রাত ০৪:২৫ ; রবিবার ;  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯  

'শিশু আইন সংশোধনের প্রয়োজন নেই'

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

উদিসা ইসলাম॥ 'বাল্যবিবাহ রোধ আইন ২০১৪'-এর সঙ্গে 'শিশু নীতি ২০১৩' সাংঘর্ষিক; এমন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তবে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। সরকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিশু আইন সংশোধনের প্রয়োজন নেই। কিছু বিষয়ের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করলেই এ সমস্যা দূর হবে। সম্প্রতি আগের আইন সংশোধন করে বিয়ের বয়স কমিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ বিলে অনুমোদন দেওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্নের মুখে পড়ে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এই বিলে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ এবং ছেলেদের ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধিকারকর্মীরা নতুন এই বিলকে শিশু আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে উল্লেখ করেন। শিশু আইনে বলা হয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, 'শিশু আইনের সংশোধন অত্যাবশ্যক নয়। আমরা শিশু আইনে কিছু বিবরণ যুক্ত করব, যাতে করে ১৬ বছরে মেয়েদের বিয়ে দিতে পারবে অভিভাবকরা।' প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান শিশু আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা না রেখেই বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।' জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুসারে শিশু বিল ২০১৩-এ ১৮ বছরের কম বয়সী প্রত্যেককেই শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বাল্যবিবাহের হারে শীর্ষ দেশগুলোর একটি। এ ধরনের সমালোচনার মুখে গত সেপ্টেম্বরে বাল্যবিবাহের হার কমিয়ে আনতে সরকার বিয়ের বয়স কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। দেশের নারী ও মানবাধিকার কর্মীরা এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, এতে ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে দেশ। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছেন, দেশে মাতৃমৃত্যুর হার বেশি থাকায় বিয়ের বয়স কমানো উচিত হবে না। তিনি চিঠিতে আরও বলেন, 'আরও ভাল হবে যদি বিয়ের বয়স ২০ বছর করা হয়।' কিন্তু প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি জানিয়েছেন, সরকার দেশের মঙ্গলের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত সম্প্রতি এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমাদের দেশের মেয়েরা ১৪ বছরেই সাবালক হয়। তাই বিয়ের বয়স ১৬ করলে কোনও বিরাট সমস্যা হবে না।' কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী প্রতিমন্ত্রীর এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখান করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই বলেছি, এ সিদ্ধান্ত দেশের জন্য আত্মঘাতী এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার যদি চায় বিয়ের বয়স কমাতে তাহলে শিশু আইন সংশোধন করতে হবে অথবা সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে শিশুর সংজ্ঞা বাদ দিতে হবে। /এএ/টিএন/এফএ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।