দুপুর ০১:১২ ; বুধবার ;  ২২ মে, ২০১৯  

লাইবেরিয়া থেকে আসা ৪ প্রবাসীকে নিয়ে ইবোলা আতঙ্ক

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মাদারীপুর প্রতিনিধি॥ ‘ইবোলা আক্রান্ত লাইবেরিয়া থেকে মাদারীপুরে আসা চার নারী ও শিশুকে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি’- এ ধরণের খবর পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বিপাকে পড়েছেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ওই চার প্রবাসী। কেননা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হওয়ায় বিভিন্ন ধরণের বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা। এদিকে, লাইবেরিয়া ফেরত মাহবুব সরদার ও ইলিয়াস হাওলাদারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন মাদারীপুরের সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন। তারা জানিয়েছেন, মাদারীপুরে রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই, তবে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাদের শরীরে ইবোলা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তাদেরকে ২১ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। লাইবেরিয়া থেকে আসা চারজনের মধ্যে এলাকায় রয়েছেন একজন। একই পরিবারের বাকি তিনজন এখন এলাকায় নেই। লাইবেরিয়া থেকে আসা মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ফাঁসিয়াতলা এলাকার মাহবুব সরদার জানান, ৬ অক্টোবর তিনি দেশে এসেছেন। একইদিন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার একটি পরিবারের তিনজন এবং পাশের বরিশালের গৌরনদীর একজন ও সাতক্ষীরা জেলার একজন লাইবেরিয়া থেকে ফিরেছেন। বিমানে ওঠার আগে ও পথে তাদের শরীরে ইবোলা ভাইরাস আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আসার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের শরীরের তাপমাত্রা ও প্রেসার ছাড়া অন্য কোনও পরীক্ষা করা হয়নি। মাহবুবু সরদার দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং যদি তিনি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হতেন তাহলে স্ত্রী-সন্তানের কাছে ফিরে আসতেন না। মাহবুবের স্ত্রী বলেন, 'কোনও ধরণের প্রমাণ ছাড়াই আমার স্বামীসহ অন্যান্যদের নিয়ে ইবোলা ভাইরাস আক্রান্তের খবর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরণের খবর প্রকাশিত হওয়ায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে আমরা বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছি।' Madaripur 17-10-14 (EBOLA Panic)-00001লাইবেরিয়া ফেরত মাহবুব আরও জানান, লাইবেরিয়ায় বাংলাদেশের কোনও দূতাবাস না থাকায় তাদেরতে পাশের দেশ কেনিয়ার বাংলাদেশের দূতাবাসে যেতে হয়। লাইবেরিয়ায় সর্বমোট ১৬০ জনের মত বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় একশ জন দেশে ফিরে এসেছেন। গত ৬ অক্টোবর তিনিসহ ছয়জন প্রথমে লাইবেরিয়া থেকে বিমানে কাসাব্লাকা আসনে। সেখান থেকে বাকিরা আলজেরিয়া থেকে কাতার হয়ে এবং তিনি কাসাব্লাকা থেকে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ আছে বরিশালের গৌরনদীর একজন এবং খুলনার একজনের। এখন পর্যন্ত কেউই কোনও ধরণের শারীরিক অসুস্থতার শিকার হননি বলে দাবি করেন মাহবুব সরদার। কালকিনির মাহবুব সরদারের বন্ধু বর্তমানে লাইবেরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সেলিম হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, লাইবেরিয়ায় থাকা ১৬০ জনের মত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং জাতিসংঘ মিশনে থাকা ১ হাজারের বেশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যসহ বাইরের কোনও দেশের কেউ ইবোলা আক্রান্ত হননি। বাংলাদেশি সবাই ভালো আছেন। এদিকে, কালকিনির বালিগ্রাম ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামের বাড়িতে এসেছেন লাইবেরিয়া প্রবাসী ইলিয়াস হাওলাদারের স্ত্রী সেতু বেগম, তার মেয়ে ঐশী ও ভাগিনা তাসরিন সেন্টু। তারা জানান, স্থানীয়দের বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে আটিপাড়া গ্রামের ইলিয়াস হাওলাদারের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। অথচ ২১ দিনের জন্য লাইবেরিয়া ফেরত সবাই তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে দাবি করছেন সিভিল সার্জন। মাদারীপুরের সিভিল সার্জন বাসুদেব কুমার দাস বলেন, 'প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের শরীরে ইবোলা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে মাদারীপুরে কোনও ব্যবস্থা না থাকায় তাদের রক্ত পরীক্ষা করা হয়নি।' তারা সবাই ২১ দিনের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন মাদারীপুরের এই সিভিল সার্জন। /বিএল/একে/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।