রাত ০৪:১৩ ; রবিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৯  

যারা আমার ফাঁসি চায়, আমি তাদের ফাঁসি চাই না: তসলিমা নাসরিন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

কোনওদিনই দেশ ছাড়তে চাননি তসলিমা নাসরিন। কিন্তু স্পষ্ট করে নিজের চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ করার অপরাধে এক কাপড়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে থিতু হতে চেয়েছিলেন, সেখানেও প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদীদের কারণে পাওয়া জায়গা হারিয়েছেন। তারপরও দেশের খুব কাছাকাছি থাকার ইচ্ছায় ইউরোপ, আমেরিকা ঘুরে সেই তসলিমা আবারও ভারতে। বর্তমানে তার ঘর-গেরস্থি দিল্লিতে, কিন্তু সারাক্ষণ মনটা পড়ে থাকে এই বাংলায়। দেশে আসার প্রচণ্ড ইচ্ছা মনে কিন্তু সরকারি বাধা, নিষেধাজ্ঞা-নিরাপত্তা এগুলো টপকাবে কে? সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক জুলফিকার রাসেল-এর কাছে নিজের মনের আগল খুলে দিয়েছিলেন তসলিমা নাসরিন। পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল তার প্রায় সবটুকুই:

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাসনে আছেন। দেশে ফিরতে কি মন চায়?

তসলিমা নাসরিন: অবশ্যই দেশে ফিরতে মন চায়। দেশ থেকে যখন আমাকে বের করে দেওয়া হলো তখন থেকেই আমি দেশে ফেরার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার এখন যে ইউরোপিয়ান পাসপোর্ট আছে ওতে আমাকে ভিসা দেওয়া হয় না। আমার বাংলাদেশি যে পাসপোর্টটা আছে সেটা ইনভ্যালিড হয়ে গেছে, রিনিউ করা হয় না। করলেই আমি দেশে যেতে পারি।

দেশে ফিরে আমি যদি দেখি যে দেশে থাকতে আমার সমস্যা হচ্ছে, তা হলে আমি সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাইব। পৃথিবীর সব দেশেই,নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে সরকার থেকে। তাহলে বাংলাদেশ আমার দেশ,এখানে কেন দেয়া হবে না? যখন ১৯৯৩ সালে আমার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি হয়েছিল তখন তো আমার নিরাপত্তা ছিল। ১৯৯৪তেও ছিল। এখনও যদি যাই তাহলে কেন দেওয়া হবে না?

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশে গেলে আপনার নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে?

তসলিমা নাসরিন: হ্যাঁ, আমার অবশ্যই নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে বাংলাদেশে। যদি এমন হয় যে, সরকার থেকে আমার কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে না তাহলে অবশ্যই আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে যাবো না।

বাংলা ট্রিবিউন: ভারতেও সম্প্রতি আমেরিকান লেখক ওয়েন্ডি ডোনিগারসহ আরও কিছু লেখকের বই নিষিদ্ধ হয়েছে। বিজেপি সরকারের কারিকুলাম কাটাছাটা নিয়ে বিতর্ক আছে। মিডিয়াকেও দলিত করার টুকরা টাকরা খবর আসে। বিজেপি-আরএসএস-এর মতো সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যুতে ভারতে যারা বলতে বা লিখতে চায়, তারা কি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি বাক-স্বাধীনতা ভোগ করেন?

তসলিমা নাসরিন: এখানে তো বিজেপি আরএসএস-এর সমালোচনা করে অনেক বামপন্থি সেক্যুলার লেখকরা লিখছেন। তাতে কারও কোনও অসুবিধা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তবে কিছু লেখকের বিরুদ্ধে বিজেপি, আরএসএস, বজরঙ দল প্রতিবাদ করেছে। কিছু লেখকের বই নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে ওয়েন্ডি ডেনিগারের এর বই তো নিষিদ্ধ করেনি সরকার। পেঙ্গুইন বের করেছিল তো, পেঙ্গুইন তুলে নিয়েছে। বইটি প্রকাশের পর আরএসএস পেঙ্গুইনকে লিখেছিল যে এই বইয়ে ভুল তথ্য আছে, তাই আমরা এর বিরুদ্ধে মামলা করবো। তাতে ভয় পেয়ে সব কপি বাজার থেকে নিজেরাই তুলে নিয়েছে।

বাক স্বাধীনতা হরণে দুই দেশই সমান। যদি তুলনামূলকভাবে বলতে হয় তাহলে আমি বলবো ভারতে হয়তো বাক স্বাধীনতা একটু বেশি আছে। কিন্তু ভারত কিছুতেই বাক স্বাধীনতা রক্ষার আদর্শ দেশ নয়। ভারতেও প্রচুর মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে।

এদিকে আবার কংগ্রেস আমলে বা ইউপিএ সরকারের সময় মকবুল ফিদা হোসেন-এর বিরুদ্ধেও প্রচুর মামলা করেছে। এতে তার জীবনে হুমকি আসে, তিনি চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তারপর আরও কিছু বই যেমন রোহিনতন মিস্ত্রির বই কোনও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ হয়েছে। রামের ওপর লেখা কিছু প্রবন্ধ কিছু ইউনিভার্সিটিতে- বাতিল করা হয়েছে। এরকম কিছু খবর আমরা পাচ্ছি। কিন্তু বাংলাদেশে যেমন ধর্ম নিয়ে কিছু লিখলে বা ইসলামী মৌলবাদের বিরুদ্ধে কিছু বললে তার জীবনে হুমকি চলে আসে, তাদের জেলে ভরা হয়,তাদের গলা কেটে ফেলা হয়, তাদের রগ কেটে ফেলা হয়, সেরকম অবস্থা এখনও ভারতে হয়নি। ভারত যে একটি আদর্শ দেশ তা বলছি না, ভারতেও প্রচুর অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ আছে যেমন, ৬৬-ধারার যে আইটি আইন করা হয়েছে, সেটি বাক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। ওই আইনে ফেসবুক, টুইটারে কিছু লিখলে তাকে কিন্তু এখানে গ্রেফতার করতে পারে। এই আইন দিয়ে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। দুটো টুইট নিয়ে বিহার ও ইউপিতে আমার বিরুদ্ধে দুটো মামলা হয়েছে। 

pg-35-india-4-getty

বাংলা ট্রিবিউন: বাক স্বাধীনতা কোথায় বেশি আছে? বাংলাদেশে নাকি ভারতে?

তসলিমা নাসরিন: বাক স্বাধীনতা হরণে দুই দেশই সমান। যদি তুলনামূলকভাবে বলতে হয় তাহলে আমি বলবো ভারতে হয়তো বাক স্বাধীনতা একটু বেশি আছে। কিন্তু ভারত কিছুতেই বাক স্বাধীনতা রক্ষার আদর্শ দেশ নয়। ভারতেও প্রচুর মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি নির্বাসিত জীবনের প্রথমভাগ কাটিয়েছেন ইউরোপে। ইউরোপ থেকে ভারতে আসলেন কেন?

তসলিমা নাসরিন: বাংলাদেশের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছে থেকে। আসলে কলকাতাকে বেছে নিয়েছিলাম কারণ, এখানে বাংলায় কথা বলতে পারবো। কলকাতার সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘকালের, ছোটবেলা থেকে কলকাতার গল্প-উপন্যাস পড়েছি। তারপর ১৭ বছর বয়সে কলকাতায় সেঁজুতি নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছি। ওখানে কলকাতার কবিরা কবিতা লিখতেন। আবার আমিও পশ্চিমবঙ্গের লিটল ম্যাগাজিনে লিখতাম। এইসব কারণে কলকাতাকে আলাদা কোনও দেশ মনে হয়নি।

আমাকে অবশ্য ভারতবর্ষে আসতে দেয়নি ছয় বছর। ১৯৯৯-এর শেষের দিকে যখন আমাকে আসতে দেওয়া হলো, ভিসা দেওয়া হতো হয়তো সাতদিন,একমাসের। বইমেলায় আসতাম সাধারণত। ২০০৫-এ যখন আমাকে রেসিডেন্স পারমিট দেয়া হয় তখন আমি একটা বাসা ভাড়া করে কলকাতায় থাকতে শুরু করলাম। কিন্তু ২০০৭-এ আবার আমার বিরুদ্ধে একটা নোংরা রাজনীতি করে বামপন্থী সরকার। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামে পুলিশ মুসলমান মারায় মুসলমানদের মধ্যে সিপিএম-এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক কমে গিয়েছিল। ঠিক এমন সময়ে আমাকে একটা লেবেল লাগিয়ে দিয়েছে যে-ও ইসলামবিরোধী। হয়তো ভেবেছিল-এটা বলে ওরা কিছু মুসলিমের ভোট পাবে। কিন্তু পায়নি, গো-হারা হেরেছে। এতোকিছুর পরও ভারতে থাকি। কারণ আমি এই দেশের গাছগুলোর নাম জানি! এটা কি কম কথা নাকি? আর এই যে তুমি এলে, অনেকে আসতে পারে বাংলাদেশ থেকে। আমার সাথে দেখা করতে পারে। কলকাতা থেকে আসতে পারে দেখা করতে। মনে হয় বাড়ির কাছে আছি। এটা অনেক বড় একটা কারণ।

বাংলা ট্রিবিউন: একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসি। থাকেন বিদেশে, কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে। দৈনন্দিন জীবন কেমন কাটে?

তসলিমা নাসরিন: ঘোরাফেরা করি প্রয়োজন হলে। তবে বেশিরভাগ সময়ই ঘরে পড়াশোনা করি। আর আমার বক্তৃতা দেওয়ার বিষয়গুলো ঘটে বিদেশে। ইউরোপ-আমেরিকায়। কিছুদিন আগে ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিস্ট কংগ্রেস হলো। ওখানে আমি কীনোট স্পিকার ছিলাম। কিন্তু ভারতবর্ষে কোনও রকমের পাবলিক মিটিংয়ে আমি যাই না। এখানে আমি ঘরে বসে লেখাপড়াই করি।

taslima nasreen

বাংলা ট্রিবিউন: বাইরে পাবলিক অনুষ্ঠানে তো কড়া নিরাপত্তার প্রয়োজন পড়েই। কিন্তু একটু দোকানে কী ক্যাফেতে কিংবা কোনো বন্ধুর বাসায় যাওয়া- এগুলো কি সহজে করতে পারেন?

তসলিমা নাসরিন: এগুলো করি আমি। ভারতবর্ষে পাবলিক অনুষ্ঠান পুরোপুরি এড়িয়ে চলি। বিশেষ করে কলকাতা থেকে আমাকে বিতাড়িত করার পর। এরপর হায়দ্রাবাদে একটা পাবলিক মিটিং-এ আমার ওপর আক্রমণ হয়েছিল। এসবের পর আমি একেবারেই এড়িয়ে চলি। কারণ হামলা হলে মিডিয়া এটা নিয়ে খুব লেখালেখি করবে, মুসলিম মৌলবাদীরা আবার চিৎকার করবে তখন সরকার সে বিজেপিই হোক বা কংগ্রেস হোক- আমাকে বলবে তুমি চলে যাও। এরকম তো আগে হয়েছে। দেখা গেল আমাকে নিয়ে একটা মিছিল বের হয়েছে, আর সরকার আমাকে বললো, চলে যাও। এজন্য আমি ওসব এড়িয়ে চলি।

বাংলা ট্রিবিউন: অনেকে বলেন যে, আলজেরিয়ার আসিয়া জেব্বার, লেবাননের হানান আল শেইখ, মিশরের আহদাফ সোয়েফ বা তুরস্কের এলিফ শাফাক- তৃতীয় বিশ্বের এরকম আরও অনেক মুসলিম লেখিকা পশ্চিমে যেমন গুরুত্ব ও পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছেন, আপনি সেটা ঠিক পাননি। সে কারণেই আবার নিজ অঞ্চলে চলে আসা। এটা কি ঠিক?

তসলিমা নাসরিন: আমি তো ওখানে পাঠকপ্রিয় হওয়ার জন্য যাইনি। আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। আমি কোনোদিনই দেশ ছাড়তে চাইনি। কেউ কেউ আছেন না যে বিদেশে যাবো, ওইখানে জীবনযাপন করবো; আমার কখনওই কোনওদিনই তেমন ইচ্ছে ছিল না। আমি এক কাপড়েই বেরিয়েছিলাম। ওখানে আমার যা কিছু পুরষ্কার যা কিছু পেয়েছি কখনও আমার ভাই বা কেউ দেখা করতে এলে আমি বাক্সভরে পাঠিয়ে দিতাম। মনে করতাম, আমি তো দেশে ফিরবই। দেশে ফেরার জন্য সবসময়ই আমার চেষ্টা ছিল। আর পাঠকপ্রিয়তা? আমার তো বিভিন্ন ভাষায় বই বেরিয়েছে- ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, ফ্রেন্স, সুইডিস, নরওয়েজিয়ান এবং আরও অনেক ভাষায়। কিন্তু মানুষ যেমন এজেন্ট রাখে, আরও বই বের করতে চায়। ওইরকম চেষ্টা আমি কখনই করিনি বরং এড়িয়ে চলেছি। আমি বাংলায় বই লিখেছি, বাংলায় বেরিয়েছে এবং তাতেই আমি সন্তুষ্ট। অতএব ধরো সব ভাষায়,ভারতীয় সব ভাষাতেই বই বের হয়। অতএব আমি পাত্তা না পেয়ে চলে এসেছি- এটা ঠিক নয়।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি ইদানিং মূলত কোন ধরনের লেখালেখি বেশি পড়েন? ফিকশন না নন ফিকশন? পশ্চিমা না ভারতবর্ষীয়?

তসলিমা নাসরিন: আমি পশ্চিমা, ভারতবর্ষীয় সব ধরনের বই পড়ি। নন ফিকশনটা বেশি পছন্দ করি।

বাংলা ট্রিবিউন: গত কয়েক বছরে কি কারও লেখা পড়ে মনে হয়েছে যে- লেখা এমনই হওয়া উচিত? আমার দেশে উঠতি বা নতুন নারী লেখকদের অবশ্যই এই লেখা পড়া উচিত?

তসলিমা নাসরিন: আমি খুব ক্রিটিকাল পাঠক তো,একেবারে খুব বেশি মুগ্ধ হয়ে যাওয়ার মতো আবেগ আমার। তবে ইদানিং রবিন মরগানের কিছু বই পড়েছি ফেমিনিজমের ওপর। আমার মনে হয়েছে, এই বইগুলো যদি বাংলাদেশের নারীবাদীরা পড়তো বা ভারতীয় উপমহাদেশের নারীবাদীরা পড়তো তাহলে হয়তো অনেক কিছু শিখতে পারতো। ভারতেবর্ষের নারীবাদীদের আমার খুব জ্ঞানসম্পন্ন নারীবাদী বলে মনে হয় না। আমার মনে হয় তাদের আরও জানা উচিত, আরও বোঝা উচিত। সবার বেলায় না। মাঝেমধ্যে মনে হয়। কিছু সুপারফিশিয়াল বিষয় নিয়ে ওরা ভাবে বেশি- এরকম মনে হয় আমার। রবিন মরগান কিন্তু একজন আমেরিকান নারীবাদী।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ‘নির্বাচিত কলাম’ ছিল একটা যুগান্তকারী লেখা। পক্ষে-বিপক্ষে প্রচুর কথা উঠেছিল। ‘লজ্জা’ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে বিদেশি মিডিয়াতে বেশি এসেছে। কিন্তু অনেকে এখনও বলেন, সাপ্তাহিক খবরের কাগজ-এ লেখা ধারাবাহিক ওই কলামগুলোই ছিল আপনার শ্রেষ্ঠ লেখা। আপনার কি মনে হয়?

তসলিমা নাসরিন: আমার মনে হয় না। আমি এখন ‘নির্বাচিত কলাম’ পড়লে প্রচুর ভুল পাই। মনে হয় এটা এভাবে লিখলাম কেন? ওভাবে লিখতে পারতাম। আরও গভীরে যেতে পারতাম। ওটার মধ্যে একটা ইয়াং মেয়ের একটা রাগ প্রকাশ পেয়েছে। আমি জানি মানুষ খুব পছন্দ করে। এখনও এগুলো বেস্টসেলার লিস্টে আছে।

আসলে নির্বাচিত কলামের লেখাগুলো পড়েই মৌলবাদীরা আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপেছে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ ওখানে কিছু ধর্মের সমালোচনা ছিল। ‘লজ্জা’য় কিন্তু ধর্মের কোনও সমালোচনা ছিল না। কিন্তু ওরা যখন ফতোয়া দিয়েছে, ১৯৯৩ সালে আমার মাথার দাম ঘোষণা করেছে, ওই সময়ে বা কাছাকাছি সময়েই লজ্জা নিষিদ্ধ হয়েছে। যেহেতু সালমান রুশদির ফতোয়া হয়েছিল একটা বইয়ের কারণে তখন বিদেশি সাংবাদিকরা ভেবে নেয় যে আমার ফতোয়া এই বইয়ের কারণে। তারা এই ভুল বুঝে লজ্জাকে হাইলাইট করতে শুরু করলো। চারদিকে ‘লজ্জা’ ছাপানোর জন্য পাবলিশাররা আমাকে খেয়ে ফেলেছিল- ফ্রেঞ্চ, জার্মান, ইতালিয়ান পাবলিশার- সবার এক কথা। আমি বললাম, লজ্জাতে তোমরা যা ভাবছো তা নেই। পরে ‘লজ্জা’ পড়ে বললো, এই বই পড়ে কেন ওরা ক্ষেপে যাবে? আমি বললাম, এই বই পড়ে ক্ষেপেছে সরকার। কারণ আমি সরকারকে দোষ দিয়েছি যে তারা কেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেয়নি? অন্য কিছু পড়ে মৌলবাদীরা রাগ করেছে। তারা আমাকে মারতে চেয়েছে।

একজন মানুষ এক জীবনে সব কিছুতেই পারদর্শী কি হতে পারে? রবীন্দ্রনাথও তো খারাপ ফিকশন লিখতেন। উপন্যাসগুলো তো যাচ্ছেতাই রকমের খারাপ। তবে তার ছোটগল্প আর গান, এই দুটোর তুলনা নেই। আমি জানি যে আমার উপন্যাসগুলো খুব ভালো উপন্যাস হয়নি, তবে কন্টেন্ট হিসেবে ভালো প্রত্যেকটা।

বাংলা ট্রিবিউন: নির্বাচিত কলামে যেগুলো আপনি লিখতে পারেননি এখন যদি সেগুলো লিখতে বলা হয়, আপনি লিখবেন?

তসলিমা নাসরিন: হ্যাঁ, তা লিখতে পারি। কিন্তু এখন হয়েছে কী, আমি চলে আসার পরে বাংলাদেশে তো প্রগতিশীল মিডিয়া আমাকে ব্যান করে দিল, মুছে দিল। আমার নাম উচ্চারণও করল না। প্রকাশকরাও যোগাযোগ করল না। এর ফলে যে ভ্যাকুয়ামটা সৃষ্টি হয়েছে ওটা ব্যবহার করেছে মৌলবাদী মিডিয়া। তারা আমার বিরুদ্ধে মনের মাধুরী মিশিয়ে অপপ্রচার করেছে। যে অপপ্রচারের ফলাফল হচ্ছে এখনকার ইয়াং জেনারেশান যারা আমার লেখা কিছুই পড়েনি, কিন্তু আমার নিন্দা করে। এর মধ্যে আবার কিছু নতুন নারীবাদী লেখক দেখতে পাচ্ছি একটু ভাষার এদিক ওদিক করে, নির্বাচিত কলামের লেখাগুলোই লিখছে। কিন্তু ওদের বিরুদ্ধে কিছুই হচ্ছে না।

তবে বিষয়গুলো এখন পর্যন্ত রেলেভেন্ট। আমি যেসব সমস্যা তখন তুলে ধরেছিলাম সেগুলো মেয়েরা এখনও ওভাবেই ভুগছে।

বাংলা ট্রিবিউন: নিজের কোন কোন লেখা আপনার কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়?

তসলিমা নাসরিন: যা কিছু লিখেছি, তা হয়তো তখনই ভালো লাগে, তারপর কয়েক বছর পর যখন আমি ফিরে দেখি তখন আর ভালো লাগে না। আমি আরও ভালো লিখতে পারতাম। এটা হয়তো থাকা ভালো একজন মানুষের। আমি খালি ভয় পাই কবে আমার সমস্ত বইগুলো আমার ভালো লাগতে শুরু করবে! তখন বোধহয় আমার কাছ থেকে আর ভাল কিছু বের হবে না!

আমার মেয়েবেলা, দ্বিখণ্ডিত, আমি ভালো নেই তুমি ভালো থেকো প্রিয়দেশ, নেই কিছু নেই- আমার সাতটা আত্মজীবনীর মধ্যে এগুলো বেশি ভালো লাগে। অন্যান্য বইয়ের মধ্যে দুই একটা কবিতার বইয়ের কিছু কবিতা আমার ভালো লাগে। কারণ একটা বইয়ের সব কবিতা ভালো লাগতে পারে না। আর কলামের বইগুলোর মধ্যে ‘নারীর কোনও দেশ নেই’ বলে একটা কলামের বই আছে ওটা অনেক পাকা হাতের লেখা। নির্বাচিত কলাম অনেকটা কাঁচা হাতের লেখা ছিল। কারণ তখন আমার বয়স বিশের কিছু ওপরে। তখন আমি ডাক্তারি করি। এনেস্থেসিয়া যখন দিতাম বা গাইনোকলজিস্ট হিসেবে যখন কাজ করতাম তখন ওটিতে বসে বসে আমি হয়ত কলাম লিখতাম। কলাম আমার লিখতে হতো পয়সার জন্যে। কারণ তখন আমি যা মাইনে পেতাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে, তা দিয়ে আমার বাসা ভাড়া চলতো না। আমি প্রথম কাজ করি মিডফোর্ড হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। আমি প্রথম বেতন পেতাম আড়াই হাজার টাকা। তবে বেশ ভালো লাগে,এখনো মানুষ ‘নির্বাচিত কলাম’ এর কথা বলে।

বাংলা ট্রিবিউন: অনেকে বলে থাকেন, নন-ফিকশনই আপনার আসল ট্যালেন্ট। তারপরও ফিকশন লেখার টান অনুভব করেন কেনো?

তসলিমা নাসরিন: ননফিকশন আমি পছন্দ করি। যখন আমি আমার ফিকশনগুলোর দিকে তাকাই, সেখানে অপরিপক্কতার একটা ছাপ দেখি। আমি যে ভালো ফিকশন রাইটার না সেটা বুঝতে পারি। আমার কন্টেন্ট বা বিষয়টা ভালো, কিন্তু ইলাবোরেট করার ধৈর্য্য কম। ধৈর্য্য কম থাকলে ছোট ছোট লেখা ভালো হয়। আমি অল্পতেই বক্তব্যটা ভালো দিতে পারি, সে কারণে আমার কলাম কিংবা ছোট ছোট নিবন্ধ ভালো হয়। আর ফিকশন রাইটারকে অনেক শান্ত হয়ে বিষয়গুলো অবজার্ভ করার মানসিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। একজন মানুষ এক জীবনে সব কিছুতেই পারদর্শী কি হতে পারে? রবীন্দ্রনাথও তো খারাপ ফিকশন লিখতেন। উপন্যাসগুলো তো যাচ্ছেতাই রকমের খারাপ। তবে তার ছোটগল্প আর গান, এই দুটোর তুলনা নেই। আমি জানি যে আমার উপন্যাসগুলো খুব ভালো উপন্যাস হয়নি, তবে কন্টেন্ট হিসেবে ভালো প্রত্যেকটা। শোধ, নিমন্ত্রণ, অপরপক্ষ, ইদানিং আরেকটা লিখেছি ‘ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে’- এই সবগুলোরই কন্টেন্ট ভালো। আসলে ফিকশনগুলো মনের টানে লেখা। কিন্তু ননফিকশনগুলো ফরমায়েশি, যেমন তোমার বাংলা ট্রিবিউনের জন্য আমি লিখছি। সেখানে একটা বাধ্যবাধ্কতা থাকে, তবুও এই ননফিকশনগুলো ভালো হয়। যেমন- নির্বাচিত কলাম।

TaslimaNasreen

বাংলা ট্রিবিউন: কোন বিষয়ে নন-ফিকশন বা কলাম লেখেন? আর ফিকশন লেখার সময় সিদ্ধান্ত নেন কীভাবে?

তসলিমা নাসরিন: যে বিষয়গুলো আমাকে আলোড়িত করে,যেগুলো আমার মধ্যে একটা ভাবনার সৃষ্টি করে,যেগুলো আমাকে কষ্ট দেয়,সেগুলোই আমি লেখাতে তুলে আনি। আমি আমার অনেক লেখা লিখতে লিখতে কাঁদি। ‘কিছু নেই’ বইটা লিখতে লিখতে আমি কেঁদেছি। যখন কোনও মেয়ের দুঃখ দুর্দশা দেখি, তখন তার জায়গায় নিজেকে নিয়ে যাই,আর সেখান থেকেই অনুধাবন আসে। কোনকিছু আমার হৃদয় না ছুঁয়ে গেলে, ভেতরে দহন না হলে আমি লিখতে পারি না। অনেক সময় দেখা যায় দুই-তিন মাস এমনকী বছর চলে গেলেও আমি লিখছি না, ভেতর থেকে লেখা আসছে না। তবে কলামগুলো যেহেতু আমি লিখতে বসি, ওগুলো অভ্যাস হয়ে গেছে। তবুও কোনকিছু স্পর্শ না করলে আমি লিখতে বসি না। তার চেয়ে আমি পুরনো একটা লেখা দেই কিংবা বলে দেই যে লেখা আসছে না। কিন্তু নিজের সাথে প্রতারণা করতে পারি না। আমার লেখা খারাপ হোক, ভালো হোক হৃদয় থেকে আসে।

বাংলা ট্রিবিউন: কলাম, উপন্যাস, আত্মজীবনী ও কবিতা- সবই তো লিখলেন। সামনে কি নতুন কোনো বড় কাজের পরিকল্পনা আছে?

তসলিমা নাসরিন: ওইভাবে কোনও পরিকল্পনা নেই আপাতত। তবে বয়স হচ্ছে তো, পৃথিবীর অনেক কিছুই দেখা হয়েছে। আর নিজেকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবেই আমি দেখতে পছন্দ করি। যারা আমাকে ভালবাসে, তারাই আমার দেশ। তাই ভ্রমণ কাহিনী লেখার ইচ্ছে আছে। যদিও আমি ডায়েরি লিখি না, হয়তো এতে সুবিধা হতো অনেক। তবে ’৯৭ সালে আত্মজীবনী লিখতে গিয়ে ভেবেছিলাম, হয়তো রবীন্দ্রনাথের আত্মজীবনীর মতো ছোট একটা বই হবে। কিন্তু লিখতে বসে দেখি পেছনের অনেক কিছুই স্মৃতিতে আস্তে আস্তে ভেসে উঠেছে। এভাবে যে মেমোরিগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে, কিছু কিছু ছবি যে কতটা মূল্যবান হয়ে ওঠে- এটা তখন জানলাম! আমি সাতটা আত্মজীবনী লিখেছি। কল্পনাও করতে পারিনি যে এতো বড় হবে! আমার আত্মজীবনীগুলোতে আমি যে বড় কেউ, এভাবে শুধু নিজেকে তুলে ধরিনি। তখনকার নারীদের অবস্থা,সমাজ কিংবা রাজনৈতিক অবস্থা- সবই উঠে এসেছে। তুমি পুরো একটা সমাজ পেয়ে যাবে আমার লেখায়, সুতরাং এটা আমার ব্যক্তিগত কিছু নয়।

বাংলা ট্রিবিউন: দেশ ছেড়েছেন প্রায় দু’দশক হয়েছে। এর মধ্যে একবার বুড়িছুঁই-এর মতো করে দেশেও গেছেন। তার চেয়ে বেশি খবর রাখেন নানা মাধ্যমে। গত দু’দশকে বাংলাদেশের কোন পরিবর্তনগুলো আপনাকে অভিভূত বা আশান্বিত করে?

তসলিমা নাসরিন: আমার দেশে যাওয়ার গল্পটা বলি। তখন আমার মায়ের ক্যান্সার হয়েছিল। আমি তখন নিউইয়র্কে। মাকে এখানে এনে ডাক্তার দেখানোর পর ওরা বললো যে মা আর তিনমাস বাঁচবে। তাই মাকে নিয়ে দেশে আসার জন্য তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন দিলাম। তিনি আমাকে বললেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলে জানাচ্ছি। পরে আরেকবার যোগাযোগ করলে আমাকে জানান যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তোমাকে কিছুতেই আসতে দেওয়া হবে না। এলেই এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করা হবে। আমি তখন কারো কথাই শুনিনি, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে আমি বাবা-মা-এর সাথে বিমানে উঠি এবং ভোর পাঁচটায় বিমানবন্দরে নামি। তবে ইমিগ্রেশান অফিসার সম্ভবত আমাকে চিনতে পারেনি, তাই বের হয়ে আসতে পারি। আর আমি তিনমাস অনেক অত্যাচার সহ্য করেও দেশে থেকে গিয়েছিলাম। পরে সরকার থেকে আরেকটি মামলা দিয়ে আমাকে বলা হয়, যদি আমি দেশ ছাড়ি তবে আমাকে জামিন দেওয়া হবে। অন্যদিকে বিদেশি মিশনগুলো থেকেও আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় দেশ ছেড়ে যাওয়ার জন্য।

আর পরিবর্তনের কথা বলতে গেলে যেটা দেখি, সেটা হল ইসলামাইজেশান। আমাদের সময়ের চেয়ে এখনকার বাংলাদেশের নারীরা হিজাব বেশি পরে। আমার পুরনো সহপাঠীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবিতে দেখি তাদের সবার মাথাতেই হিজাব। আমি কয়েকজনকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার পর উনারা বললেন, দেশে তো মেয়েরা সাংঘাতিক হিজাব পরে। মধ্য আশি থেকেই একটা পরিকল্পনা চলছে দেশে ইসলামাইজেশানের। এরশাদ যখন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে, তখনই বুঝেছিলাম, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। এই যে আমি কিছু একটা লেখার সাথে সাথেই হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে এসেছিল, এটাতো মৌলবাদী আচরণ। দেশের সরকার এইসব মৌলবাদীদেরকে নিয়ন্ত্রণ না করে যারা এদের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকেই নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। এটাতো পিছিয়ে পড়াকেই নির্দেশ করে। তবে একটা জিনিস আমি দেখেছি, যেটা আমাকে আশাবাদী করে সেটা হল প্রচুর প্রগ্রেসিভ ছেলেমেয়ে তৈরি হয়েছে, যারা বেশ আওয়াজ তুলছে চারপাশের এইসব বিষয়গুলো নিয়ে।

বাংলা ট্রিবিউন: এই দুই দশকে বাংলাদেশে নারীর অবস্থান কি ভালো হয়েছে?

তাসলিমা নাসরিন: দুইটা স্রোত পাশাপাশি চলছে। এই যে একদিকে ইসলামাইজেশান আর অন্যদিকে প্রগ্রেসিভ চিন্তাধারা। তবে প্রগ্রেসিভদেরকে আরো বেশি অ্যাকটিভ হতে হবে। আসলে ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয়। কিন্তু এটাকে শিক্ষাক্ষেত্র, রাজনীতি, আইন- এই সব বিষয়ের মধ্যে নিয়ে আসা হবে কেন! আমার মা ধার্মিক ছিলেন, তিনি নামাজ পড়তেন,রোজা করতেন কিন্তু কারো উপর জোর করে ধর্ম চাপাতে চাইতেন না। আমার মা কারো অনিষ্ট করতেন না,কারো অমঙ্গল কামনা করতেন না। এই যে মানুষরা ধর্মের নামে মানুষ খুন করছে,অনিষ্ট করছে, এগুলো তো আসলে ধর্ম না, সহিংসতাই এদের উদ্দেশ্য। এই যে আইসিস কিংবা আল-কায়েদা যে মানুষ খুন করছে আর দেশে এদের সিম্পেথাইজার বাড়ছে, এটা বেশ মারাত্মক বিষয়। কারো বিশ্বাসের সাথে না মিলতেই পারে আমার বিশ্বাস, তাই বলে আমাকে ছুরি নিয়ে মারতে আসবে? আমি তোমার বিশ্বাসের বিপরীতে বলতেই পারি, তুমি আলোচনা কর, আমি আপত্তি করছি কীসে তা শোন, যুক্তি খণ্ডন কর। তোমার আইডলজি কে, কেন সরকারকে প্রটেক্ট করতে হবে? সমাজ মুক্ত হওয়া দরকার, ডিবেট হওয়া দরকার। এতে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বাড়ে।

বাংলা ট্রিবিউন: যে ধর্মবাদীরা আপনাকে দেশ ছাড়া করেছিল, যুদ্ধাপরাধের দায় নিয়ে তারাই এখন কাঠগড়ায়। তাদের শক্তি এখন ক্ষয়িষ্ণু, ব্যাপারটা দেখতে এবং ভাবতে আপনার কেমন লাগে?

তাসলিমা নাসরিন: তারা তো আমার ফাঁসি চায়, কিন্তু আমি তাদের ফাঁসি চাই না। কারণ আমি তো ডেথ পেনাল্টির বিরুদ্ধে। শাহবাগে যখন ওদের ফাঁসির দাবি করা হচ্ছিল, আমি আমার ব্লগগুলোতে ওদের বিরুদ্ধে বলেছি, কিন্তু ফাঁসি চাইনি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, কোনও মানুষ অপরাধী হিসেবে জন্ম গ্রহণ করে না। তাকে সমাজের অবস্থাগুলোই অপরাধী করে তোলে, সুতরাং তাকে ফাঁসি দেওয়া উচিত নয়। মানুষের জীবন একটাই, তাই তারও জীবনের অধিকার আছে। হয়তো সুযোগ পেলে ভালো হয়ে যাবে, তাই আমি ফাঁসির বিরুদ্ধে।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ আদালত থেকে গণজাগরণ হয়ে সেকুলারিজম-এর যে নতুন একটা অধ্যায় শুরু হচ্ছে, তাতে করে কি একদিন আবকার দেশে এসে থাকা বা নিয়মিত আসা-যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন?

তাসলিমা নাসরিনঃ আমি তো জানি না, তবে যেতে পারলে তো বেশ ভালো লাগতো! যদি নাও যেতে পারি, আজীবন আমি সংগ্রাম করে যাবো দেশে ফেরার জন্য। কারণ এটা আমার অধিকার। আর এই ফিরে যাওয়াটা শুধু ব্যক্তিগত কারণে নয়,এতে দেশের সুনাম বাড়বে যে এখানে ভিন্নমতের মানুষরাও পূর্ণ নাগরিক সুবিধা ভোগ করে বসবাস করে এবং বাংলাদেশ গণতন্ত্রকে মর্যাদা দিয়েছে।

/ইই/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।