রাত ০৪:১০ ; রবিবার ;  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯  

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনে পোশাক শিল্প মালিকদের উদ্যোগ নেই: আইএলও

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥ বিশ্ব শ্রম সংস্থা (আইএলও) থেকে পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। এ গবেষণায় গত মে মাসে আইএলও থেকে প্রকাশিত কর্মক্ষেত্রে প্রসূতি সুরক্ষার ওপর পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। খবর বাসস। এতে বলা হয়েছে, ১৮৫ টি দেশের মধ্যে ২৫ শতাংশ দেশে কর্মীদের প্রসবকালীন ছুটি ও পূর্ণ ভাতা প্রদান নিয়োগকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। আর ১৬ শতাংশ দেশে নিয়োগকর্তারা মাতৃত্বকালিন আংশিক সুবিধা দিয়ে থাকে। গবেষণায় বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বাড়ে। বিশেষ করে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। অন্যদিকে কর্মজীবী নারীরাও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকে। যা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্মচারী উভয়ের জন্যই লাভজনক। এক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধ পানের ব্যবস্থা রাখা এবং দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে কেয়ার সেন্টার) স্থাপন একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে । আইএলও’র ম্যাটারনিটি প্রটেকশন অ্যন্ড ওয়ার্ক-ফ্যামিলি স্পেশালিস্ট লরা এ্যাডেট বলেন, কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। লরা এ্যাডেট বলেন, কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হলে কর্মচারীরা অভিভাবকত্ব সময়ের পূর্ণ আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। যা মা-বাবা ও শিশুর মানসিক ও শারীরিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। এতে তারা একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন চাকরি করতেও উৎসাহী হন। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অঙ্গিকারাবদ্ধ থাকেন এবং কাজে প্রেরণা পান। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বাড়ে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ খরচ কমায়। গবেষণায় বলা হয়, কয়েক বছর আগে অস্ট্রেলিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়াতে মাতৃত্বাকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা এবং সামাজিক বীমা বা সরকারি তহবিল দাতারা মাতৃত্বকালীন খরচ মেটানো নিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকারীদের মধ্যে ভোট হয়। এর ফলাফল হিসেবে নিয়োগকর্তারা ইতিবাচক ফল পেয়েছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটি ২৪ সপ্তাহ বা ৬ মাস। মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে এক প্রজ্ঞাপণ জারির মাধ্যমে এ ছুটি বাড়িয়ে ৬ মাস করার আদেশ দেওয়া হয়। ছুটির সময় নারীরা পূর্ণ বেতনে সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর আগে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছিল ৪ মাস। বাংলাদেশ সরকার কর্মজীবী নারীর শিশু সন্তানের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সচিবালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর এবং অধিদফতরের জেলা অফিসগুলোতে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র চালু করেছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এ আদেশ সমানভাবে প্রযোজ্য। ঢাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিষ্ঠানে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেবা ও উৎপাদশীল প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনও এ প্রবণতা সন্তোষজনক নয়। বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের জন্য একটি বড় শ্রমবাজার হিসেবে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের শিশু সন্তানদের জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন আবশ্যক। কিন্তু পোশাক শিল্প মালিকদের মধ্যে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেই বললেই চলে। /এএ/এফএ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।