সকাল ১০:৪৩ ; রবিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৮  

অ্যাপসেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, কীভাবে?

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মিজানুর রহমান॥ বাংলাদেশে মোবাইলফোন চালু হওয়ার পরে এখন পর্যন্ত ১১ কোটি গ্রাহকের হাতে পৌঁছে গেছে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ মোবাইলফোন ও ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায় এসেছে।

এ ছাড়াও দ্রুতগতিতে বাড়ছে দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা। ফলে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং নির্ভরতা দুটিই বাড়ছে।

বাংলাদেশের তরুণরা এখন চান তাদের মুঠোফোন বা ট্যাবে অবশ্যই নতুন নতুন অ্যাপস থাকতে হবে। কি গেম এলো, নতুন কি কি মিডিয়া থাকছে, এসব আছে কি না সেটা দেখেই মুঠোফোন পছন্দ করছেন তারা। এসবের মাধ্যমে মুঠোফোনের যে বিপ্লব সাধন হয়েছে তার পুরো সুবিধা নিতে চান তারা।

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন হচ্ছে বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার, যা শুধু মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহার হয়। এ অ্যাপ্লিকেশন গেম, ক্যালেন্ডার, মিউজিক প্লেয়ার থেকে শুরু করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনে যে কোনও ধরনের হতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোর প্রচুর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত ব্যবহার হচ্ছে ও ক্রমান্বয়ে নতুন নতুন চাহিদা বা ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এসব স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর উপযোগী করার জন্য যেকোনও ধরনের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করাই মূলত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন।

বিশ্ববাজারের চাহিদার কথা বাদ দিলেও আমাদের নিজস্ব চাহিদা অনেক। বর্তমানে দেশের সব মোবাইল ব্যবহারকারীর মধ্যে যদি ১০ শতাংশ অ্যানড্রয়েড হয়, তাহলে এ বিশাল গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে দরকার প্রচুর অ্যাপ। অ্যানড্রয়ডের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে ও সামনে আরও বাড়বে। ফলে দরকার হবে অারও অারও অ্যাপ।

দেশ-বিদেশের গ্রাহকরা যদি অ্যাপ ডাউনলোড করে ব্যবহার করে তাহলে অায় হতে হতে পারে দু’ভাবে।

এক, বিনামূল্যের অ্যাপসে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, দুই অর্থের বিনিময়ে ডাউনলোডের মাধ্যমে। লাখ লাখ বার ডাউনলোড হলে লাখ লাখ ডলার আয় হতে পারে ।

ইন্টারন্যাশনাল টেলিকম ইউনিয়নের সূত্র মতে, ২০১০ সালে বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৯০ কোটি। ২০২০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। সঙ্গে বাড়বে মোবাইলের গ্রাহক সংখ্যাও। ২০১০ সালে বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫০০ কোটি। ২০২০ সালে তা ১ হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

আইফোন, অ্যানড্রেয়েড, ব্ল্যাকবেরি এবং উইন্ডোজে সর্বাধিক ব্যবহৃত মোবাইল প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।

mobile-apps-industrypositioning-bangladesh-1-638

গত বছর এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডাউনলোডের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি। কিন্তু এ বছরের শেষভাগে এসে এ সংখ্যা বেড়ে হবে তিনগুণেরও বেশি। ওভাম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আর এ বছরের বাজার বিশ্লেষণে অনুমান করা হচ্ছে, এ বছরে এর পরিমাণ হবে ৫০০ কোটি। আর মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডাউনলোডের এ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। ২০১৬ সালে এশীয় অঞ্চলে মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডাউনলোডের পরিমাণ হবে ১ হাজার ৪০০ কোটি।

এর ফলে মোবাইল অ্যাপলিকেশনভিত্তিক বাজারও বাড়ছে অধিক হারে। ২০১০ সালে এ বাজারের আকার ছিল ৩০ কোটি ২০ লাখ মিলিয়ন ডলার। এ বছরের শেষে বেড়ে তা দাঁড়াবে ৮৭ কোটি ১০ লাখ মিলিয়ন ডলারে।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ বাজার বেড়ে পরিণত হবে ২২০ কোটি বিলিয়ন ডলারে।

বাংলাদেশ থেকেও অ্যাপ্লিকেশন নির্ভর বিশ্বমানের কাজ হচ্ছে। আর এরিনাফোন বিডি মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডেভেলপমেন্টের কাজ করছে অনেক দিন ধরে।

বর্তমানে প্রায় সব ধরনের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের কাজ হয় বাংলাদেশে। তবে তিনটি ক্যাটাগরি এখন শীর্ষে রয়েছে। প্রথমত, গ্রাহকদের জন্য, দ্বিতীয়ত এন্টারপ্রাইজদের জন্য এবং তৃতীয়ত গেমারদের জন্য গেমিং প্ল্যাটফর্মের অ্যাপ তৈরি হচ্ছে দেশে। বাংলাদেশে অনেক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

জানা গেছে, দেশে ৫টিরও বেশি স্থানীয় অ্যাপ স্টোর গড়ে তোলা হয়েছে। সেসবে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ।

এছাড়া গুগল প্লে স্টোরেও পাওয়া যাচ্ছে অন্তত ২৫টি দেশীয় অ্যাপ। বিনামূল্যে ডাউনলোড করে সেগুলো ব্যবহার করা যাবে। অন্য দিকে অ্যাপল স্টোরেও পাওয়া যাচ্ছে অ্যাপ।

/এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।