রাত ০৯:৪০ ; বৃহস্পতিবার ;  ২০ জুন, ২০১৯  

ম্যান বুকার প্রাইজ-২০১৪ এর বিচারক যারা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

  সম্প্রতি ম্যান বুকার প্রাইজ-২০১৪ এর সম্মানিত বিচারকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দার্শনিক এ সি গ্রেলিং এই বিচারক প্যানেলের চেয়ারম্যান।  তবে এবার ম্যান বুকার নির্বাচনে বেশ কিছু নতুন নিয়মকানুন যুক্ত হয়েছে। যেমন: যে কোনো জাতীয়তার লেখক এতে আবেদন করতে পারবে। তবে উপন্যাসের মূল লেখা হতে হবে ইংরেজিতে। যা ইংল্যান্ডের প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হতে হবে ১ অক্টোবর ২০১৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ এর মধ্যে। ম্যান বুকারের দীর্ঘ তালিকা ২৩ জুলাই ২০১৪ বুধবার ঘোষণা করা হবে। আর শর্টলিস্ট ঘোষণা হবে ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এবং ১৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। তাই এখন চলছে দিন গণনার পালা। সম্মানজনক এই পুরস্কার ১৯৬৯ সাল থেকে প্রদান করা হচ্ছে। অনুবাদ: জাহিদ সোহাগ এ সি গ্রেলিং এ সি গ্রেলিং দার্শনিক ও লেখক। তিনি অক্সফোর্ডের নিউ কলেজে মানবিক বিদ্যার প্রধান এবং সেন্ট এনেস কলেজের অতিরিক্ত গবেষক। এর আগে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্কবেক কলেজে দর্শনের অধ্যাপক ছিলেন। দর্শন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি ৩০টিরও বেশি বই লিখেছেন ও সম্পাদনা করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য গড আরগুমেন্ট’ ও ‘দ্য গুড বুক’। তিনি নিউ ইয়র্কের বার্নেস এবং নোবেল রিভিয়্যুতে ‘থিঙ্কইং রিড’ নামে কলাম লেখেন। গ্রেলিং লন্ডন অনলাইন রিভিয়্যুর সম্পাদক এবং প্রসপেক্ট ম্যাগাজিনের কন্ট্রিবিউটিং (প্রদায়ক) এডিটর। এছাড়াও তিনি কিছু প্রকাশনী ও বিবিসির স্বাধীন কন্ট্রিবিউটর। তিনি রয়েল সোসাইটির সাহিত্য ও আর্টসের গবেষক। ড. অ্যালেস্টার নিভেন ড. অ্যালেস্টার নিভেন অক্সফোর্ডে হ্যারিস ম্যানচেস্টার কলেজের গবেষক। তিনি ছয় বছরের জন্য লন্ডনে আফ্রিকা সেন্টারের ডিরেক্টর জেনারেল ছিলেন। তিনি গ্রেট ব্রিটেনের আর্টস কাউন্সিলের ডিরেক্টর অফ লিটারেচার। পরবর্তীকালে ১৯৯৭ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তিনি আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ড এবং ১৯৯৭ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ব্রিটিশ কাউন্সিলে ডিরেক্টর অফ লিটারেচারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ইংলিশ পিইএন-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বোর্ড অফ দ্য এনুয়াল রেজিন্টার ও বর্ডার ক্রসিংয়ের চেয়ারম্যান। এই প্রতিষ্ঠান সীমান্ত অঞ্চলে আর্টস প্রমোট করে। তিনি উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন। এর মধ্যে ডি এইচ লরেন্সের দুটো বই সম্পর্কেও লেখা আছে। তিনি ২০০১ সালে ওবিই পদকে ভূষিত এবং একই বছরে রানী ভিক্টোরিয়া তার রয়েল ভিক্টোরিয়ান অর্ডার ক্ষমতাবলে নিভেনকে লেফটেন্যান্ট পদে নিযুক্ত করেন। এরিসা ওয়াগনার লেখক ও সাংবাদিক এরিসা ওয়াগনারের জন্ম নিউইয়র্কে। এখন বসবাস করছেন লন্ডনে। তার কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ছোটগল্পের সংকলন ‘গ্র্যাভিটি’, টেড হিউজের জন্মদিনের চিঠি নিয়ে রচিত ‘এরিয়েলস গিফট’ এবং ‘সেইজার’ নামে একটি উপন্যাস। ২০১৪ সালে তিনি এক্লেস ব্রিটিশ লাইব্রেরির আবাসিক লেখক নির্বাচিত হন। ওয়াগনার ‘এ চিফ ইঞ্জিনিয়ার, এ বায়োগ্রাফি অফ ওয়াসিংটন রোয়েবলিং, দ্য ম্যান হু বিল্ট দ্য ব্রকলিন ব্রিজ’ নামে একটি বই-এর উপর কাজ করছেন। এটি একযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ব্লুমসবারি প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হবে। ওয়াগনার বেশ কয়েক বছর দ্য টাইমসের সাহিত্য সম্পাদক ছাড়াও ইকোনোমিস্ট, ফিন্যানশিয়াল টাইমস ও নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন পত্রিকায় লিখে আসছেন। তিনি অরেঞ্জ প্রাইজের বিচারক ছিলেন। পেয়েছেন হোয়াইটব্রেড ফার্স্ট নভেল অ্যাওয়ার্ড, দ্য ফরওয়ার্ড প্রাইজ এবং প্যারিস লিটারারি পেইজ। জোনাথন বেটে জোনাথন বেটে ওরসেস্টার কলেজের প্রভোস্ট ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘জিনিয়াস অফ শেক্সপিয়ার’ ও ‘জন ক্লারে: এ বায়োগ্রাফি’। দুটি গ্রন্থের জন্য যথাক্রমে হথর্নডেন পুরস্কার ও জেমস্ টাইট ব্ল্যাক পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০১২ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শেক্সপিয়ার স্টাগিং দ্য ওয়ার্ল্ড শীর্ষক একজিবিশনে’ তিনি পরামর্শক কিউরেটর ছিলেন। শেক্সপিয়ারের জীবনী অবলম্বনে তার একক নাটক মঞ্চস্থ হয়। নাটকটিতে শেক্সপিয়র চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও সঙ্গীতজ্ঞ শিমন কেলো। নাটকি স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ ওয়েস্ট এনড, নিউইয়র্ক, শিকাগো ও ইটালির ত্রিয়েস্তাসহ পুরো ইংল্যান্ডে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। জোনাথন বেটে ‘দ্য কিউর ফর লাভ’ নামে একটি উপন্যাসও লিখেছেন। তিনি অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ অ্যাম্পায়ার সম্মানে ভূষিত এবং বর্তমানে ব্রিটিশ একাডেমির ভাইস প্রেসিডেন্ট। সারাহ্ চার্চিল সারাহ্ চার্চিল আমেরিকান সাহিত্যের অধ্যাপক এবং ইউইএর মানবিক বিদ্যার কর্ণধার। তিনি কেয়ারলেস পিপল: মার্ডার, মেইহেম এন্ড দ্য ইনভেনশন অফ দ্য গ্রেট গেস্টবাই; দ্য মেনি লিভস অফ মেরিলিন মনোরা গ্রন্থের রচয়িতা। এছাড়া মাস্ট রিড: রিডিসকভারিং দ্য বেস্টসেলার গ্রন্থের কো-এডিটর। তিনি গার্ডিয়ান, নিউ স্ট্যাটসম্যান, ফিনান্সিয়াল টাইমস, টিএলএস এবং সানডে টাইমসে লেখালেখি করেন। পাশাপাশি নিয়মিত রেডিও-টিভিতে রাজনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে মতামত দেন। তিনি বেশ কিছু পুরস্কারেরও বিচারক। এর মধ্যে রয়েছে: গল্পের জন্য ওমেনস (অরেঞ্জ) প্রাইজ এবং সাহিত্যে ডেভিড কোহেন প্রাইজ। ড. ড্যনিয়েল গ্লাসার ড. ড্যনিয়েল গ্লাসার স্নায়ুবিজ্ঞানী। বহু বছর তিনি গণসম্পৃক্ত বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেছেন। ম্যান বুকারের বিচারক হিসেবে তিনিই একমাত্র পিওর সাইন্টিস্ট। তিনি লন্ডনের কিংস কলেজের বিজ্ঞান গ্যালারির পরিচালক। তার যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শিল্প ও বিজ্ঞানের মতো পরস্পরবিরোধী বিষয়টি এক কাতারে এলো। এর আগে গ্লাসার ওয়েলকাম ট্রাস্টে সৌখিন বিজ্ঞানের প্রধান এবং সরকারি চুক্তি ও আর্টস প্রজেক্টের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০২ সালে তিনি লন্ডনস ইনিস্টিটিউট অফ কনটেমপোরারি আর্টস (আইএ) এর আবাসিক বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি ন্যাশনাল এনডৌমেন্ট ফর সাইন্স, টেকনোলোজি অ্যন্ড আর্টস (এনইএসটিএ) থেকে কালচারাল লিডারশিপ এওয়ার্ড গ্রহণ করেন। তিনি বিবিসি টেলিভিশন ও রেডিওতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা ও কথকের দায়িত্ব পালন করেন।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।