সকাল ০৮:১৮ ; শুক্রবার ;  ১৫ নভেম্বর, ২০১৯  

আলো ফেলে স্মৃতি মুছলেন বিজ্ঞানীরা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ফয়সল আবদুল্লাহ॥ জিম ক্যারি অভিনীত 'ইটারনাল সানশাইন অফ দ্য স্পটলেস মাইন্ড' ছবিটি যারা দেখেছেন, তাদের কাছে স্মৃতি মুছে দেওয়ার কারিগরি বিষয়াদি অনেকটা পরিষ্কার। ছবিতে একগাদা যন্ত্রপাতি বসিয়ে মাথা থেকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলানো দেখানো হ‌‌য়েছে দীর্ঘসময় ধরে। আর সেই সায়েন্স ফিকশনটিই এখন সত্যি হওয়ার দ্বারপ্রান্তে! মগজের ভেতর বিশেষ ধরনের আলো ফেলে স্মৃতি মুছে দিতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে মানুষের নয়, আপাতত ইঁদুরের মাথা থেকে 'দুঃসহ স্মৃতি' মুছে ফেলতে পেরেছেন তারা। শুধু স্মৃতি মোছাই নয়, মস্তিষ্কের কয়েকটি অংশ যে পারস্পরিক বোঝাপোড়ার মধ্য দিয়ে কাজ করে, সেই তত্ত্বটাও পোক্ত হয়েছে যুগান্তকারী এ গবেষণায়। মগজের তথ্য মোছা সংক্রান্ত বিদ্যের নাম অপটোজেনেটিক্স। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক কার্ল ডিজেরথকে এই শাখার অগ্রদূত ধরা হয়। এই পদ্ধতিতে স্নায়ুকোষের ওপর আলো ফেলে কোষের চরিত্র বদল ও আচরণ পরীক্ষা করা যায়। মস্তিষ্কের কার্যপ্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা করতে এই অপটোজেনেটিক্স এখন বহুল প্রচলিত। আর এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউসি ডেভিস সেন্টারের কয়েকজন গবেষক বেশ কিছুদিন ধরেই স্মৃতিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছিলেন। কেননা, গত ৪০ বছর ধরেই নিউরোবিজ্ঞানীরা 'এপিসোডিক মেমোরি' ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করে আসছিলেন। এই এপিসোডিক মেমোরি হলো এমন একটি স্মৃতি যা মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স ও হিপোক্যাম্পাস নামের দুটো অঞ্চলের যুথবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার ফসল। গবেষক ব্রায়ান ওয়াইল্টজেন ও কাজুমাসা তানাকা যা করলেন তা হলো- প্রথমে একটি ইঁদুরের ভেতর একটি খাঁচায় স্বল্পমাত্রার বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগ করে 'খাঁচাভীতি' তৈরি করলেন। ইঁদুরটা ছিল জিনেটিক্যালি মোডিফায়েড। যার মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলো উত্তেজিত হতেই ফ্লুরোসেন্ট আলো ছড়ায়। আবার একটি প্রোটিনও তৈরি হয় ওই স্নায়ুকোষে, যা বিশেষ আলোর উপস্থিতিতে সুইচের মতো অন-অফ হয়। খাঁচার ভেতর বৈদ্যুতিক শকের ভীতি জন্মানোর সময় বিজ্ঞানীরা খেয়াল করেছিলেন, ভীতি সংক্রান্ত নতুন স্মৃতি তৈরির সময় হিপোক্যাম্পাস ও সেরিব্রালের কোন কোন কোষগুলো আলো ছড়িয়েছিল। শেখার প্রক্রিয়া শেষে ইঁদুরটাকে ছেড়ে দেন গবেষকরা। স্বাভাবিকভাবে নতুন জায়গার গন্ধ শুঁকে বিপদের অস্তিত্ব বোঝার চেষ্টা করতে থাকে ইঁদুরটা। যে-ই না খাঁচার কাছে এলো, অমনি জেগে উঠলো বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার ভীতি। খাঁচায় আর ঢুকলোই না সে। পরে গবেষকরা আলো নিক্ষেপ করে ইঁদুরের সেই কোষগুলোর (স্মৃতি তৈরি সংক্রান্ত) কার্যকারিতা নষ্ট করে দেন। এরপর আর ইঁদুরটাকে খাঁচা নিয়ে একটুও ভয় পেতে দেখা গেল। ওই খাঁচাতেই যে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছিল তা সে বেমালুম ভুলে গেছে। ইঁদুরের মগজে ফ্লুরোসেন্ট আলো ছড়ানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হলেও মানুষের ক্ষেত্রে তা এখুনি সম্ভব নয়। তবে এর বিকল্প পদ্ধতিও বের হয়ে যাবে নিশ্চয়ই। তখন চাইলেই মুছে ফেলা যাবে প্রতিমুহূর্তে তাড়িয়ে বেড়ানোর মতো অতিমাত্রায় ভয়ানক কোনও স্মৃতি।   সূত্র: সায়েন্স ডেইলি

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।