দুপুর ০২:০৮ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

রাগ অনুরাগের র‌্যাগ উৎসব

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

আসাদুজ্জামান লিমন।।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদের একটা অংশ হররোজ টিএসসিতে আড্ডা দেন। নিয়ম করে দুবেলা টিএসসিতে আড্ডা না-দিলে তাদের পেটের ভাত বুঝি হজম হয় না। সেদিন আড্ডাবাজ ঐসব তরুণরা টিএসসিতে গিয়ে বেজায় নাখোশ। ভেতরে ঢুকতে না পেরে আঙ্গিনার এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে। কিন্তু টিএসসির ভেতরে যারা আছেন তারা মজায় ছিলেন। ভেতরে উৎসব চলছিল।

অনুষ্ঠানের জন্য টিএসসির ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাইরে থেকে বোঝা গেল ভিতরে জমকালো কোনও অনুষ্ঠান হচ্ছে। ফটকের ওপাশে টুলে বসে সজাগ দৃষ্টি রাখছিল একজন। সবাই এসে গেট খুলতে অনুরোধ জানাচ্ছিল তাকে। কিন্তু প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। জনেজনে এই কথা বলতে গিয়ে সে বেশ নাখোশ। শুধুমাত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যারা এসেছিল তারাই ভেতরে ঢুকছে। পরিচয় দিতেই ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলে। ফটক গলে ভিতরে ঢুকতেই মনে হয় বিয়েবাড়ি। ফুল আর আলোকসজ্জা করা হয়েছে। টিএসসির করিডোরে মেঝেতে খানিক পরপর ফুল দিয়ে গোল বৃত্ত তৈরি করা হয়েছে। টিএসসি মিলনায়তন ভবনটাকেও লাল, নীল, হলুদ রঙের আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৫ ব্যাচের র‌্যাগ উৎসব উপলক্ষ্যে এই আয়োজন।

অনার্স শেষের পথে। আর কয়দিন পর স্নাতক হচ্ছেন তারা। এরপর চাকরির যুদ্ধে নামবেন। গেল চার বছরে বন্ধুদের সঙ্গে অনেক খুনসুটি হয়েছে। এসবকে স্মৃতিকে ধরে রাখতে তাদেরই তৈরি ‘তূর্য’(turzo) সংগঠনের ব্যানারে এই র‌্যাগ উৎসব চলছিল।

সবেমাত্র বিকাল হতে শুরু করেছে। এখনো দুপুরের ঝলমলে আলো নরম হতে শুরু করেনি। এমনই বিকেলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মিলনায়তনে বন্ধুদের নিয়ে সামনের দিকে সবাই আসন নেয়। যে যার মতো গল্প করছিল। তরুণীদের অনেকে বাহারি শাড়ি পড়ে এসেছেন।

“তোরা আছিস তোরাই থাকবি। বন্ধু বোঝে আমাকে।” এই গানের সঙ্গে দুটি প্রজেক্টরে ক্যাম্পাস জীবনের প্রথম দিন থেকে শুরু করে এপর্যন্ত ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি মুহূর্তগুলো দেখানো হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের থেকে ছবিগুলো নিয়ে পুরো ডকুমেন্টারিটি তৈরি করা হয়। ছবি দেখে বোঝা গেল তারা কেবল ক্যাম্পাসের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। পাহাড়-সমুদ্র, নদ-নদী সবঘুরে এসেছেন বন্ধুদের নিয়ে। দুষ্টুমি, খুনসুটি, আড্ডা, গান-বাজনা সবছিল তাদের জীবনের অনুসঙ্গে।

এরপর শুরু হয় নাচ-গান, নাটিকা। পু্রো অনুষ্ঠানটি স্ক্রিপট তৈরি করা থেকে শুরু করে মঞ্চে পারফর্ম করা সব ছিল ঐ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের।

অনুষ্ঠানের দর্শকদের চেয়ে যারা নাচ, গান, নাটিকাতে অংশ নিয়েছে তারাই মজা বেশি পেয়েছে। উপস্থাপনার মধ্যদিয়ে তাদের জীবনের অনেক চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি এই সমাজের অনেক অনুষঙ্গই উঠে এসেছে।

ক্যাম্পাস জীবনে কেউকেউ বন্ধুদের সঙ্গে কপটরাগ দেখিয়েছেন। অনেকের সঙ্গে অভিমান ছিল। র‌্যাগ-ডে পালনের মাধ্যমে তারা তাদের সব অভিমান ধুয়েমুছে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। সন্ধ্যায় যখন অনুষ্ঠান শেষ হয়। তখন বাইরে শীতের কোমল পরশ। হিমহিম পরশ নিয়ে সবাই হলের দিকে ছোটে। হৃদয়ে বন্ধুদের জন্য উষ্ণ ভালোবাসা।

/এমবিআর/


 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।