বিকাল ০৫:২৪ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

অাউটসোর্সিং অায় বাড়াতে জানতেই হবে এসইও

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এম. এম. রহমান॥

আপনার কি ব্যক্তিগত ব্লগ বা ওয়েবসাইট অাছে? আপনার সাইটের কনটেন্ট গুগলে খুঁজলে লাখ লাখ অাইটেমের মধ্যে হারিয়ে যায়?

ধরুন, আপনি অন্তত ৩০টি ওয়েবসাইটে একটি বিষয়ে আর্টিকেল ছেপেছেন। কিন্তু আপনার আর্টিকেলটি চলে যায় গুগলের দ্বিতীয় বা তৃতীয় পাতায়। আপনি জানেন না কীভাবে গুগলের প্রথম পাতায় জায়গা করে নিতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে কোন কনটেন্টটি আগে দেখাবে, কোনটি পরে দেখাবে এই প্রক্রিয়ায় গুগল অত্যন্ত জটিল গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে। কিন্তু কিছু নিয়ম অনুসরণ করলে আপনার কাজটি কিছুটা সহজ হয়ে যায়।

× কোয়ালিটি ব্যাকলিংক তৈরি করা

× গুগল প্লাসে সক্রিয় হওয়া

× গুগল রিভিউ

× কি-ওয়ার্ড ব্যবহার

× লেখার মান বজায় রাখা

× মৌলিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি ব্যবহার

ডোমেইন নাম: তেমন কোনও প্রভাব না থাকলেও সার্চ ইঞ্জিনে যত সহজ ডোমেইন নাম হবে ততই ভালো। সহজ ডোমেইন নাম ব্যবহার করুন। সাবডোমেইন ব্যবহার না করে নিজের ওয়েবসাইট ব্যবহার শুরু করুন এবং সহজ ডোমেইন নাম নিন।

মান বজায় রাখুন: গুগলের কাছে গুরুত্ব পেতে হলে আপনার ওয়েবসাইটকে হতে হবে খুবই মানসম্পন্ন। পেশাদার ডিজাইনারদের দিয়ে ওয়েবসাইটটি ডিজাইন করান। সাইটের বিষয়বস্তুতে যত্নশীল থাকুন। কারণ অতিরিক্ত ব্যাকরণিক ভুল গুগল পছন্দ করে না। অতিরিক্ত ভুলের কারণে আপনার সাইটটিকে গুগল নিজেদের র‌্যাংকিং পদ্ধতি থেকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে পারে।

লেখার ক্ষেত্রে কপি-পেস্ট বর্জন করুন। যার কাছ থেকে কপি করেছেন তার নাগালের বাইরে থাকলেও আপনি গুগলের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন না। আপনার লেখাটি মৌলিক কি না গুগল তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরূপণ করতে পারে এবং এতে আপনার সাইটটি চিরস্থায়ীভাবে গুগলের সদয় দৃষ্টি বঞ্চিত হতে পারে।

Google 2

কেমন ছবি দিবেন: লেখার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি নিশ্চিত করুন। ছবির একটি নাম ব্যবহার করুন যা আপনার লেখার বিষয়বস্তুর সঙ্গে খাপ খায়। এক্ষেত্রে ছবির মানও একটি বিষয় বটে। ভালো মানের সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি ব্যবহার করুন। গুগল এটি খুব পছন্দ করে। ছবি চুরি করতে যাবেন না। এতে র‌্যাংকিং-এ মার খেয়ে যেতে পারেন।

কি-ওয়ার্ডের ব্যবহার: সার্চ ইঞ্জিনে কি-ওয়ার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার লেখায় বহুল প্রচলিত কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করুন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি চলমান বিষয়গুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে লিখছেন। প্রয়োজনে জেনে নিন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে চলমান কি-ওয়ার্ড কী কী। লেখাতে কি-ওয়ার্ডের ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব যত্নশীল থাকুন।অসঙ্গতিপূর্ণ কি-ওয়ার্ড দিয়ে ভরে ফেলবেন না। লেখার হেডলাইনে ব্যবহার করুন; বডিতে কয়েকবার থাকা চাই। বেশি ব্যবহার করতে কি-ওয়ার্ড ফ্লাডিং -এর দায়ে গুগল আপনাকে র‌্যাংকিং থেকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।

ব্যাকলিংক: গুগল র‌্যাংকিং-এ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ব্যাকলিংক। ব্যাকলিংক হচ্ছে এমন একটি লিংক যেটি আপনাকে একটি সাইট থেকে নিজের সাইটে নিয়ে আসবে। এক রকম বাড়ি ফেরার ঠিকানা বা রাস্তার মতো।

আপনি কোনও একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি আর্টিকেলে আপনার ওয়েবসাইটের পরিচয় দিয়ে আসাটাই হচ্ছে ব্যাকলিংক বিল্ডিং। আপনি যে লিংকটি দিয়ে আসলেন সেটিই ওই ওয়েবসাইট থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ফিরে আসার ব্যাকলিংক হিসেবে কাজ করবে। তবে ব্যাকলিংক দেওয়ার জন্য কমেন্ট সেকশনে ফ্লাডিং করলে গুগল আপনাকে ধরে ফেলতে পারে।

জেনে রাখুন, আপনি গুগলকে ফাঁকি দিতে পারবেন না। কোয়ালিটি ব্যাকলিংক তৈরি করুন।

নো-ফলো বা ফলো ব্যাকলিংক যা-ই ব্যবহার করুন না কেন আপনি ভালো ওয়েবসাইটের সঙ্গে আপনার লিংক স্থাপন করেছেন এটা নিশ্চিত করুন। নো-ফলো ব্যাকলিংক হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের লিংকটি লুকানো থাকবে।

Google 1

ফলো ব্যাকলিংক হচ্ছে আপনি যেখানে লিংকটি দিয়ে আসলেন যেখানে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে সোজা আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে আসবে। নো-ফলো ব্যাকলিংক থেকে ফলো ব্যাকলিংক গুগল র‍্যাংকে সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি আপনি বাড়তি ভিজিটরও পেতে পারেন। তবে নো-ফলো ব্যাকলিংক দিতে হলে আপনাকে আর্টিকেলের মধ্যে কোনও একটি কি-ওয়ার্ডের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে ছোট্ট রিলেশন (নো-ফলো) কোড লিখে দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, আপনার আর্টিকেলে কোনও ওয়েবসাইটের হাইপারলিংক ব্যবহার করাটা ওই ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক হিসেবে কাজ করে। তাই অনেকে লেখা ধার নিয়ে কার্টেসিতে ওয়েবসাইটের নাম লিখলেও লিংকটি দেন না। গুগল এটি ধরতে না পারলেও লেখা কপি পেস্ট নীতিতে আপনাকে ঠিকই ধরে ফেলবে।

কোয়ালিটি ব্যাকলিংকের জন্য ফোরামগুলোতে সক্রিয় হন। মানসম্পন্ন ব্লগগুলোর নিয়মিত পাঠক হোন। কমেন্ট করুন। আপনাকে অবশ্যই ক্রিয়াশীল হতে হবে। তবে ইদানিং ব্যাকলিংক তৈরি করা সহজ হয়ে গেছে। যেসব ফোরামে আপনি ব্যবহারকারী হিসেবে লাইক করতে পারেন সেগুলোতে একেকটি লাইক একেকটি ব্যাকলিংক হিসেবে কাজ করবে।

গুগল পেজ র‌্যাংক এভাবেই তৈরি হয় এবং আপনার পেজ র‌্যাংক যত বেশি গুগলের কাছে আপনার গুরুত্বও ঠিক ততই বেশি।

গুগলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ান: গুগলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ান। গুগলের সঙ্গে সম্পর্কিত সব ওয়েবসাইটের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক বাড়ান। গুগল প্লাসে সক্রিয় থাকুন। ইউটিউবে আপনার ভিডিও আপলোড করুন। ক্যাপশনে আপনার ওয়েবসাইটের লিংকটি দিতে ভুলবেন না যেন। গুগলের পণ্য ব্যবহার করলে গুগল খুশি হবে এটাই স্বাভাবিক।

ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ: আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ব্যবহারকারীর রিভিউ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গুগল এই বিষয়টি খুব পছন্দ করে। গুগল প্লাস অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়ে ব্যবহারকারী তার অভিজ্ঞতার কথা জানাতে পারে। এতে সার্চ ইঞ্জিনে আপনার বাড়তি সুবিধা মিলবে।

রিভিউ লিখতে আপনি গুগল প্লাস প্রোফাইলের 'লোকাল' অপশনে গিয়ে কোন বিষয়ে রিভিউ লিখবেন তা লিখে খুঁজুন এবং 'কলম' এর মত আইকনটিকে ক্লিক করে রিভিউ লিখুন। আপনি এখানে রেটিংও করতে পারেন। এক তারা থেকে পাঁচ তারা পর্যন্ত।

এই রেটিংগুলো সাইটের মান নির্ধারণ করতে সহায়তা করে।

/এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।