রাত ০৫:০৫ ; সোমবার ;  ২০ মে, ২০১৯  

‘নকল ওষুধের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করতে হবে’

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥ দেশের স্বাস্থ্য সেবা খাতকে উন্নত ও নিরাপদ করতে হলে নকল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করতে সবাইকে আহ্বান জানালেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাংগীর হোসেন মল্লিক। বাংলাদেশে কমিউনিটি ফার্মেসির বর্তমান ও ভবিষ্যত’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটি (বিপিএস) ও বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস)-এর যৌথ আয়োজনে রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে যোগ দেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিপুল সংখ্যক ফার্মাসিস্ট। দেশের ওষুধ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই প্রধান বলেন, ‘ওষুধ মানুষের দৈনন্দিন প্রধানতম চাহিদার একটি। এটি যদি সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া না যায়, তবে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের সব প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।’ জাহাঙ্গীর হোসেন মল্লিক বলেন, ‘ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে সর্বত্র আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। যারা নকল ড্রাগ তৈরি করছে, বাজারজাত করছে তাদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করতে হবে।’ এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে এই সেনা কর্মকর্তা জানান, ভেজাল ওষুধ বন্ধে সহযোগিতা চেয়ে শিগগির চিকিৎসকদেরকে চিঠি দেওয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে দেশের কমিমিউনিটি ফার্মেসির বর্তমান ও ভবিষ্যতের সংকট-সম্ভাবনার নানাদিক তুলে ধরেন আয়োজক সংগঠনের নেতারা। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ‘দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১ লাখ ১০ হাজার ফার্মেসি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ দক্ষ ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন তার সিংহভাগই নেই। প্রশিক্ষিত ও স্বীকৃত ফার্মাসিস্টদের বেশিরভাগই দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন।’ কমিউনিটি ফার্মেসি সেক্টরকে উন্নত করতে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ না থাকার সমালোচনা করে দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী সংগঠনের এই নেতা বলেন, ‘শুনেছি এই সেক্টরের উন্নয়নে অনেক ফান্ড আসে। কিন্তু আজ দুঃখের সঙ্গে বলছি, সরকার বা অন্য কোনো সংস্থা কমিউনিটি ফার্মেসির উন্নয়নে কোনও টাকা খরচ করেনি।’এই সেক্টরের উন্নয়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের অনেক কিছু করার থাকলেও তারা কিছু করেননি। আমাদের সংগঠন ও বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির উদ্যোগে আমরা লক্ষাধিক ফার্মাসিস্টকে প্রশিক্ষিত করেছি’-- যোগ করেন জাহেদী। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সরকারি আমলারা ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে জাতির স্বার্থে কাজ কমই করে থাকেন। ২০০২ সালে বাংলাদেশ উন্মূক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পৃষ্টপোষকতার অভাবে তা আলোর মুখ দেখেনি।’ সেমিনারে স্বাগত বক্তা, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সভাপতি সাদেকুর রহমান কমিউিনিটি ফার্মেসি সেক্টরের পূর্বাপর নানা প্রেক্ষিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দক্ষ ফার্মাসিস্ট দেখতে চাই। এজন্য কমিমিউনিটি ফার্মাসিস্টদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মানসম্পন্ন করে তুলতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কারিক্যুলাম উন্নয়ন করতে হবে।’ পরিসংখ্যান তুলে ধরে সাদেকুর রহমান বলেন, ‘দেশে ১ লাখ ১০ হাজার লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসি রয়েছে, কিন্তু সব মিলিয়ে ফার্মেসির সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখ। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অনুরোধ জানাবো, লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি উচ্ছেদ করা হোক, অন্যথায় তাদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হোক। তা না হলে এই সেক্টর নিয়ে ছিনিমিনি খেলা রোধ করা যাবে না। সঠিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যাবে না।’ সেমিনারে আমন্ত্রিত হয়ে বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বের ওষুধ প্রয়োগ এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, কমনওয়েলথ ফার্মাসিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেমন অ্যান্ডারসন ও সাধারণ সম্পাদক রেজার অড। আলোচনায় আরও অংশ নেন, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসিয়েশনের সহ-সভাপতি আবদুল হাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হাসান কাউসার প্রমুখ। /একে/      

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।