বিকাল ০৫:৪১ ; মঙ্গলবার ;  ২১ মে, ২০১৯  

মুভেম্বরের মর্মকথা

প্রকাশিত:

পরিবার, কাজ, বন্ধু-বান্ধব- এসব নিয়েই কেটে যায় জীবন। নিজের স্বাস্থ্যের দিকে অনেক সময় ভালোভাবে খেয়াল করাই হয় না। এটা ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই ঘটে। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানের নানান চাহিদা মেটাতে গিয়ে নিজের শরীরটা নিজের কাছে কি চাইছে, সে দিকে নজর দেয়া হয় না। যার ফলে, একটা সময় গিয়ে অনেক বড় মাশুল গুনতে হয়। জীবনের মাঝামাঝিতে এসে থমকে যেতে হয় জটিল-কুটিল সব রোগের কাছে। অনেক সময় অবহেলায় দেহে বাসা বাধা এসব ব্যাধি রূপ নেয় মরণব্যাধিতে। যার সামনে হার মানে জীবনটাও।

এসব মরণব্যাধির ব্যাপারে পুরুষদের সচেতন করার আয়োজনের নামই হল 'মুভেম্বর'। প্রতি বছর এই নভেম্বর মাসেই পালিত হয় মুভেম্বর। অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, নরওয়ে, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, স্পেন, হংকং, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, জার্মান, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং আস্ট্রিয়াতে পালিত হয় এ মুভেম্বর। মুভেম্বরে নভেম্বরের পুরো মাস ব্যাপী পুরুষরা তাদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দেয়। এ সময় এই মুভেম্বরের প্রতীক স্বরূপ পুরুষেরা গোঁফ রাখতে শুরু করে। যারা গোঁফ রেখে মুভেম্বর পালন করে তাদের বলা হয় 'মো ব্রাদার্স'। গোঁফ রাখার মধ্য দিয়ে পুরুষরা বিভিন্ন মরণব্যাধি, যেমন প্রস্টেট ক্যান্সার এবং কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করে। শুধু যে পুরুষরাই এই আয়োজনের অংশ, তা কিন্তু নয়। 'মো ব্রাদার্স'দের সঙ্গে 'মো সিস্টার্স'-রাও যোগ দিতে পারে এই মুভেম্বরে। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হল, প্রতিটি পুরুষ তখনই নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে পারবে, যখন তার পরিবারের নারী সদস্যটি তাকে স্বাস্থ্য নিয়ে ভাববার জন্য তাগিদ দেবে। মুভেম্বরে একজন পুরুষ তখনি গোঁফ রাখার ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে পারবে, যখন তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নারীটি (স্ত্রী, মা, মেয়ে, বোন) তাকে সাহায্য করবে, উৎসাহ যোগাবে।

এই মুভেম্বরের ক্যাম্পেইনের শুরু হয় ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডেলেইড শহর থেকে। ওই শহরের ৮০ জন পুরুষ মিলে একটি কমিটি গঠন করে, যার নাম দেয়া হয় মুভেম্বর কমিটি। ওই কমিটি ঠিক করে নভেম্বর মাস জুড়ে তারা পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় কাজ করবে। একই রকম স্টাইলে গোঁফ রাখবে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে তারা টি-শার্ট বিক্রি করবে। মাস শেষে টি-শার্ট বিক্রয়লব্ধ অর্থ দান করবে রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েলিটি টু অ্যানিম্যালস (আরএসপিসিএ) নামের দাতব্য সংস্থাকে।

এরপর ২০০৪ সালে মেলবোর্নে বড় পরিসরে পালিত হয় 'মুভেম্বর'। ওই বছর থেকেই মুলত মুভম্বরের শুরু। ২০০৪ সালে থেকে শুরু হয় মুভেম্বর ডটকম নামে একটি ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠানের যাত্রা। যাদের উদ্দেশ্য, পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এবং বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার জন্য অর্থ উত্তোলন।

বাংলাদেশে এখনো মুভেম্বর উদযাপনের রীতি শুরু হয়নি। তবে আপনি যদি প্রতিকী অর্থে নিজের এবং আশপাশের সবার স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টি নিজের অভিব্যাক্তি দিয়ে প্রকাশ করতে চান তাহলে নিজ উদ্যোগেই শুরু করতে পারেন মুভেম্বর উদযাপন। আপনার লুকে এই নতুন পরিবর্তন দেখে অবশ্যই আশপাশের মানুষজন এর কারণ জানতে চাইবে। তখন তাদের জানিয়ে দিন এই মুভেম্বর এবং পুরুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্বন্ধে। এখনো নভেম্বর মাসের অনেকটা দিন বাকি। তাই গোঁফ পরিচর্যা শুরু করতে পারেন আজ থেকেই। আর যাদের গোঁফ আগে থেকেই আছে, তারা কোনও নতুন স্টাইলে ট্রিম করে নিতে পারেন গোঁফটাকে। আপনি জানালেই, অনেকে জানবে। কারণ এই মুভেম্বর ক্যাম্পেইনের স্লোগান হল 'নলেজ ইজ পাওয়ার, মোসটাচ ইজ কিং'।

 

এআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।