ভোর ০৬:০৬ ; শুক্রবার ;  ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯  

''বাবার খুনির সহায়তাকারীকে কীভাবে বিশেষ দূত বানালেন''

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

দেশ ও দেশের মানুষ চাইলে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ নেবেন ড. কামাল হোসেন। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে সাংবিধানিক নিয়মরক্ষার নির্বাচন হিসেবে ভাবেন তিনি। সেজন্যই চান সব দল ও মতের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি কার্যকরী নির্বাচন। আর এ দাবি আদায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তার প্রশ্ন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের অাগে তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বলেছিলেন এই নির্বাচন নিয়মরক্ষার নির্বাচন। সাংবিধানিক নিয়মরক্ষার নির্বাচন। এখন তিনিই বলুন কবে নির্বাচন দেবেন। তিন মাস, ছয় মাস অথবা ৯ মাস পর...। তিনিই বলুন...। তবে ড. কামাল হোসেন এও বলেছেন, তিনি ( শেখ হাসিনা) নির্বাচন দেবেন বলে মনে হয় না। কীভাবে দেবেন জানি না। চাপে পড়ে, জাতীয় ঐক্য করে অাদায় করতে হবে। এ ঐক্য হবে জনগণের শক্তির ভিত্তিতে। যে নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ। গত শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ৭ বেইলি রোডের বৃক্ষশোভিত বাসায় বসে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এসব মতামত ব্যক্ত করেন প্রবীণ রাজনীতিক এবং দেশে-বিদেশি স্বনামখ্যাত এই অাইনজ্ঞ গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউন-এর নিজস্ব প্রতিবেদক সালমান তারেক শাকিল। এ সময় ড. কামাল হোসেন ভাষা অান্দোলন, ৫৪-র নির্বাচন, ৬ দফা অান্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বাকশাল প্রতিষ্ঠা, অাওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগঠন, বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে নেওয়া, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া, জাতীয় সরকার গঠন ও মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন। দীর্ঘ অাড়াই ঘণ্টার অালাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বানানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। কথা বলেন সম্প্রতি একে খন্দকারের লেখা গ্রন্থ '৭১ ভেতরে-বাইরে' নিয়েও। এ প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, এটা খামাখা বিতর্ক। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের রেকর্ড দেশে নেই। বিদেশে রয়েছে। বিদেশ থেকে অানা হলে অামরা একসঙ্গে বসব। অামি অাশাকরি উনি এটা বুঝতে পারবেন। কারণ, এই 'জিয়ে পাকিস্তান' বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সেটা অন্য সমাবেশে। সেটি ৪ মার্চ। বাংলা একাডেমিতে এমএলএ-র বৈঠকে। ৭০ এর নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছিল তাদের বৈঠকে। ড. কামাল হোসেন কথা বলেন দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়েও। শঙ্কাবোধ করেন সরকারের ‌'একগুঁয়েভাবে' সংবিধান সংশোধন নিয়ে। বাংলা ট্রিবিউন : বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে আনতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী এনেছে সরকার। আপনি সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী। এ প্রসঙ্গে আপনার ভাবনা... ড. কামাল হোসেন: চিন্তাই করা যায় না। এটা বলা নাকি দেশদ্রোহিতা! এই যে সংবিধানে সংশোধনী অানা হয়েছে এটার ব্যাপারে তো মুখ খুললে দেশদ্রোহিতা হবে। কেউ কি কল্পনা করতে পারে এ ধরনের চিন্তাধারা? অামি কয়েকদিন বলেছি অামি দেশদ্রোহিতা করলাম। এটা এবসার্ড। সংবিধান তো পরিবর্তন হবেই, অাধুনিকায়ন করলে তো সমালোচনা হবে, এরপর সবাই মেনে নেবে। প্রয়োজন হলে অাবার সংশোধন করা যাবে, এটিই তো গণতন্ত্র। আর পরিবর্তন করা না গেলে তো কোরঅান শরিফের মতো দাবি করা হবে, কোরঅান শরিফ পরিবর্তন করার চিন্তা করা তো শিরকই কাজ। তাহলে সংবিধান পরিবর্তন করাতে দোষ নেই। কিন্তু যে পদ্ধতিতে ষোড়শ সংশোধনী করা হয়েছে, এটি মেনে নেওয়া যায় না। এগুলো দেখতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে। hqdefault বাংলা ট্রিবিউন: মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রসমাজের একটা বড় ভূমিকা ছিল। এখনকার ছাত্রসমাজ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন: ড. কামাল হোসেন: মুক্তিযুদ্ধের অাগে থেকেই বাংলাদেশে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল এটা ভাবাও যায় না। সেই ৬৬ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পর্যন্ত। ৬ দফা থেকে ১১ দফা। বাম থেকে অাওয়ামী লীগ, যারাই অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করত সবাই কিন্তু এক জায়গায় চলে এসেছিলাম। অামরা যখন পাকিস্তানের বৈষম্যের কথা বলেছি, অামাদের গুণগত পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরেছি, মানুষ এটি বুঝেছে। মানুষ কেন বুঝেছে? কারণ, সাংবাদিকদের অসাধারণ ভূমিকা ছিল। তখন তো টিভিও ছিল না। ইত্তেফাক, সংবাদের মধ্য দিয়ে কথাগুলো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। অামরা লক্ষ্য করেছি ৬৬ থেকে ৭০-এর মধ্যে কিন্তু তথ্য সহকারে, যুক্তি সহকারে সব কথা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে। এই বৈষম্যের কথা কে বলেছিল? ভাষা অান্দোলনের সময় 'নো নো নো' কে বলেছিল? ছাত্ররা। ছাত্ররাই এসব বলেছে। সাংবাদিকরাই এসব লিখেছে। কিন্তু, এখনকার ছাত্ররা সেভাবে আর পারছে না। অামার সবচেয়ে বেশি অাশঙ্কা হচ্ছে ছাত্র সমাজকে নিয়ে। সাংবাদিকরা যেভাবে ঝুঁকি নিতে পারছে, তারা কিন্তু পারছে না। কেন পারছে না? এই ছাত্র সমাজের মধ্যেও এগুলো (গুণ) রয়েছে। এই বোধ রয়েছে। তথ্যের দিক থেকে এখনকার ছাত্র সমাজ অনেক এগিয়ে। তারা ওয়েল ইনফরমড। কিন্তু তারা নীরব। তাদের নীরব করে রাখা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কত বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে না! অথচ এখন গণতন্ত্রের কথায় কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। কেন ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে না? কারণ হচ্ছে সরকারগুলো বোঝে যেখানে স্বাধীনভাবে চিন্তা হয়, সেখানে কন্ট্রোল করা যায় না। অার তাই পরিস্থিতি এমন করা হয়েছে, কথা বললে হল থেকে বের করে দেওয়া হবে। বাংলা ট্রিবিউন: সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের উপসেনাপতি একে খন্দকারের লেখা '৭১: ভেতরে বাইরে' বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণের একটি তথ্য নিয়ে ভীষণ আলোচনা সমালোচনা চলছে। ড.কামাল হোসেন: বঙ্গবন্ধু ও জয় পাকিস্তান বিতর্ক খামাখা। 'জিয়ে পাকিস্তান' বলেছিলেন অারেকটি সমাবেশে। স্বাধীনতার অাগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হয়েছে। একটা হচ্ছে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি, ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারি হবে। ৭১ এর নির্বাচনে যখন অামরা বিজয় লাভ করি, তখন হাউজ কল করা হচ্ছে, তখন একটা স্মরণীয় মিটিং হয় ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে। যখন অামরা ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, সবাই অালাপ করছে, অামার কাছে এসে জানতে চাইছে অাজকে তো স্বাধীনতা কল করা হয়ে যাবে। কারণ, নির্বাচন হয়েছে ডিসেম্বর, জানুয়ারি গেল, ভারতেও নির্বাচন হয়ে গেছে, সবই হচ্ছে। কিন্তু অামাদের এখানে কোনও কিছু হচ্ছে না। ওই দিন বক্তব্যে শেখ মুজিব পাকিস্তানী শাসকদের উদ্দেশে বললেন, তোমরা শিগগিরই হাউজ কল কর। না হলে অামরা অামাদের পথ ধরব। ইঙ্গিত খুব পরিষ্কার ছিল। হয় নির্বাচন মেনে হাউজ কল কর, সাংবিধানিক পথে এগুবে দেশ, না হলে কোন পথ ধরা হবে, সে ইঙ্গিত পরিষ্কার। এ কথা তো একবার না ওই সময় ১ হাজার বার বলা হয়েছে; হয় ছয় দফা, না হয় এক দফা। আমরা আমাদের বক্তব্যে বলেছি। অামরা যারা তৎকালীন অাওয়ামী লীগের কর্মী পর্যায়ের ছিলাম, যারা জেলা নেতৃবৃন্দ পর্যায়ের ছিল, সবাই তখন এই বক্তব্যই দিত। ফলে যারা বলে স্বাধীনতার কথা চিন্তা করা হয় নাই, তাদের চিন্তা তো এবসার্ড, এই চিন্তা তো সেই ৬৬ থেকে উৎসারিত। স্বাধীনতার কথা ছড়িয়ে পড়েছে সবার মধ্যে। এই কথা মানুষের মধ্যে, ছাত্রদের মধ্যে অালোচনা হয়েছে। যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে মুক্ত ছিল মোটকথা সবাই বঙ্গবন্ধুর এই কথা বুঝেছে। এর অাগে ৪ মার্চ বাংলা একাডেমিতে এমএএলএ-বৈঠকে বঙ্গবন্ধু 'জিয়ে পাকিস্তান' বলেছিলেন। এটির রেকর্ড অাছে। বিদেশ থেকে অানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটি নিয়ে অাসলে একে খন্দকার সাহেব অনেক সজ্জন ব্যক্তি, পরিচ্ছন্ন মানুষ, সৎ, তিনি শুনলেই তার মনে পড়বে। অামি জানি, সত্যটা জানতে পারলে বইটি তিনি সংশোধন করবেন। এই পর্যায়ে আরও অনেক বিষয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে কথা বলেন তিনি। তার কিছু চুম্বক অংশ: ''কিন্তু বাবার খুনির সহায়তাকারীকে বানালেন নিজের দূত'' বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা কী করলেন। এমন একজন ব্যক্তিকে নিজের বিশেষ দূত বানালেন যিনি বঙ্গবন্ধুর খুনী ফারুককে দেশে এনে সাংসদ বানিয়ে বিরোধী দলনেতা বানালেন। বাবার খুনির সহায়তাকারীকে এভাবে...। মেলাতে পারছি না। তোমাদের বাবাকে যে মেরে ফেলল, তার খুনিকে যে সহায়তা করল, একদমই মেলাতে পারছি না। একী বিশ্বাস করা যায়! এটা তো হল না। যে জনতা টাওয়ার দুর্নীতি মামলা দিয়ে দণ্ড্প্রাপ্ত হলেন এরশাদ, অামরাই করলাম। ওই ঘটনাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হল। ''ভুয়া সার্টিফিকেটে আমলাদের পদোন্নতি '' মুক্তিযুদ্ধের সময় অামরা মানুষ হতে হতে একটি সর্বোচ্চ প্রশংসনীয় জায়গা গিয়েছিলাম। ৫৪ থেকে মানুষ হতে শুরু করেছিলাম। ওই সময় কেউ নিজের নিয়ে চিন্তা করত না। কী পাব, কী পাওয়া উচিৎ, কী পেয়েছি, এসব নিয়ে কেউ-ই ভাবেননি। কয়েকটা চোর বাটপার ছাড়া সবাই দেশ নিয়েই ভেবেছে। ওই সময় যারা ছেলে হারিয়েছে যুদ্ধে, মেয়ে হারিয়েছে, স্বজন হারিয়েছে, কেউই কিন্তু বলেননি বাড়ি দেন, গাড়ি দেন। ওই সময় অামরা যুদ্ধের পর চীফ জাস্টিজ করার জন্য কামরুদ্দীন সাহেবকে মনোনীত করার চিন্তা করলাম। পার্টি থেকে অামাকে দায়িত্ব দেওয়া হল। অামি তাকে অফার করলাম। কে না চায় এমন পদে যেতে। স্বাধীন দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। অথচ তিনি বললেন, দেখ যুদ্ধে অামার ছেলে মারা গেছে। অামি যদি এখন এই পদে জয়েন করি, মানুষ মনে করবে ছেলেকে হারিয়ে এই পদে এসেছি। এতে ছেলের অাত্মা কষ্ট পাবে। কিন্তু এখন তো উল্টো। ''এখন তো সেই মোহাম্মদপুরে নির্বাচন হয়, কত খরচ হয় নির্বাচনে বলতে পার'' অামি যখন বিদেশ থেকে এলাম। ৭৩ এর নির্বাচনের অাগে দেশে এসে শুনলাম বঙ্গবন্ধু অামাকে ডেকেছেন। অামি গেলে তিনি অামাকে বললেন, কই ছিলে এতদিন। অামি তো খুঁজছি তোমাকে। বললাম, অামি তো অাইনের কাজে বিদেশ ছিলাম। অামার কাজ তো শেষ। কিন্তু তিনি বললেন, অামার কি অধিকার নেই তোমাকে মনোনয়ন দেওয়ার। অামি বললাম, অাছে। বঙ্গবন্ধু বললেন, তোমার পেপারে অামি সই দিয়ে জমা দিয়ে দিয়েছি। অামি বললাম, অামার তো নির্বাচন করার টাকা নেই। তিনি অামাকে ২০ হাজার টাকা দিলেন। সেই টাকা থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ করে ৭ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছিলাম। এখন তো সেই মোহাম্মদপুরে নির্বাচন হয়, কত খরচ হয় নির্বাচনে বলতে পার? বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু ২০০৮ সালে নির্বাচনের অাগে বিশেষত অাপনি বিভিন্ন সমাবেশে শেখ হাসিনাকে ভোট দিতে বলেছিলেন? ড. কামাল হোসেন: এটিই অামার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। যে দিনবদলের সনদ দিয়েছিল অাওয়ামী লীগ, সেটি কিন্তু অনেক ভাল ছিল। অামি নিজেও মঞ্চে উঠে বলেছি উনাকে ভোট দিয়েন। কিন্তু উনি কথা রাখেননি। গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের অাগে বলেছিলেন নিয়মরক্ষার নির্বাচন শেষে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেবেন। প্রশ্ন রাখতে চাই কবে দিবেন। বাংলা ট্রিবিউন: কেন অাওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্য করেছিলেন? ড. কামাল হোসেন: ঐক্য করা হয়েছিল বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের নানামুখী সমস্যা, শাসনতান্ত্রিক জটিলতার কারণে। ওই সময় পরবর্তী নির্বাচন প্রভাবিত করতে তারা পুরো এক বছর ধরে কাজ করেছে। ইসিকে নিজেদের মতো সাজিয়েছে। প্রধান বিচারপতি করেছিল অাজ্ঞাবহ বিচারপতিকে। এগুলোর বিরুদ্ধে তো অামি কথা বলেছি। অাইনগত লড়াইও করেছি। তৎকালীন সরকারের জঙ্গিসম্পৃক্ততা, মানুষের নাভিশ্বাসের কারণে অামরা ১১ দল জোট করেছিলাম। ২০০৪ সাল থেকে সে প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০০৫ সালে ঐক্য হয়। গঠিত হয় ১৪ দলীয় জোট। ওই সময় কিন্তু অাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অাবদুল জলিল অামাদের গণফোরামের ইডেন ভবনের কার্যালয়ে এসেছিলেন। বলেছিলেন, অান্দোলন করার কথা। জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা চান অান্দোলন এবং পরবর্তীতে সরকার গঠন করতে। অামি বলেছিলাম অান্দোলন হোক ‌‌‌‌এতেই চলবে। এরপর মানুষের কাছে ভোট চেয়েছি। ওই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে র‌‌াখার অান্দোলন ছিল। এরপর তো শেখ হাসিনা নির্বাচিত হলেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪। কিন্তু কি হল, তিনি এতো পরিবর্তিত হলেন? বাংলা ট্রিবিউন: একটি নতুন রাজনৈতিক জোটের কথা শোনা যাচ্ছে! ড.কামাল হোসেন: কাজ চলছে ধাপে ধাপে। অামরা জনগণের কাছে একটি লিফলেট ছেড়েছি। অামরা কথা বলছি অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোর সঙ্গে। দেশের গণতন্ত্রের পক্ষের ব্যক্তিদের সঙ্গে। জনগণ চাইলে একটি রাজনৈতিক বিকল্প শক্তি গড়ে ওঠবে। অামাদের জোট ইলেকশন সামনে রেখে হবে না। এটি গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জোট। যতোবার অামি কাজ করার চেষ্টা করেছি, [কিছু] মানুষ ঠিক করা থাকে অামার কাজকে বিতর্কিত করার জন্য। কখনো এমনও হয়েছে অামি কোনও ভিন্ন প্রক্রিয়া করেছি। ভিন্ন পথে চলেছি। ২০০৮ সালেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অাওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম। এবার গণতন্ত্র হুমকির মুখে। এবারও জনগণের সঙ্গেই থাকব। তৃতীয় শক্তি নয় বরং জনগণের শক্তি। এবার ব্যতিক্রম হবে না। জনগণ যা চাইবে সেটিই করব। বাংলা ট্রিবিউন: বলা হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপ এড়াতে সরকার পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী নীতি গ্রহণ করেছে? ড. কামাল হোসেন: এটি ঠিক কতোটা বাস্তব, সেটি জানি না। তবে সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন দেবে না। দেওয়াতে হবে। তবে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট পলিসি নেই সেটি পরিষ্কার। কোনও পরিকল্পনা সামনে রেখে কাজ করার নীতি তাদের মধ্যে কাজ করে না।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।