রাত ১০:৪৩ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

আমার কাছে মনে হয় আমি সবসময় একই বই লিখি : প্যাত্রিক মোদিয়ানো

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

[নোবেল পুরস্কারের সংবাদ ঘোষণার পর প্যাত্রিক মোদিয়ানোর সঙ্গে নোবেল মিডিয়ার পক্ষে হিলেন হার্নমার্ক-এর ফোনালাপ হয়। ফরাসী ভাষায় নেয়া এই সাক্ষাৎকারটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন জাহিদ সোহাগ]

প্যাত্রিক মোদিয়ানো : হ্যালো ইন্টারভিউয়ার : হ্যাঁ, হ্যালো, নোবেল পুস্কার পাবার জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। প্যাত্রিক মোদিয়ানো : এটা আপনার খুব দয়া যা আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। ইন্টারভিউয়ার : আমার নাম হিলেন, নোবেল প্রাইজ অর্গানাইজেশন থেকে ফোন করছি। আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে সময় দেবার জন্য। আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই। প্যাত্রিক মোদিয়ানো : হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ ইন্টারভিউয়ার : যখন খবর পেয়েছেন তখন আপনি কোথায় ছিলেন? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : সত্যি বলতে আমি তখন রাস্তায় ছিলাম। হ্যাঁ আমি রাস্তায় ছিলাম। আমার মেয়ে তখন আমাকে জানিয়েছিলো। ইন্টারভিউয়ার : আপনার মেয়ে মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলো? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ। ব্যাপারটা আমাকে অনেক স্পর্শ করেছে। এটা আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে কারণ আমার একজন সুইডিশ নাতি আছে। ইন্টারভিউয়ার : আপনি প্যারিসের কোথায় ছিলেন? কোন রাস্তায়? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : আমি ঠিক জারডিন ডি লুক্সেমবার্গ এর পাশে ছিলাম। ইন্টারভিউয়ার : ওহ! দারুণ। নোবেল পুরস্কার পাবেন এটা কি ভেবেছেন? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : প্রথমে... এটা সত্যিই অপ্রত্যাশিত, আমি এটা পাবো বলে চিন্তাও করিনি... এটা সত্যিই আমাকে স্পর্শ করেছে। আমাকে খুব আবেগ প্রবণ করেছিলো। ইন্টারভিউয়ার : আপনি তো অনেক দিন ধরে লিখছেন । আপনি কেন লেখেন? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : আমি খুব তাড়াতাড়ি লিখতে শুরু করেছি। তখন আমার বয়স বিশ বছর। এখন তো দীর্ঘ সময় হলো। এর কিছুটা প্রাকৃতিক কিছুটা জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ইন্টারভিউয়ার : আপনি ২০-৩০ টি বই লিখেছেন। এমন কি কোনো বই আছে যা আপনাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে; যা অন্যগুলো থেকে আপনার কাছে বেশি অর্থবহ? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : শুনুন, এটা বলা অনেক কঠিন। আমার কাছে মনে হয় আমি সবসময় একই বই লিখি, যার অর্থ হলো আমি ৪৫ বছর ধরে একই বই থেমে থেমে লিখছি। আপনি সত্যিই জানেন না আপনার পাঠক কারা। ইন্টারভিউয়ার : এখন তো আপনি বিশ্ববিখ্যাত হলেন। কোন বইটি পড়তে পাঠককে বলবেন? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : হ্যাঁ। আমি সবসময়ই বলবো আমরা শেষ বইটা পড়তে। ইন্টারভিউয়ার : নাম কি সেটার? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : সেটার নাম Pour que tu ne te perdes pas dans le quartier. ইন্টারভিউয়ার : Pour que tu ne te perdes pas dans le quartier? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : Pour que tu ne te perdes pas dans le quartier. এটা আপনার চারপাশের পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে, যা আপনি হারিয়েছেন। শেষ বইটিকে আমি সবসময়ই সুপারিশ করি কারণ এটা আপনাকে ছেড়ে যাবে... ইন্টারভিউয়ার : আরো কিছু চায়? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : হ্যাঁ হ্যাঁ ইন্টারভিউয়ার : আপনি কি আজ রাতে পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দটা উদযাপন করতে যাচ্ছেন? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি পরিবারের কাছে যাচ্ছি। হ্যাঁ। হ্যাঁ, আমার সুইডিশ নাতির কাছে। যে আমাকে অপার আনন্দ দিয়েছে। সে আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি তাকে পুরস্কারটি উৎসর্গ করবো। যাই হোক না কেন এটা তো তার দেশের। ইন্টারভিউয়ার : আপনি কি ডিসেম্বরে সুইডেন আসবেন? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : হ্যাঁ হ্যাঁ, অবশ্যই! ইন্টারভিউয়ার : পুরো পরিবার নিয়ে? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : হ্যাঁ, হ্যা।(হেসে) ইন্টারভিউয়ার : আপনার পরিবার কি অনেক বড়? প্যাত্রিক মোদিয়ানো : না, না খুব বড় নয়। আমার দুই মেয়ে এবং একজন নাতি। ইন্টারভিউয়ার : আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং পুনরায় অভিনন্দন জানাই। প্যাত্রিক মোদিয়ানো : আপনাকেও ধন্যবাদ। আশা করি আপনাকে আমি বিভ্রান্তিকর কিছু বলিনি। ইন্টারভিউয়ার : না, না একদমই না। আপনার সন্ধ্যাটা সুন্দর হোক। সুইডেনে এবং নোবেলপ্রাইজ অরগানাইজেশনের পক্ষ থেকে আপনাকে আবারও জানাই উষ্ণ অভ্যর্থনা। প্যাত্রিক মোদিয়ানো : ওহ্। আমি খুব আনন্দিত।   এ সম্পর্কিত আরো লেখা পড়তে ক্লিক করুন- প্যাত্রিক মোদিয়ানো ‘আমাদের কালের মার্সেল প্রুস্ত’

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।