বিকাল ০৫:১০ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং জনপ্রিয় হচ্ছে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মিজানুর রহমান॥ সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায় দৈনিক পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে 'ডিজিটাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের বিজ্ঞাপন প্রধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।' কিছুদিন আগ সিটি ব্যাংক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সেবার কথা ছড়িয়ে দিতে একটি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এজেন্সির সহায়তা নিয়েছে। এমন উদাহরণের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল মিডিয়া এখন জনপ্রিয় এবং অপরিহার্য মাধ্যম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশাল জনপ্রিয়তাকে ব্যবসায়িক কাজে লাগাচ্ছে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। ভাচুর্য়াল বাজারের ক্রেতা ধরতে তৎপর হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পণ্যের বিপণনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাধ্যমটি হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় ভার্চুয়াল বাজার। প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি জনবল ফুলটাইম ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কাজ করছেন।

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের আগে শুধু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এদিকে নজর বাড়ছে বড় কোম্পানিগুলোর।

এ মাধ্যমের প্রসার বাড়তে থাকায় এই সেবাদাতার সংখ্যাও বাড়ছে। তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও স্বল্প সময়ে অনেক বেড়েছে।

তেমন একটি প্রতিষ্ঠানে এরিনাফোন বিডি লিমিটেড ভার্চুয়াল বিপণন সেবা দিচ্ছে http://www.ad65.com/ এর মাধ্যমে।

দেশের নামকরা প্রতিষ্টানগুলো তাদের পণ্যের পোর্টফোলিওসহ প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং করতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা। আর এতে ফেইসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো যেন ভার্চুয়াল বাজারে পরিণত হচ্ছে। সম্প্রতি দেশে শীর্ষ এ মাধ্যমটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা কোটির পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করেছে ডিজিটাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ে।

ডিজিটাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন সংস্থাদের মতে, ছোট ও বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রসারের জন্য এদিকে ঝুঁকছে। এমনকি পাড়ার একটি ক্লাবের কার্যক্রম প্রচারে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

মূলত সব শ্রেণীর গ্রাহকের কাছে খুব দ্রত পৌঁছতে প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন মার্কেটিং করছে এবং ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।

বর্তমানে অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম যেমন পত্রিকা, টেলিভিশন ও রেডিও থেকে ফেইসবুক, টুইটার, গুগলসহ অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়ায় কোন পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন অনেক সহজ এবং কম খরচে দেওয়া যায়। তা ছাড়া এর মাধ্যমে কাঙ্খিত গ্রাহকের কাছেও খুব সহজেই পৌঁছতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলো।

এক জরিপে দেখা যায়, ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ফেসবুকে পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো। তবে দেশের টেলিকম অপারেটরগুলো এখন পর্যন্ত ডিজিটাল মার্কটিংয়ে এগিয়ে রয়েছে।

দেশে এখন ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বেশি। তাই এটিই এখন ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রধান ক্ষেত্র। তথ্য মতে, দেশের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ডিজিটাল মার্কেটিং এ মাধ্যমে হয়ে থাকে।

মাঝারি এবং ছোট ব্যবসায় অনলাইন মাধ্যম হতে পারে ব্যবসা সফলে সবচেয়ে সক্রিয় মাধ্যম।

এভাবেই অনলাইনে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ও ক্রেতা চাহিদা তৈরি এবং পণ্য ও সেবার বিপণনের ভবিষ্যৎ। ফলে উদীয়মান অনলাইন সুপার মার্কেটের নিয়ন্ত্রক হতে গুগল এখন সুদীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

এরিনাফোন বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রাব্বি বললেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচলিত মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিংয়েও বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। দেশে চার কোটির ওপর ইন্টারনেট এবং ১১ কোটির বেশি মোবাইলফোন ব্যবহারকারী থাকায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন পণ্যের খবর, মার্কেটিং ইত্যাদিতে মাধ্যম হিসেবে ডিজিটাল বা নিউ মিডিয়ার দ্বারস্থ হচ্ছে। ফলে এ মাধ্যমটি হালে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

/এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।