সবচেয়ে কম। আর এ কারণেই সেখানে শিশু নিরাপত্তা, পাচার, শিশুশ্রম এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না।

ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট শিশুর প্রায় এক চতুর্থাংশই ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। এ ছাড়া ১২ থেকে ২৩ মাস বয়সী ১৪ শতাংশ শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়।

বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপাল নিয়ে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে দেখা যায় ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে দেশগুলো ৪০ শতাংশ দরিদ্র পরিবারকে পয়ঃনিস্কাশনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের উপ-পরিচালক শামসুল আলম বলেন, 'বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার ৬৬ শতাংশ যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। শিশু বিবাহ আমাদের দেশের জন্য এখনো একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এটি বন্ধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা দরকার'।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৮০ লাখের মতো পাঁচ থেকে ১৪ বছরের শিশু শিশুশ্রমের সঙ্গে যুক্ত।

ইউনিসেফ অপর এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশের প্রায় ছয় লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভোগে। মোট শিশুর প্রায় ১৮ শতাংশ জন্মের সময় এবং ৩৬ শতাংশ পাঁচ বছরের নিচের শিশু ওজনহীনতায় ভোগে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের মতে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে ১৮৩ শিশু ধর্ষিত এবং ১৩৪ শিশু নিখোঁজ অথবা পাচার হয়েছে। ২৬৬ শিশুকে অত্যাচার করে এবং ৩৫০ শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।

সমাবেশের বক্তারা শিশু নিরাপত্তা, বিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষকে।

সেভ দ্য চিলড্রেন ২০১৩ সালে করা এক প্রতিবেদনের সূত্র থেকে জানিয়েছে, ৯০ শতাংশ শিশুই প্রতিনিয়ত তাদের বাবা-মার দ্বারা হুমকি এবং ৩১ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়।

এসময় বক্তাদের মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখার জন্য সরকারকে দেওয়া তাগিদের বিষয়ে সমাবেশে উপস্থিত তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, 'বর্তমানে মেয়েদের সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স ১৮ এবং সরকার বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।'

/এসএ/এফএ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।